• মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ক্যাম্পাস

হাবিপ্রবিতে গবেষণাগার ও স্বারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন শিক্ষামন্ত্রী

  • প্রকাশিত ১৪ মার্চ ২০২২

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

চার কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল রবিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ল্যাবটির উদ্বোধন করেন তিনি। এটি রংপুর বিভাগের প্রথম জিনোম সিকোয়েন্স ল্যাব। এর মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী কিংবা উদ্ভিদের যে কোনও ধরনের রোগের কারণ ও জীবন রহস্য উন্মোচন করা যাবে। 

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে রাত ৮ টায় মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শেখ রাসেল হল সংলগ্ন মাঠে "জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু" শীর্ষক স্বারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং পক্ষকালব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এসময় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মশিউর রহমান, হাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর-ই-নাজমুন নাহার ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ সাইফুদ্দিন দুরুদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দীপু মনি বলেন, " হাবিপ্রবির এই ল্যাবের মাধ্যমে গবেষণার দিক দিয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেলো বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু সার্টিফিকেট নিলেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জন হবে না, সফট স্কিল এর উপর জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, দক্ষতা অর্জনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরী শিক্ষা ও গবেষণার উপরে জোর দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমরা চাই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করুক, সাংস্কৃতিক চর্চা করুক। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মাস্টারপ্ল্যানের আগে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান জরুরী। আজকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় আছে এবং আগামী ১০ বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চাই, সেখানে যেতে হলে কোন পথে যেতে হবে সেটি ভাবতে হবে। ১০ বছর আগে একটি বিভাগ খুলেছি সেটির এখন প্রয়োজন আছে কিনা ভাবতে হবে। কর্মক্ষেত্র ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে চলতে হবে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করালে বিভিন্ন সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে। তবে সকল সমস্যা সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, " হাবিপ্রবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে আসে এটা আমাদের জন্য গর্বের। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। শিক্ষাখাতকে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি "।

এসময় অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পূর্বে শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ শামসুল হকের লেখা " আমার পরিচয় " কবিতাটি আবৃতি করেন।

উল্লেখ্য যে, রাত ১০ টা থেকে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দের বিভিন্ন পরিবেশনা সকলের নজর কাড়ে!

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads