• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
সড়কে বাঁশ বেঁধে সেতু নির্মাণ, কাজ বন্ধ করল জনগণ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

সড়কে বাঁশ বেঁধে সেতু নির্মাণ, কাজ বন্ধ করল জনগণ

  • কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৬ মে ২০২২

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন লালন বাজার-পান্টি বাজার সড়কের পান্টি বাজারের ডাকুয়া নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে সেতু। কিন্তুু বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে সড়কে বাঁশ বেঁধে চলছে সেতুর কাজ। এতে গত শুক্রবার থেকে থমকে গেছে দুই পাড়ের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তবুও প্রয়োজন মেটাতে কোনো মতে চলাচল করছে মানুষ। ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার দুপুরে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

রোববার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পান্টি বাজারের ডাকুয়া নদীর উপরের সেতুটির দুইপাশের সড়ক কেটে রাখা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ কিছু মালামাল ফেলে রাখা হয়েছে। চলাচলের জন্য কাদামাটি দিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেতুর দক্ষিণপাশের সড়কে বাঁশ বেঁধে সড়ক আটকে রাখা হয়েছে। বাঁশের সঙ্গে লাল রঙের কাপড় বাঁধা রয়েছে।

আরো দেখা গেছে, বাস, ট্রাক, নসিমন, করিমন, অটোগাড়িসহ সকল চার চাকার যানববাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু মানুষ, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে দক্ষিণপাশের চিপাচাপা দিয়ে চলছে করছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। তবে নির্মাণ শ্রমিক, প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যায়নি।

কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দাবি করে বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ চালু রাখতে সড়কে বাঁশ বেধে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সেতু এলাকায় কিছু দোকানঘর রয়েছে। সেগুলো বিকল্প সড়ক নির্মাণে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। দোকানঘর গুলো ভাঙা হলে পুনরায় চলাচলের সড়ক নির্মাণ করা হবে। চলাচল সচল হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সেতু নির্মাণের খোঁজ নেই। অথচ সেতু থেকে সড়ক বিচ্ছিন্ন করে পুকুর কেটেছে। পুকুরের মাটি দিয়ে কোনমতে বিকল্প কাঁচা সড়ক নির্মাণ করেছে ঠিকাদার। গত শুক্রবার সকাল থেকে প্রধান সড়কে বাঁশ বেঁধে দিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সকল প্রকার ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবুও নিত্য প্রয়োজনে কিছু মানুষ কষ্ট করে চলাচল করছে । এতে ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই কাজ বন্ধ করা হয়েছে।

তারা আরো বলেন, রোববার দুপুরে শাহবুদ্দিন নামের এক আর এফ এল কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ মোটরসাইকেল নিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসা করিয়েছে। মাথায় তিনটা সেলাই দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বৃষ্টিতে সড়কটি বারবার ধ্বসে যাচ্ছে। কিন্তু সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের বলেও জানায় স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ডাকুয়া নদীর দুই পাড় ঘেষে ঐতিহ্যবাহী পান্টি বাজার। উপজেলার দ্বিতীয় শহর বলা হয় পান্টিকে। উপজেলার চাদপুর, বাগুলাট, পান্টি ও যদুবয়রা ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার একাংশ কুষ্টিয়া শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এই সড়ক। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য সড়কে বাঁশ বাঁধা হয়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চরম ভোগান্তিতে আছে মানুষ। মুখ থুবরে পড়ছে ব্যবসা ও স্বাভাবিক জীবন যাপন।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, পান্টি বাজার এলাকায় ডাকুয়া নদীর ওপর প্রায় ৮১ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। যার চুক্তিমূল্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। ই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি করার অনুমোদন পায় কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীর ডন-রুমানা-জেভি। চুক্তি অনুয়ায়ী ২০২১ সালের ১৭ আগস্ট কাজ শুরু হয়ে শেষ করার কথা রয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর। 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পান্টি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আ ক ম মামুনুর রহমান বলেন, সড়কে বাঁশ বেধে পথ আটকে কাজ করছে ঠিকাদার। বিকল্প সড়কটিও ভালো নয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। তাই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলাচলের সড়ক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।

পান্টি বাজারের ব্যবসায়ী শরিফ হোসেন বলেন, তিন-চার মাস হলো মানুষের কষ্টের শেষ নেই। কিন্তু কারো চোখে পড়ে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান আজম বলেন, গত শুক্রবারে সড়কে বাঁশ বেঁধেছে। এতে সকল ধরনের ভারি ও মাঝারি চার চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা কোনমতে চলাচল করছে। দুর দুরান্তের মানুষ এসে ফিরে যাচ্ছে।

পান্টি পিঁয়াজ হাটের ইজারাদার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, লাখ লাখ টাকা দিয়ে হাট ডেকেছি। কিন্তু রাস্তার কারণে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ হাটে আসতে পারে না। খুব চিন্তায় আছি। দ্রুত রাস্তা সংস্কার হওয়া দরকার।

সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ফারুক আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, 'সড়ক নির্মাণ করতে হলে দোকানঘর ভাঙতে হবে। কিন্তু দোকানঘর প্রশাসন আজও ভাঙতে পারিনি। ফলে প্রধান সড়কে বাঁশ বাঁধা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি কাজের সাইডে নেই। তাই জনগণ কাজ বন্ধ করেছে কি না তা জানা নেই।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, সেতু এলাকায় কিছু দোকানঘর থাকায় বিকল্প সড়কটি বন্ধ রয়েছে। প্রধান সড়কেও ঠিকাদার বাঁশ বেঁধেছে। তবে ঠিকাদারকে বিকল্প সড়ক নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সড়কে বাঁশ বাঁধার বিষয়টি জানা নেই। গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads