• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
তিন দিনের সরকারি ছুটিতে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের ঢল

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

তিন দিনের সরকারি ছুটিতে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের ঢল

  • শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ ডিসেম্বর ২০২১

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীসহ তিন দিনের সরকারি ছুটিতে দেশের পর্যটন যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু বিনোদনের আশায় শহর ছেড়েছেন লাখো মানুষ। এছাড়াও একজেলা থেকে অন্য জেলায়ও ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটেছে। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি দেশের অন্যতম পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলেও। শ্রীমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পটগুলো গত তিন দিন ছিল উপচেপড়া ভিড়। পর্যটক, দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এখানকার হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও বাংলোগুলো । করোনা পরবর্তি সময়ে এমন পর্যটক সমাগমে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও খুশি। ধারণা করা হচ্ছে, গত তিন দিনের ছুটিতে শ্রীমঙ্গলে প্রায় ২০হাজার পর্যটক, দর্শনার্থী, ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটেছে। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।

দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটকের পদচারনায় শ্রীমঙ্গল মুখর ছিল গত তিন দিন। লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক, পাখির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল, কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, চা-বাগান, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূমি ৭১, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউণ্ডেশন, লাল টিলা, চা-কণ্যা ভাস্কর্য, মণিপুরী পাড়া, খাসিয়া পুঞ্জিসহ পর্যটন স্পটগুলো হাজারো পর্যটকের ভিড়ে ছিল মুখরিত।

স্থানীয় বৃষ্টি বিলাশ গেষ্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী আনজিম ইসলাম রাফি জানান, তাদের রিসোর্টে কোনো রুম ফাকা নেই। সব কটি রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অরণ্যের দিন রাত্রি ইকো-কটেজের স্বত্বাধিকারী কুমকুম হাবিবা জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের দুটি ইকো-কটেজের সব রুমই অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে। এদিকে বালিশিরা রিসোর্টের অন্যতম কর্ণধার মো: শহিদুল হক জানান, তাদের রিসোর্টেও কোনো কক্ষ খালি নেই। সব কক্ষই পর্যটকে ভরপুর।

দেশে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় চা-বাগান অন্যতম। তাই এবারের ছুটিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চা-বাগান আর তার অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে হাজার হাজার পর্যটক এবারও শ্রীমঙ্গল এসেছেন। শ্রীমঙ্গল শহর এবং রিসোর্ট পল্লী খ্যাত রাধানগরের সব রিসোর্টই অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়। তাই থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পরতে হয়েছে অনেককে। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে নিরাপত্তা ও নজরদারী বাড়িয়ে তৎপর ছিল পর্যটন পুলিশ।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র জানান, গত তিন দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় পার্কে প্রায় ৬হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি পর্যটন স্পটই ছিল লোকে লোকারণ্য। এদিকে শহরের হোটেল রেস্তোরাগুলো ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সৈকত জানান, তিন দিনের ছুটিতে তারা সাত বন্ধু মোটর সাইকেলে করে ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল এসেছেন বেড়াতে। ভাল রিসোর্টে সিট না পেয়ে শহরের একটি সাধারণ হোটেলে সিট পেয়েও তারা খুশি। ঘুরে বেড়িয়েছেন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্পটগুলো। দেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগান সমৃদ্ব শ্রীমঙ্গল বেড়াতে এসে অনেকেই চলে গেছেন এখানকার নৃ-তাত্তিক জনগোষ্ঠির পাড়াগুলোতে। ঢাকা থেকে আসা মেহেরুন্নেছা ইসলাম জেরি জানান, ত্রিপুরা, মণিপুরি, সাওঁতালসহ বেশ কয়েকটি পাড়া ঘুরে তাদের বিচিত্র জীবনধারা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads