• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯
বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়ছে কুমিল্লার সবজি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

পণ্যবাজার

বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়ছে কুমিল্লার সবজি

  • খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৬ অক্টোবর ২০২১

কুমিল্লা সবজি দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে। দেশের বৃহৎ সবজি আড়ৎ কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে প্রতিদিনিই রপ্তানি হচ্ছে এ সবজি। প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে গঠিত ২০ সমিতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য এ সবজি। এ কাজে স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতা করছেন কৃষি সম্প্রপ্রসারন অফিস।

কুমিল্লার কচুর লতি, লাউ, কুমড়া শসা, বরবটি, করল্লা, ধুন্দল, পুই শাক, ডাটা, লালশাক বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত এসব সবজি রপ্তানিতে চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। এখন প্রতি মাসে গড়ে সাত টন সবজি রপ্তানি হলেও শীতকালীন সময়ে মাসে গড়ে রপ্তানি হয় ১০ টনেরও বেশি। কুমিল্লার নিমসার কাঁচাবাজারে অবস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র থেকে এসব তথ্য জানান।

কৃষিপন্য সংগ্রহ ও বাজারজাত করণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সজিব মোল্লা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে কচুর লতি লন্ডন ও ইটালিতে রপ্তানি হয়েছে চার হাজার ৬২০ কেজি। ইটালিতে লাউ রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ১৫ কেজি। ২২০ কেজি শসা রপ্তানি হয়েছে লন্ডনে। মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি হয়েছে ২২০ কেজি ইতালিতে। ৮৪ জন প্রান্তিক কৃষক থেকে এ সবজি কেনা হয়েছে বলে জানান। প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে ২০টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এ সমিতিতে রয়েছেন ৪০০ প্রান্তিক কৃষক। তারাই এ সবজি উৎপাদন ও সরবাহ করে। ফলে তারা ন্যায্যমূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় ২১ হাজার ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। বছরে দুই মৌসুমে মোট ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত  হয়।  জেলার  মানুষের চাহিদা বছরে দেড় লাখ মেট্রিক টন। বাকি সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী লক্ষীপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। তারপাশাপাশি এখান থেকে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার বরুড়া, বুড়িচংয়ের নিমসার ও চান্দিনার বরকট ইউনিয়নের পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষকের বাজার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে রপ্তানি করার জন্য আনা সবজি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রপ্তানির উপযোগী করছেন কৃষকরা। 

সবজি নিয়ে আসা কোরপাইয়ে এলাকার কৃষক শহিদুল, বরকইট ইউনিয়নের পিহর গ্রামের কৃষক সাইফুলসহ অনেকে জানান, আগে সবজি হাটে নিয়ে বিপাকে পড়তে হতো। বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে যেত। তখন  অনেক সময় লোকসানে সবজি বিক্রি করতে হতো। এখন কৃষকের বাজার হওয়ায় সবজি বিক্রিতে আর কোনো সমস্যা হয় না। আর এখানে দিতে হয় না কোন খাজনা। আমরাও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি।

চান্দিনার পূর্ব রামচন্দ্রপুর কৃষকের বাজার সমিতির সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল জানান, ৬০ জন প্রান্তিক কৃষক নিয়ে এ সমিতি গঠন করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত উৎকৃষ্ট সবজি এখানে আনার পর শ্রেণী বিভাজনের পর বুড়িচং এর নিমসার কাঁচা বাজারে অবস্থিত হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের মূল কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রপ্তানিকারকরা তাদের পরবত্তী প্রক্রিয়া করেন।

হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুরুল হান্নান বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা। তাদের পণ্য বিক্রিতে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি। উৎপাদিত পণ্য সুষ্ঠ বাজারজাত ও  কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ । দেশের ফসল রপ্তানি উন্নয়ন উন্নীত করা। কৃষক ও দেশের উন্নয়নে কাজ হর্টেক্স ফাউন্ডেশন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদেশে সবজি রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছে। কুমিল্লা নিমসার বাজারে একটি কৃষি সংগ্রহশালা করে কৃষকদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সবজি সংগ্রহ করে উপযোগি করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে সবজি। এ সবজি সংগ্রহশালায় কৃষক ও রপ্তানিকারকদের বাজার ইজারাদারদের দিতে হয়না কোন খাজনা। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। আমরা সেখানে সবজি সংগ্রহের জন্য একটি হিমাগার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। কৃষকদের উন্নত মানের ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আমরা উদ্বৃত্ত করছি। এ বিষয়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষন। কৃষকরা উচ্চ মূল্য পাচ্ছে ও রপ্তানী প্রক্রিয়াসহজী করনের ফলে দিন দিন সবজি রপ্তানী বাড়ছে।গত বছর এ মৌসুনে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮০ কেজি কচুর লতি রপ্তানি হলেও এ বছর প্রতিদিন গড়ে ৫০০কেজি কচুর লতি রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য সবজি রপ্তানি বেড়েছে অনেকগুন। সবজি রপ্তানিতে কৃষক ও সরকারের আয়ের সাথে সাথে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের কৃষি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads