• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জৈষ্ঠ ১৪২৮

সারা দেশ

কলমাকান্দায় সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০২১

সারা দেশে হিন্দুদের মন্দির ও মণ্ডপে হামলা, ঘর বাড়ী ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন ও হিন্দুদের হত্যা ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা মোড় এলাকায় কলমাকান্দা শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের আয়োজনে কলমাকান্দার বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট যুব ও ছাত্র মহাজোট, ব্রাহ্মন ঐক্য কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে প্রায় ৭শতাধিক লোকজনের অংশগ্রহণে এ মানবন্ধন হয়।

এ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামন্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা,অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন ও হিন্দুদের হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা ও কারা বিভিন্ন অজুহাতে হামলা চালিয়ে হিন্দুদের দেশছাড়া করতে চায়, তা সরকারকে খুঁজে বের করতে অনুরোধ জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিলয় সাহা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, ১৯৭১ সালে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান সকলে মিলে এই দেশ স্বাধীন করেছে। এদেশ আমাদের সকলের। সরকারকে এদেশে হিন্দুদের শান্তিতে বসবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করছে তা খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা আর পুনরায় না ঘটে। 

কলমাকান্দার হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি রাজকুমার সরকার স্বাধীন দেশে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবে বাঁচার ও মিলে মিশে থাকার কথা ছিল কিন্তু তা আজ বিনষ্ট হয়েছে। কুমিল্লার একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘটা দাঙ্গার সুষ্ঠু বিচার চাই।

কলমাকান্দার ব্রাহ্মণ ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। বর্তমান এ ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে হিন্দুরা চরম আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছেন। এমনবস্থায় সরকার ও প্রশাসনের জোড়ালো  দাবি জানান যেন এই অত্যাচার নির্যাতন নিপিড়ন বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়  ।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার বীজ বপন করেছিলেন। যেটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান এসব পরিচয়ের থেকেও আমাদের বড় পরিচয় হচ্ছে আমরা মানুষ। আমরা সনাতনী ধর্মাবলম্বী যারা আছি তারা ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের সময় দেশ ত্যাগ করিনি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেশ ছেড়ে যাইনি। তার অর্থ এই যে আমরা এই দেশেই থাকতে চাই। তাহলে কেন আমাদের সঙ্গে এমনটা হচ্ছে। কেনই বা আমাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads