• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

পণ্যবাজার

নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস নিম্নআয়ের মানুষের

  • রেজাউল করিম হীরা
  • প্রকাশিত ১৭ জুলাই ২০২১

করোনায় কাজ হারানো মানুষ মাঝারি বা চিকন চাল ছেড়ে মোটা চালের দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে বেড়েছে মোটা চালের দাম। প্রতিকেজি মোটা চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। চালের সাথে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজিও। মাছের দামও নাগালের বাইরে। এ অবস্থায় নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

দেশে এবার বোরো মৌসুমে চালের উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। সরকারি গুদামে মজুতও আছে বেশ। এরপরও চালের বাজার চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন মোটা চালের দাম বেশি। কারণ, চিকন বা মাঝারি ধরনের চালের উৎপাদন বাড়লেও মোটা চালের উৎপাদন সেই তুলনায় বাড়েনি। কিন্তু মোটা চালের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মাঝারি ও চিকন চালের চেয়ে মোটা চালের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বেশি। শুধু মোটা চাল নয়, মাঝারি ও সরু চালের দামও কমেনি। খুচরা বাজারে মাঝারি বিআর-২৮ ও সমজাতীয় চাল মানভেদে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশের মতো বেশি। আর  সরু মিনিকেট চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা ও নাজিরশাইল চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে, গত এক বছরে গরিবের মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশের মতো। সেখানে একই সময়ে চিকন ও মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী হারিছ মিয়া জানান, বেশ কিছু দিন আগেও মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই চাল এখন ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এর চেয়ে কম দামেও মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে। সেগুলো খুবই নিম্নমানের।

চালের মতো সবজির বাজারও চড়া। সব ধরনের সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকার ওপরে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টিতে প্রচুর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। করোনার কারণে বাজারে সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়তি।

নবাবগঞ্জ বাজারের আবুল কালাম বলেন, প্রতি বছর এসময়ে দাম একটু চড়া থাকে। কারন এই সময়টা সবজির সিজন না। এ ছাড়া বন্যায়ও ফসলের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারে সবজির ঘাটতি থাকায় দাম বেশি। তাই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

কাঁঠালবাগান বাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা পাইকারি দোকান থেকেই চড়া দামে সবজি কিনে আনছি। যার কারণে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে কী কারণে দাম কমছে না তা বলতে পারি না।

লালবাগের কিল্লার মোড় বাজারে কথা হয় লেগুনা চালক আছগর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ। টেনেটুনে, ধারকর্জ করে অনেক দিন সংসার চালিয়ে আসছি। বাজারে এসে চাল তরকারির দাম শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। এভাবে কি বেঁচে থাকা সম্ভব। আমার মতো অল্প আয়ের মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে।

তিনি বলেন, ৫০ টাকার নিচে চাল নেই। ভালো কোনো সবজিও পাওয়া যায় না ৫০ টাকায়। মাছের কথা তো ভাবাই যায় না। মনে হয়, এখন ৫০ টাকার কোনো দামই নেই।

নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল জানান, হাতে গোনা ২/৩টি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। আর চালের দাম তো মনে হয় সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ে। ৫৫ টাকার চাল এখন ৬০ টাকা কেজি।

তিনি আরো বলেন, সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের আয় কমেছে। লকডাউনের কারণে লম্বা সময় দোকানপাট বন্ধ ছিল। অনেক ধার দেনা করে চলতে হয়েছে, এখনো চলছি। দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতি থাকলে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষদের না খেয়ে থাকতে হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হয় গাজর। প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। পাকা টমেটোর কেজিও একশ টাকার ওপরে। প্রতি কেজি টমেটো ১২০ টাকা। বেগুন, ঝিঙে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গার দামও বেশ চড়া।  বেগুন, ঝিঙে এবং করলার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটির কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়স এবং পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

আদা বাড়তি দামেই বিক্রি হয়। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু এবং ডিমের। আলুর কেজি বিক্রি হয় ২৫ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হয় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই মাছ ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাংসের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। লেয়ার মুরগি ২৩০-২৪০ টাকা আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হয় ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয় ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads