• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দাম বাড়ছে না ভোজ্যতেলের

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

দাম বাড়ছে না ভোজ্যতেলের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ জানুয়ারি ২০২২

সমন্বিত ও অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত  ভোজ্যতেলের বর্তমান মূল্যই বহাল থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগ) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, বর্তমানের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিটি ১০ বছরের পুরনো। এই পদ্ধতিটির সংশোধন ও হালনাগাদ করতেই আজকের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড টেরিফ কমিশনের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি আমরা অ্যানালাইসিস করেছি। এ বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি বর্তমানে তেলের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিটির আরো হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে। কারণ দশ বছর আগের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির সঙ্গে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির বিভিন্ন ফ্যাক্টরগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই সময়ে গ্যাসের মূল্যের পরিবর্তন হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যের পরিবর্তন হয়েছে। ডলারের দামও বেড়েছে। এছাড়া আমদানি সংক্রান্ত অনেক নিয়মকানুন আপডেট হয়েছে। আমরা দেখেছি মূল্য নির্ধারণের পুরনো পদ্ধতিটিকে হালনাগাদ করা হলে সেখানে দামের ক্ষেত্রেও আরো সমন্বয় আনা সম্ভব।

সফিকুজ্জামান বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্বাধীন টিম। এই প্রতিনিধি টিমের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভোজ্যতেল ও চিনির অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঠিক করা হবে। এরপরই ভোজ্যতেলের নতুন মূল্য ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কিছু অত্যাবশ্যকীয় নিত্যপণ্যের মূল্য মূলত সরকার নির্ধারণ করে দেয়। তবে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াতে অনেকগুলো ফ্যাক্টর থাকে। এইগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট হয়। ফলে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই আপডেট ফ্যাক্টরগুলো বিবেচনায় নেওয়া না হলে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনির্ভর এসব পণ্যের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণই আমাদের আজকের বৈঠকের উদ্দেশ্য।

আইসিএমএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশীদ বলেন, পণ্যের দাম নির্ভর করে ডিমান্ড, সাপ্লাই ও কনজিউমারের পারচেসিং ক্যাপাসিটির ওপর। সেখানে রিক্স ফ্যাক্টরগুলোকে সঠিকভাবে পরিমাপ করা না হলে মূল্যের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে ব্যবসায়ীকেও মূল্য নির্ধারণ ঝুঁকিতে থাকতে হয়।

বর্তমানে লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৬০ টাকা। এই তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়াতে প্রস্তাব করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তাই হলে খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি মূল্য দাঁড়াত ১৬৮ টাকা। মিলগেট মূল্য হতো ১৫৮ টাকা, আর পরিবেশক মূল্য দাঁড়াত ১৬২ টাকা। সেই সঙ্গে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ৯ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তা কার্যকর হলে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য হতো ১৪৫ টাকা; যার মিলগেট মূল্য দাঁড়াত ১৪২ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৪৩ টাকা।

পাম অয়েলের খুচরা মূল্য হতো লিটারপ্রতি ১২৯ টাকা। মিলগেটে মূল্য দাঁড়াত ১২৬ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১২৭ টাকা।

বৈঠকে দেশে বড় বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপসহ বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (মূসক গোয়েন্দা ও পরিদর্শন) বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণের আলোচনায় অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর প্রতিনিধিরাও।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে দেশে ভোজ্য তেল বাজারজাতকারী ব্যবসায়ীদের সমিতি ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ কয়েক মাস ধরে তেলের দাম বাড়াতে চাচ্ছে। কোনো কোনো মাসে তিন দফা দর বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে যে দাম, তাতে তাদের লোকসান হচ্ছে। তবে সরকার দাম বাড়ানোর বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু ভাবছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা একতরফা নতুন দাম ঠিক করে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়। তেল ভেদে লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল তারা। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বৈঠক ডাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads