• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮
আখাউড়ায় জমে উঠেছে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে বিক্রি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় জমে উঠেছে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে বিক্রি

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০২১

ঈদ উপলক্ষে শহরের রাস্তাঘাট-হাটবাজার অনেকটাই যেন ফাঁকা । কিন্তু বিভিন্ন বয়সের বেশ কিছু নারী পুরুষ মূল শহরের সারিবদ্ধভাবে বসে আসেন। এদের মধ্যে দেখা যায় কেউ মাংস মাপ যোগ করছেন কেউ টাকা গুণছেন আবার কেউ বা দরদাম ঠিক করছেন। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায়। তবে বিক্রেতারা কসাই বা ব্যবসায়ী নয়। সবাই অসহায় ও নিম্নবিত্তের লোকজন। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে তাদের সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করছেন।

যাদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই বা বাজার হতে বেশী দামে মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই তারাই এখানে ভিড় জমিয়েছেন। তবে গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত মাংস যারা হাত পেতে নিতে পারেন না, তারাই এই মাংসের ক্রেতা।

তুলনামূলক ওইসব মাংস কমমূল্য হওয়ায় জমে উঠেছে বেচাকেনা। স্বল্প আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন এখান থেকে মাংস ক্রয় করছেন। প্রতি কেজি মাংস সংগ্রহকৃতরা ৪শ থেকে ৫শ টাকা বিক্রি করছেন। তবে সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে ফুটপাতে মাংস কিনতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে আনা গরর মাংস ও হাড় বিক্রি করা হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বস্তিতে বসবাসকারীদের কাছে মাংস জমিয়ে রাখার মত ফ্রিজ নেই। রান্না করে যতটুকু রাখা যায় সেটুকু রেখে বাড়তি মাংস বিক্রি করে দিচ্ছেন।

পৌর শহরের বাগান বাড়ি এলাকার রহিমা বগেম বলেন, পাড়া মহল্লায় ঘুরে ৭ কেজি মাংস সংগ্রহ করা হয়। পরিবারের জন্য ২ কেজি রেখে ৫ কেজি বিক্রি করতে এখানে আসা। এ পযর্ন্ত ৫শ টাকা কেজিতে ২ কেজি মাংস বিক্রি করা হয়। আশা করছি সন্ধ্যার আগে সব বিক্রি হবে। মর্জিনা বেগম বলেন, তার স্বামী অসুস্থ। আয় রোজগার তাদের নেই। তাই অসুস্থ স্বামীকে বাড়িতে রেখে মেয়েকে নিয়ে মাংস সংগ্রহ করতে বের হন। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তারা দুজন প্রায় ১০ কেজি মাংস সংগ্রহ করেন। খাওয়ার জন্য ৩ কেজি মাংস রেখে বাকী মাংস তিনি বিক্রি করেছেন।

আলমগীর বলেন, এক বাড়িতে গরু কাটা ও মাংস বানানোর কাজে সহযোগিতা করে ৮ কেজি তিনি মাংস পেয়েছেন। আখাউড়ায় একা থাকার কারণে তিনি ৫ কেজি মাংস বিক্রি করছেন। ৫শটাকা কেজিতে এপযর্ন্ত তিনি ২ কেজি বিক্রি করেছেন বলে জানায়।

রিকশা চালক মো. আলফু মিয়া বলেন, ঈদের দিন বাড়িতে রোজগারের আশায় নামাজ পড়ে রিকশা নিয়ে তিনি বের হন। বিকাল পর্যন্ত ১১শ টাকা তার রোজগার হয়। এই টাকায় তিনি পরিবারের জন্য ২ কেজি মাংস ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

বিলকিস বেগম বলেন, তিনি একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন। প্রতি বছর শরিকে কোরবানিতে অংশ গ্রহন করতেন। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি কোরবানি দিতে পারেন নি। তিনি বলেন ,ইচ্ছে করলেই মাংসের জন্য কারো বাড়িতে ও যাওয়া যায় না। তাই অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকে ৪ কেজি মাংস কেনা হয়।

মাংস বিক্রেতা মর্জিনা বেগম বলেন, আমি একলা মানুষ। সারা দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৯ কেজির উপর মাংস পেয়েছেন বলে জানায়। কিছু নিজে খাওয়ার জন্য রেখেছি। নষ্ট হওয়ার ভয়ে বাকিটুকু বাজারে বিক্রি করেছি।

প্রতি বছরই কোরবানির ঈদ এলে এসব গরিব মানুষের দু বেলা গোশত খাওয়ার ও কিছু অর্থ উপর্জনের ব্যবস্থা হয়। অন্য সময়ের তুলনায় কেজিতে এক দুই শ টাকা কমে মাংস কিনে খুশি থাকেন নিম্ন মধ্যবিত্তরাও।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কোরবান আলি বলেন, যারা কোরবানি দিতে পারেননি এবং যাদের খাবারের হোটেল আছে তারাই মূলত এই মাংসের ক্রেতা। কেউ আবার ২/৩ কেজি করে কোরবানির সংগ্রহ করা মাংস কিনে বাসায় নিয়ে গিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন। আর হোটেল ব্যবসায়ীরা এসব মাংস কিনে নিয়ে যান মজুত করে রাখার জন্য।

মাংস বিক্রেতা রিকশা চালক মো. আমির হোসেন ঈদের সারাদিন পাড়া মহল্লায় ঘুরে ৮ কেজির উপর তিনি মাংস পেয়েছেন। মাংস সংগ্রহ করে রাখার মতো তার ফ্রিজ নেই। তাই তিনি ৫ কেজি মাংস বিক্রি করেছেন।

ক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, অভাব অনটনের সংসার হওয়ায় তার কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। আবার কোন আত্মীয়-স্বজনও নেই। তাই এই বাজারের মাংস কিনে কোরবানির মাংস খাওয়ার সাধ মিটাতে মাংস কেনা হয়। বাজারের মাংসের চেয়ে কোরবানির মাংসের স্বাদ অনেক বেশী বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads