• শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮
চেয়ারম্যানের দখলে কোটির টাকার জমি

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

চেয়ারম্যানের দখলে কোটির টাকার জমি

  • ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ
  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর ২০২১

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর শিল্পাঞ্চলে মহাসড়কের সড়কের দুপাশে থাকা সড়ক ও জনপথের কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি উচ্ছেদ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণডুরা ইউপি চেয়ারম্যান হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ভূমিটি সরকার ও ব্যক্তি মালিকানাধীন। দখলে হাইওয়ে পুলিশেরও মদদ ছিল বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়দের। উচ্ছেদের তিনদিন পরই দৃষ্টিনন্দন পার্ক তৈরির কথা বলে ১০ লাখ টাকার বালু ফেলে ভরাট করে নিজের দখলে নেন চেয়ারম্যান জজ মিয়া। এতে জনসাধণসহ পথচারীদের চলাচলে ঘটছে বিঘ্ন। তবে নাটকীয়তাভাবে দখলের বিষয়টি স্বীকার করেন ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান জজ মিয়া। এনিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, বাড়ছে উত্তেজনা। যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত-অপ্রীতিকর ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহানড়কের অলিপুর শিল্পাঞ্চল এলাকার দুপাশেই রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিশাল জমি। আর এসব পড়ে থাকা খালি জমিতে এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করে দিনাতিপাত করে আসছে। এতে কোনো রকম তাদের সংসার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে ওই সব নিম্ন আয়ের মানুষরা। অপরদিকে সিএনজি ও টমটমের কোনো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা ওই স্থানেই সিএনজি-টমটম রেখে আসছে শ্রমিকরা। কিন্তু হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান জজ মিয়ার কালো চোখ পড়ে ওই জমির ওপর। হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে গত ১৫ নভেম্বর চেয়ারম্যান জজ মিয়া নিজে উপস্থিত থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামকে দিয়ে রাস্তার দুপাশে গড়ে উঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করিয়ে রাতারাতি বালু দিয়ে ভরাট করে নিজের দখলে নেন। কোনো অনুমতি ছাড়াই বালু ফেলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয় এখানে দৃষ্টিনন্দন পার্ক করা হবে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

এছাড়া অলিপুর মৌজার ১৩৪ নং দাগে ৪৮ শতক ভূমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন মৃত ওয়াজেদ উল্লাহ। বর্তমানে ওয়ারিশান সূত্রে ওই ভূমির মালিক মো. মুমিন মিয়া গংরা। কিন্তু ভূমিটি তাদের অজান্তেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে তারা আদালতে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে  নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। তাছাড়া ওই এলাকার জাহেদুল ইসলাম গং, হাছন আলী, জিতু হাজি গং, রমজান আলী, দুলাল মিয়া, আমেনা খাতুন গং, হাজেরা বেগমসহ অনেকেরই জমি রয়েছে। সরকার তাদের জমি নিলেও এখনো তারা কোনো টাকা বুঝে পায়নি। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় মামলার বাদী মুমিন মিয়ার লোকজনের সাথে বাক-বিতণ্ডা হয় হাইওয়ে থানা পুলিশ ও চক্রের লোকজনের। কিন্তু কোনো কাগজ না দেখেই বুলডোজার দিয়ে একের পর এক দোকান ভেঙ্গে ফেলা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মুমিন মিয়ার দাবি করা ৪৮ শতক ভূমির বাহিরেও উচ্ছেদকৃত ভূমিতে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হোসেইন মুহাম্মদ আদিল জজ মিয়া মাটি ফেলে ভরাট করছেন। যার সহযোগিতায় রয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম। যে কারণে ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, তারা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না। ওই ভূমির পশ্চিম দিকের স্থানীয় বাসিন্দারা বন্দিদশার মত অবস্থা হয়েছে। বালু ফেলার কারণে পার্শ্ববর্তী রাস্তার ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে চলাচলের রাস্তায় পানি উঠে পড়ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তির পাশাপাশি উদ্বেগও বাড়ছে তাদের মধ্যে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এনিয়ে যে কোনো সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

চেয়ারম্যান জজ মিয়া বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। তাদের সুখ-দুঃখ আমাকে দেখতে হবে। তাই জনগণের স্বার্থে ওই ভূমিতে মাটি ভরাট করছি।’ তবে চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য স্থানীয়রা মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান জজ মিয়া নিজে দখলে নেওয়ার জন্যই মূলত সরকারি ভূমিতে মাটি ভরাট করছেন।

সরকারি ভূমি কোন এখতিয়ারে ও কোন নির্দেশনায় আপনি মাটি ভরাট করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জজ মিয়া বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমি আমার নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে এ কাজ করছি।’ তবে এ বিষয়ে ভূমির মালিক হবিগঞ্জের সড়ক বিভাগ কিছুই জানেনা বলে জানান।

হবিগঞ্জের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মুহাম্মদ ফয়সাল জানান, এখানে উচ্ছেদ করা হয়েছে যানজট মুক্ত রাখার জন্য। কিন্তু কাউকে মাটি ফেলে ভরাট করার জন্য আমরা কোনো অনুমতি দেইনি কিংবা কোনো স্থাপনা নির্মাণের জন্য বলা হয়নি। এমন কিছু কেউ করলে আমরা এর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছাড়া আদালতে বিচারাধীন মামলা থাকলে সেখানে আমরা কিছু করব না।

হাইওয়ে থানার ওসি মঈনুল ইসলাম জানান, উচ্ছেদের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম কিন্তু মাটি ফেলে ভরাটের বিষয়টি আমি অবগত নেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads