• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে চালের দাম

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে চালের দাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ জানুয়ারি ২০২২

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। এজন্য দায়ী চালকল মালিক (মিলার) ও আড়তদাররা। এমন অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বলছেন, এখন আমনের ভরা মৌসুম। তাই চালের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। তারপরও দাম বাড়ায় বাজার তদারকি জোরদার করার প্রস্তাব দেন তারা। এদিকে, অসাধু ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে ও বাজারে চালের দাম সহনীয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারি বাণিজ্য সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির হার চিকন চালের ক্ষেত্রে বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাড়ানো হয়েছে ওএমএসের আওতা। অবৈধ ধান ও চালের মজুত খুঁজে বের করতে খাদ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠনেরও চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সঙ্গে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, আমরা মিটিং করেছি, সেখানে বলা হয়েছে, মিলাররা চাল ধীরে ধীরে ছাড়ছে। মিলাররা ধান মজুত করছে। কিন্তু আমরা অভিযান চালিয়ে মজুত পাচ্ছি না। আমরা তথ্য পেয়েছি, মিলাররা ধানটা কিনে কৃষকের কাছেই রাখছে। ফড়িয়ারা ধান মজুত করছে। সে কৃষক হিসেবেই মজুত করছে। কৃষকের ঘরে তো মোবাইল কোর্ট করা যায় না। তিনি জানান, এবার আমন ধান উৎপাদন অনেক হয়েছে। পর্যাপ্ত ধান আছে। কিন্তু সেই ধান বাজারে আসছে ধীরে ধীরে। এজন্য দাম বেড়েছে। 

সরকারিভাবে চাল আমদানি চলমান জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা বেসরকারিভাবে আমদানিতে যাবো কি না, সেটা হলো বিষয়। আমাদের উদ্বৃত্ত উৎপাদন, ভোক্তাদের একটু স্বস্তি দিতে হয়, এছাড়া নিরাপত্তা মজুতের বিষয়টি রয়েছে। সেজন্য আমরা বেসরকারিভাবে আমদানিতে যাই। আমরা শুল্ক কমিয়েও চাল আনতে পারি। আমরা দেখছি, বাজারটা কোন দিকে যায়। মোটা চাল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই দাবি করে সচিব বলেন, আমরা ওএমএস বাড়িয়ে দিয়েছি। ঢাকায় ১০টি ট্রাক বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে উপজেলায় নিয়ে যাবো। আমরা ওএমএসের বাজেটের দ্বিগুণ ব্যবহার করে ফেলেছি।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম বলেন, আমরা দেখে আসছি, যখনই চালের মৌসুম আসছে, দাম কমে গেছে। নতুন ধান যখন আসবে এর এক বা দুই মাস আগে চালের দাম বাড়ে, এর আগে বাড়ে না। কিন্তু এখন ব্যতিক্রম হলো ধান আসার দুই মাস আগে চালের দাম কম ছিল অথচ এখন ধান উঠেছে, কৃষক, ফড়িয়া ও মিলারদের ঘরে ধান, সেই সময় চালের দাম ৪-৫ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজিতে। একটা অস্বাভাবিক বিষয়।

চালের দাম বেশি কিন্তু কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, অসাধু মিলাররা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ধান-চাল মজুত করছে, তারাই চালের দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী।

তিনি বলেন, গত মৌসুমের চাল এখনও আছে। খাদ্যের অভাব নেই। এখন মিলাররা প্রতিদিন ১০০-২০০ বস্তা করে ধান কিনছে। মিলাররা আগের চালই ধীরে ধীরে ছাড়ছে। যেন বাজারে কম আসে, এতে চাহিদা অনুযায়ী জোগানে ঘাটতি দেখা দেয়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়, স্বাভাবিকভাবেই এ পরিস্থিতিতে চালের দাম বেড়ে যায়।

টিসিবির সহকারী কার্যনির্বাহী (বাজার তথ্য) মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, কয়েকদিন আগে একটি মিটিংয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের লোকজন ছিলেন। তারা বলেছেন, আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। বৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই সামান্য। ফসলের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা বাজার থেকে তথ্য পেয়েছি, মিলার ও আড়তদাররা চাল বাজারে কম করে ছাড়ছে। রাজধানীর পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা এ তথ্য পেয়েছি। ধরেন এখন দুই ট্রাক চাল লাগবে কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর, কিন্তু তিনি মিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছেন এক ট্রাক। সম্প্রতি চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকন চালের দাম একটু বেশি বেড়েছে।

দাম বেড়ে গত দু-তিনদিন ধরে স্থিতিশীল আছে জানিয়ে টিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, বাজারে চালের প্রকারের শেষ নেই। মিনিকেটই আছে চার রকমের। নাজিরশাইলের রয়েছে অনেকগুলো ধরন। ৫০ রকম চাল থাকলে এর ৫০ রকম দাম।

নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, এখন চাষাবাদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি এসেছে। সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলন বেশি হয়। অটো রাইস মিলগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে শত শত মণ ধান ছাঁটাই করছে। খরচ কমে গেছে। সেখানে তো চালের দাম কমার কথা, কিন্তু চালের দাম বেড়েই যাচ্ছে।

বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়ত মালিক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক কাওসার আলম খান বাবলু বলেন, একটা সপ্তাহ অপেক্ষা করেন, আশা করছি বাজারদর কমে যাবে। চাল কম আসায় দাম বেড়েছে। গত কিছুদিন আগে বেশ বৃষ্টি হয়েছিল। মৌসুমও ছিল শেষ। ধান কাটার পর মানুষ শুকাতে দিয়েছে, ওই সময়ই বৃষ্টি। এখন আবার চাল আসছে। আমন কিন্তু এখনো পুরোপুরি উঠেনি। দক্ষিণাঞ্চলে আমন এখনো মাঠে আছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads