• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯
ক্ষতির মুখে ধনবাড়ীর কৃষকেরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

ক্ষতির মুখে ধনবাড়ীর কৃষকেরা

  • ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ মে ২০২২

অনেক আশা নিয়ে-ই ধান আবাদ করে কৃষকেরা। আনন্দ-উৎসবে যেন ধান ঘরে তুলতে পারে। কিন্ত সেই আশায় বাঁধ সাধলো। খেতেই রোগবালই, অধিক শ্রমিক মজুরি ও ধানের দাম কম থাকায়। এবার বোরো ধান আবাদে অনেকটা-ই ক্ষতির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর কৃষকেরা। নেই তাদের মুখে হাসি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, লাভের আশায় এবারও বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ হয়েছে। স্বল্প আয়ূকালের ব্রি-২৮ ধানে দেখা দিয়েছে রোগবালই। খেতেই নষ্ট হয়েছে ধান। বিঘা প্রতিও মিলছে না ৮ থেকে ১০ মণ। বাজারে শ্রমিক সংকট ও মজুরী বেশি থাকায় লাভের জায়গায় ক্ষতিতে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এবার ধান আবাদের পরিমাণ ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর। বেশির ভাগ জমিতেই আবাদ হয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাত।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরোদমে চলছে ধান কাটা-মাড়াই। বস্তা ভর্তি করে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক-ই। প্রাকৃতিক তেমন কোনো বিপর্যয় না হওয়ায় ব্রি-২৮ ধান ব্যতিত অন্য জাতের ধানে ফলন হয়েছে ভালো। ব্রি-২৮ ধানের খেতগুলোতে দেখা দিয়েছে রোগবালাই ও মড়ক। এতে চিন্তায় পড়েছে চাষিরা। অনেকে-ই আবার পরিবার নিয়ে কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত।

উপজেলার দরিচন্দ্রবাড়ী এলাকার চাষি হাশেম আলী বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ ধানে রোগবালাই দেখা দেয়। ৩ মণ ধানও পাইনি। ক্ষতির মুখে পড়েছি। অপর চাষি জুলহাস উদ্দিন বলেন, ব্রি-৮৯, ৯২, ৯৬ ও ১০০ (বঙ্গবন্ধু ধান)সহ অন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানে ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় দুই মন ধানের মিলছে এক শ্রমিক।

ধোপাখালী এলাকার চাষি হারুন মিয়া বলেন, এবারে উপজেলার সব কৃষকের ২৮ ধান খেতেই রোগবালাই দেখা দিয়েছে। আমারও ক্ষতি হয়েছে।

মুশুদ্দি এলাকার কৃষক আনছার আলী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমার খেতের ধান সব পড়ে গেছে। ফলে ধান কাটতে শ্রমিকও বেশি লাগছে। পৌর এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, আমার পুরো ১ বিঘা জমিতেই রোগবালই দেখা দেয়ায় অর্ধেকের কম ফলন পেয়েছি। বাজারে ধানের দাম না থাকায় আবাদকৃত খরচও আসেনি।

ধনবাড়ী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মেসার্স তন্নী এন্টারপ্রাইজের মালিক রুকনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে ধানের দাম আগের চেয়ে কম। ব্রি-২৮ ভালোটা ৭০০, ব্রি-২৯ ৬৫০ থেকে ৭০, সব মোটা জাতের ধান ৬২০ থেকে ৬৮০, কাটারিভোগ ৮২০ টাকার মধ্যে কিনেছেন এবার। এতে কৃষকেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রি-২৮ ধানে রোগবালই দেখা দেয়ায় কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্য জাতের ধানের ভালো ফলন পেয়েছে। শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি থাকায় হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ধানের দাম কম থাকায় ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads