• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
বাতাসে উড়ে গেছে সরকারি ঘরের চাল

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

বাতাসে উড়ে গেছে সরকারি ঘরের চাল

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ এপ্রিল ২০২১

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ এলাকায় নবনির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের চাল বসবাসের শুরুতেই বাতাসে উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে ভবন। ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট-সিমেন্ট দিয়ে ওয়াল নির্মাণ ও নিম্নমানের কাঠসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ইউএনও’র বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে বাতাসে সুবিধাভোগী হালিমা খাতুনের (৩২) ঘরের চাল উড়ে যায় এবং ভেঙে পড়ে বারান্দার তিনটি পিলার।

গতকাল সোমবার দুপুরে গিয়ে জানা যায়, মধ্যরাতের ঝড় হাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নবনির্মিত আধাপাকা ঘর ভেঙে পড়েছে এবং টিনের চালা উড়ে গেছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে ভূমিহীনদের আধাপাকা বাড়ি উপহার দিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারের জন্য দুই শতাংশ জমি ওপর দুই কক্ষের একটি আধাপাকা ঘর, রান্নাঘর ও টয়লেটসহ একটি বাড়ির মালিকানা উপহার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এরই আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১৫০টি পরিবারের আবাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রথম দিকে খাস জমি শনাক্ত করে ভূমি অফিস। পরে ওই খাস জমিতে আধাপাকা বাড়ি তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ এলাকায় ১০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য ১০টি আধা পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। দুই মাস আগে এসব বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সুফলভোগীদের হাতে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। বাড়ির চাবি হস্তান্তরের দুই মাস পার হলেও যোগাযোগের রাস্তা, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সুফলভোগীর অনেকেই বসবাস শুরু করেননি। ফলে ফসলের ক্ষেতের মাঝে এসব বাড়ি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এরই মাঝে গত শুক্রবার মধ্যরাতে সামান্য ঝড়ে ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। উড়ে গেছে বারান্দাসহ ঘরের ছাউনির টিন। বসবাসের শুরুতেই ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মাঝে।

সুফলভোগীরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। টয়লেটে সিরামিকের প্যান বসানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে প্লাস্টিকের প্যান। ব্যবহারের আগেই ফেটে চৌচির টয়লেট। নেই পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। চলাচলের মতো রাস্তাও নেই।

হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় তার ঘরটি অল্প বাতাসেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামত করার কোনো সামর্থ্য নেই বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বসবাস শুরুর আগেই বাতাসে ঘরের চাল উড়ে যাওয়া আর পিলার ভেঙে পড়া দুঃখজনক। তবে কাজের মান নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের কাজ সরাসরি ইউএনও নিয়ন্ত্রণ করছেন।

জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, এস্টিমেট অনুযায়ী সব কাজ করা হয়েছে। যা বরাদ্দ তাই ব্যয় করা হয়েছে। ঝড় হলে তো ঘরে ভেঙে যেতেই পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। একই সাথে পানি, বিদ্যুৎ ও চলাচলের রাস্তা দ্রুত করে দেওয়া হবে বলেও জানান উপজেলা ইউএনও।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads