• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কোটালিপাাড়ার ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার’

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কোটালিপাাড়ার ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার’

  • কোটালীপাড়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ নভেম্বর ২০২১

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জ্ঞানের আলো পাঠাগার। এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কর্মহীন অসহায় শান্তি বিশ্বাসের ৫ সদস্যের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। সংগৃহীদ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সন্ধ্যায় মুদি মালামালসহ একটি চায়ের দোকান হস্তান্তর করে শান্তি বিশ্বাসের পরিবারের কাছে। এ সময় জ্ঞানের আলো পাঠাগারের টিম লিডার সাংবাদিক সুশান্ত বর্ণিক, এলাকাবাসী ও জ্ঞানের আলো পাঠাগারের স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, কোটালীপাড়ার বরুয়া গ্রামে হতদরিদ্র শান্তি বিশ্বাসের ৫ সদস্যের পরিবাওে নেই কোন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সামান্য সরকারি আর মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের ভিক্ষায় কোন রকমে অনাহারে অর্ধাহারে চলছিল জীবন-যাপন। করোনার পর থেকে ভিক্ষার আয় বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে অভাব অনটন আরো বেড়ে যায়। এই পরিবারকে স্বাবলম্বীকরতে এগিয়ে আসে শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়মূলক সামাজিক সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগার।

অসহায় শান্তি বিশ্বাস বলেন, নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ বছর আগে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। ২০ বছর বয়সী পরিাবারের বড় ছেলে সংকর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। এছাড়া পরিবারে স্ত্রী, স্কুল পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ও ১০ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। ৫ সদস্যের পরিবারটিতে নেই কোন আয়ের উৎস। সরকারিভাবে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা দিয়ে অভাব-অনাটনের সংসার চলতো খেয়ে না খেয়ে। বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের পাশে দাড়ায় জ্ঞানের আলো পাঠাগার। ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে জ্ঞানের আলো পাঠাগার আমাদের জন্য দোকানঘর করে দিয়েছে। এ যেন গরীবের জন্য সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ।

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের টিম লিডার সুশান্ত বর্ণিক বলেন, শান্তি বিশ্বাসের পরিবারটির চরম অসহায়ত্বের মাঝে জীবনযাপন করছিল। বিষয়টি জেনে জ্ঞানের আলো পাঠাগার কতৃপক্ষ উদ্যোগ নেয় পরিবারটির জন্য কিছু একটা করার। ওই পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে একটি মুদি ও চায়ের দোকান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের ফেসবুক আইডি থেকে সহায়তা চাওয়া হয় এই পরিবারটিকে একটি দোকানঘর করে দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন মানবিক ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। সংগ্রহ হয় ৫৮ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে শান্তি বিশ্বাসের পরিবারের জন্য একটি টিনের দোকানঘর নির্মাণ করে মালামাল তুলে দেওয়া হয়।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, শান্তি বিশ্বাসের পরিবারটি খুব অসহায় একটি পরিবার। সরকারিভাবে তাদের জন্য ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্ঞানের আলো পাঠাগার সবসময় কোটালীপাড়ার অসহায়-দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে। শান্তি বিশ্বাসের পরিাবারকে স্বাবলম্বী করনে দোকানঘর করে দিয়ে জ্ঞানের পাঠাগার মানবতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরী করলো। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে অসহায়-দরিদ্র মানুষের দুঃখ সহজেই লাঘব হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads