• রবিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ২ মাঘ ১৪২৮

সারা দেশ

আত্রাইয়ে মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ

  • আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে সরিষার ফুলে হলুদের সমারোহে ভরে উঠেছে। মাঠজুড়ে যতদূর চোখ যায় দেখতে মনে হয় বিশাল আকৃতির হলুদের চাদর বিছানো।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন মাঠ সরিষার আবাদে ভরে গেছে। হলুদ রঙের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায়। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফুল থেকে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছি। সাধারণত রবি মৌসুম কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার বীজ বপনের সময়। শীতকাল ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সরিষা ফুলে ছেয়ে থাকে চারদিক। বর্ষার পানি আগে নেমে যাওয়ায় মাঠ গুলোতে অগ্রীম জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া যে জমিতে সরিষা আবাদের পর বোরো ধানের চাষ করা হবে সেসব জমিতে আগাম সরিষা চাষ করা হয়েছে। উপজেলার নন্দলালী, বান্দাইখাড়া, শুটকিগাছা, মহাদিঘী, দিঘা, পবনডাঙা, বিশাসহ বিভিন্ন মাঠে এ মৌসুমে সরিষার আবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমন ধান ঘরে তোলার পরই কৃষকরা ওই জমিতে সরিষা চাষ করেন।

ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা বোনার নব্বই ভাগ শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। বিশেষ করে হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের কচুয়া মাঠে পুরোদমে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এ মাঠে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিনোদনপ্রেমীরা। হলুদ সরিষা ফুলের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলে কেহবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কথা হয় ছবি, ভিডিও ধারনকারী রিয়াজ নামের এক যুবকের সাথে।

তিনি জানান ছবি, ভিডিও ধারন করতে এখানে এসে মন ভরে গেছে। মনজুড়ানো চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ মনোরম দৃশ্য ।

কৃষক আফজাল জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সরিষা চাষী সাইফুল, আকবর, রেজাউল জানান, এবার দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আগাম চাষ করায় ভালো সরিষার আবাদ হয়েছে। পুরো মাঠ ফুল ফুটতে সময় লাগবে ৫-৭ দিন।

নাজমুল হোসেন সেন্টু জানান, এ বছর সরিষাক্ষেতে ভালো ফলন হবে বলে আশাবাদী। এখন পর্যন্ত জমিতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। বরং গাছগুলো সুন্দর আর স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম কাওছার হোসেন বলেন, গত বছর সরিষার ফলন বেশ ভালো হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। চাষিরা বারি-১৪, বারি -১৭, টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করেন। বারি ১৪ জাতের সরিষা চাষে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ অল্প সময় ও অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের উৎসাহ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads