• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯

সারা দেশ

সরকারি পুকুর উদ্ধার, ফের দখলের চেষ্টায় বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ

  • মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর ২০২১

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার বাজারে ওয়াকওয়েসহ দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণের জন্য বর্তমান বাজার দর প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি পুকুর অবৈধ দখলদার থেকে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন। এটি পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সপ্ন ছিল কিন্তু কেউ তা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কাগজে কলমে সরকারী পুকুর হলেও চারপাশের দোকান ও বাসার মালিকরা এই সরকারি পুকুর দখলের প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল।

সূত্রে জানা যায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের নির্দেশে পুকুর উদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে
গত ১৮ নভেম্বর থেকে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সরকারি খাস জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত ও সম্প্রসারিত ৪০টিরও বেশি বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ এ অভিযানের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক যোগদানের পরপরই পুকুরটি পরিদর্শন করেন। অবৈধ দখলদার থেকে পুকুরটি উদ্ধারের পরপরই ৬০ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং কাজ পেয়েছেন এম, এল, প্লাজার সত্য অধিকারী মৃদুল রায়। এতে বাজারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ ও পুকুর খননসহ চার পাশে নির্মাণ করা হবে সীমানা প্রাচীর।

মাধবপুর পৌরশহরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের  সুবিধার জন্য মাধবপুর বাজার প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে কাটিয়ারা মৌজার ১০২৭নং দাগে ১ একর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভূমির ওপর এ পুকুরটি খনন করা হয়। পরবর্তীতে পুকুরে যাওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ করে
পুকুরের চারপাশের মালিকরা অবৈধভাবে দখল করে ইমারত ও দোকান ঘর নির্মাণ করে। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যাপী এ জায়গাটি তাদের ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।‌এতে পুকুরটি জনসাধারণের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন জানান, ইতোমধ্যে আমরা ৯৭-৯৮ ভাগ জায়গা অবৈধ দখল হতে মুক্ত করেছি। ভবনগুলোর অবশিষ্ট অবৈধ অংশ অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ভবন মালিকেরা নিজ উদ্যোগেও অবৈধ অংশ অপসারণ করছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আমরা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। এ বছর পুকুর খনন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করব। মাননীয় পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এ প্রকল্পে আরও বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বরাদ্দের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত স্থানে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের একটি পার্ক আমরা মাধবপুরবাসীকে উপহার দিতে পারব। দখলকারী মহল বিভিন্ন দপ্তরে দৌরযাপ শুরু করেছে যাতে উন্নয়ন কাজে বাধা সৃস্টি হয়।

মঞ্জু পালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক বাংলাদেশে খবরকে জানান, আমারা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের চারপাস দকল করে ছিলাম কিছু কিছু ভূমি। কিন্তু আমাদের কে কোন নোটিশ দেয়নি। না দিয়েই ভাংগতে শুরু করেছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এ ব্যাপারে জানান ২০১৮ সালেও তাদেরকে জানানো হয়েছে।গত দু মাস আগেও আমাদের সার্ভেয়ার সার্ভে করেছে এবং বাড়ীর মালিকদেরকে বলা হয়েছে তাদের ইমারত সরকারী ভূমি থেকে সরাতে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads