• শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শিশু

সন্তানের প্রথম স্কুল

  • প্রকাশিত ০৮ জানুয়ারি ২০২২

নতুন বছর মানেই নব স্বপ্ন, ভাবনা ও উল্লাসের পরিকল্পনা। ঘরের ছোট সন্তানটি যখন ধীরে ধীরে ৫ বা ৬ বছরে পদার্পণ করে তখনই অভিভাবকদের নতুন স্বপ্ন উঁকি দেয়। নেমে পড়েন সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর মিশনে। স্কুলে ভর্তির করানোর ধুম পড়ে গেছে চারদিকে। ৪ বছরের আগে সন্তানকে স্কুলে দিতে চাইলে অবশ্যই প্রি-স্কুলে ভর্তি করানোর চেষ্টা করুন। যেখানে বাচ্চাদের পড়ালেখার বাইরে মেধা ও শরীরের বিকাশে বিভিন্ন অ্যাকটিভিটি করানো হয়ে থাকে।

 

উৎসাহে প্রস্তুত করুন

বাচ্চাদের প্রস্তুত করার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং। পরিবারের সদস্যরা গল্পের ছলে বলুন—তুমি বড় হয়েছ, এবার স্কুলে যাবে, নতুন অনেক বন্ধু হবে। বিভিন্ন উপায়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করুন। দুষ্টুমি করছ কেন, স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলে বুঝবে মজা কিংবা শিক্ষকরা বকা দিবে—এমন সব কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার সন্তান ভীত হয়ে উঠতে পারে।

 

স্কুল নির্বাচনে লক্ষণীয়

স্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও দূরত্বের বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সন্তানের প্রথম স্কুল বাসাবাড়ির কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন। স্কুল সম্পর্কে আগেভাগেই জেনে নিন। স্কুলের নিরাপত্তা ও শিক্ষক সম্পর্কে জানুন। সন্তানকে স্কুলে ভর্তির আগে শ্রেণি শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করুন ও কথা বলুন।

 

অভিভাবক হিসেবে করণীয়

আপনার সন্তানের বিশেষ রোগ, খাবার কিংবা যেকোন অসুবিধা থাকলে শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন। কারণ শিশুরা অনেক সময় বন্ধুর বক্স থেকে নিষিদ্ধ খাবার খেতে পারে কিংবা খেলারছলে ঘটে যেতে পারে বিরাট কোনো সমস্যা।

শুরুতে সন্তানের সঙ্গে কিছুদিন স্কুলে যাওয়া-আসা ও বিদ্যাপীঠে অবস্থান করুন। কান্না করলে বকাবকি না করে উৎসাহে বুঝিয়ে ক্লাসে দিন। প্রয়োজনে ক্লাসের বাইরে থেকে মাঝেমাঝে দেখা করুন। চেষ্টা করুন বন্ধু তৈরিতে সাহায্য করতে। এতে সে স্কুলের প্রতি আগ্রহী হবে।

উৎসাহিত করতে রঙিন, কার্টুন, বিভিন্ন প্রাণীর ছবি সম্মিলিত স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, পানির বোতলের ব্যবস্থা করে দিন।

সন্তান প্রথম স্কুলে যাবার আগেই বাসার পরিবেশ সেভাবে গুছিয়ে নিন। লেখাপড়ার পূর্বপ্রস্তুতি খানিকটা বুঝিয়ে দিন। বই-খাতা, পেন্সিল-কলম এগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন।

সন্তানের লেখাপড়া, স্কুলে যাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা, খেলাধুলা—এ বিষয়গুলো শিশু ঠিকমতো করছে কি-না সেসব দেখভালের জন্য একটা রুটিন থাকা উচিত। এ রুটিন অভিভাবক হিসেবে আপনারা মেনটেইন করুন। সবকিছু ঠিকঠাক মতো হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।

প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা, সকালে নাশতা, ব্যাগ গুছানো, টিফিন বক্সসহ পড়ালেখার সামগ্রী সবকিছু গুছানো সন্তানকে শিখিয়ে দিন। যাতে পরবর্তী দিন সে নিজেই এগুলো করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি স্কুলে যাওয়ার আগে স্কুল ড্রেস পরা, জুতার ফিতা বাঁধা শিখিয়ে দিন।

প্রথম দিন স্কুলে শিশু কিছুটা অস্বস্তিতে থাকতে পারে। তাকে সাহস জোগাবেন। নতুন ক্লাসের অন্য সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এতে সে অনেকটা সাহস পাবে। স্কুলে তার সুবিধা-অসুবিধাগুলো খেয়াল রাখতে হবে। তার বাথরুম ব্যবহার, টিফিনের সময় টিফিন খাওয়া, সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, শিক্ষকদের সঙ্গে আদব-কায়দার বিষয়েও শিশুকে আগে থেকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।

 

টিফিন হবে যেমন

শিশুর জন্য স্কুলে অবশ্যই বাড়িতে তৈরি করা খাবার দিতে হবে। শিশুরা স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক ছোটাছুটিও করে। এতে তাদের ক্যালরি খরচ হয়। তাই ভিটামিন ও পানি শিশুর জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন। যেহেতু শিশু দিনের অনেকটা সময় বাইরে থাকে, তাই শিশুকে পরিষ্কার পাত্রে ফুটানো পানি দিতে হবে। শিশুর টিফিন অবশ্যই তার পছন্দমতো হবে। রুটি-ভাজি, পাউরুটি, হালুয়া ইত্যাদি। শিশুকে মৌসুমি ফল থেকে ঘরে তৈরি জুস দেওয়া যেতে পারে।

শাকসবজির প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়ানোর জন্য সবজি-স্যান্ডউইচ, রোল, পাকোড়া ইত্যাদি বানিয়ে দিতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন খাবারে তেলের মাত্রা কম থাকে। শিশুর খাবারে বৈচিত্র্য আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিফিন একঘেয়ে হয়ে গেলে শিশুর যেমন আকর্ষণ কমে যায়, তেমনি তার বাইরের খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়ে। তাই একই খাবার রোজ রোজ না দিয়ে কয়েকটি পদ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টিফিনে দিলে শিশু আগ্রহ নিয়ে তা খায় এবং শরীরে কাজে লাগে।

 

জরুরি প্রয়োজনে

কিছু তথ্য সন্তানকে আগেভাগেই শিখিয়ে দেওয়া উচিত। সন্তানকে তার নাম, মা-বাবার নাম, বাড়ির নম্বর, ফোন নম্বর মুখস্থ করিয়ে দিন। যদি মুখস্থ করা না হয়, তবে তার নোটবুকে এ তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করে দিতে পারেন; যা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজে লাগাতে পারবে।

 

 

কাজী নওশীন লায়লা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads