• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জৈষ্ঠ ১৪২৮
আখাউড়ায় সাড়া জাগিয়েছে মানবতার দেয়াল

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় সাড়া জাগিয়েছে মানবতার দেয়াল

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় তীব্র শীত ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত শুরু হতেই অনুভূত হচ্ছে প্রচণ্ড শীত। তীব্র কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন পৌর শহরসহ উপজেলার ছিন্নমুল,অসহায় হতদরিদ্র লোকজন। দুর্ভোগে এলাকার ছিন্নমূলের মানুষ, ঠিক সেই সময়ে পৌর শহরের দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। এক পাশে লেখা হয়েছে এখানে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান। আরেক পাশে লেখা আছে, এই জিনিসগুলো যার প্রয়োজন নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। বাসাবাড়িতে থাকা পুরানো ও অপ্রয়োজনীয় জামা কাপড় স্বেচ্ছায় মানবতার দেয়ালে রেখে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। এসব পোশাক মনের আনন্দে নিয়ে যাচ্ছে পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন। অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের উপকার করতে পারায় খুশি অনেকে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্যোগে মানবতার দেয়ালে তৈরি করা হয়।

মানুষ মানুষের জন্য শুধু একটু সহানুভূতি-মানুষ কি পেতে পারে না ও বন্ধু’ ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে সেই বিখ্যাত গানের কথায় রূপ দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে নেওয়ায় তারা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলিয়েছে। এই দেয়াবে ঝুলছে অন্যের রেখে যাওয়া কাপড়। ঝুলিয়ে রাখা কারো অপ্রয়োজনীয় কাপড়ে স্বস্তি খুঁজে নিচ্ছেন সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষেরা। ইতিমধ্যে মানবতার দেয়াল বেশ সাড়া জাগিয়েছ। এতে সাঁটানো ব্যানারে লেখা রেেয়ছে এখানে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান। এই জিনিসগুলো যার প্রয়োজন নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ইতিমধ্যে এসব বস্ত্র মনের আনন্দে নিয়ে যাচ্ছে পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা। অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের উপকার করতে পারায় খুশি অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আখাউড়া-কসবা রোডের পৌর শহরের দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে সাজানো আছে শার্ট, প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ কিংবা শিশুদের জামাকাপড়। নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র এখানে সুন্দর ভাবে সারি সারি করে রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি যাদের প্রয়োজন এখান থেকে সময় বুঝে নিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সেকের মিয়া বলেন, সমাজের অসহায় লোকদের কথা চিন্তা করে মূলত মানবতার দেয়াল তৈরী করা হয়েছে। অনেকের বাড়িতে ভাল ভাল পোশাক ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জামা কাপড় ছোট হয়ে পড়ে আছে। এই জামা কাপড়গুলো অনেকেই আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে মানবতার দেয়ালে রেখে যাচ্ছেন। যাদের প্রয়োজন তারা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন অনেকে লোকলজ্জায় প্রকাশ্যে মানুষের সামনে থেকে চিতে চাচ্ছে না। যখন মানুষ না থাকে তখন অনেকেই তার প্রয়োজনীয় কাপড় এখান থেকে নিরভে নিয়ে যাচ্ছেন।

মো: শামিম মিয়া বলেন, বাড়িতে থাকা অপ্রয়োজনীয় জামা কাপড় এখানে দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। গৃহিণী শামিমা আকার বলেন, তার বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় কিছু কাপড় রয়েছে। আমি সেগুলো এখানে দিয়ে যাবো।

মর্জিনা বেগম বলেন, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। টাকার অভাবে তার নাতীকে শীতের পোশকা কিনে দিতে পার ছিলেন না। হঠাৎ তার দৃষ্টি এখানে পড়ে। স্থানীয় লোকজনের কাছে এ বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ছাড়াই রাস্তার ধারে পছন্দের পোশাক নিতে পেরে খুবই খুশি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিকা খাতুন বলেন, ‘মানবতার দেয়াল’ মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে, স্থানীয় লোকজন আবেগ আপ্লুত হয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. বাবুল মিয়া শিক্ষকদের এ মহতী উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন সত্যি এটি একটি মহৎ কাজ। কারণ মানবতা হলো বড় ধর্ম। সমাজের তৃণমুল পর্যায়ে মানবতার দেয়াল ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। তিনি এ কর্মকাণ্ডে খুবই খুশি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads