• রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
খাদ্যের সন্ধানে এসে জালে বন্দি বিরল গন্ধগোকুল

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

খাদ্যের সন্ধানে এসে জালে বন্দি বিরল গন্ধগোকুল

  • রিফাত আহমেদ রাসেল, দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ মে ২০২২

রাতের আধারে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে প্লাস্টিক জালে জড়িয়ে বন্দি বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল। রাতভর জাল থেকে ছোটার শত চেষ্টার পরেও উপায় মেলেনি। উল্টো জালের সাথে এলোমেলো পেচিয়ে রূপ নিয়েছে মরণফাঁদে। এদিকে দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে শেষবারের মতো বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা গন্ধগোকুলের।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এভাবেই প্লাস্টিক জালে বন্দি বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাকরাইল গ্রাম থেকে প্রাণীটি উদ্ধার করেন স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সদস্যরা। পরে পাশের বনেই প্রাণীটিকে অবমুক্ত করে দেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

স্থানীয়রা জানান, কাঠমিস্ত্রি আব্দুল মোতালেবের বাসার সামনে রাতে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে মরিচ বাগানে প্লাস্টিক জালের সাথে পিছিয়ে যায় প্রাণীটি। সকালে প্রাণীটিকে দেখতে পেয়ে কিছুটা সামনে যেতেই হিংসাত্মক ভাবে ছোটাছুটি জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে গলা এবং মাথায় প্লাস্টিক জাল শক্তভাবে পিছিয়ে থাকায় দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টার পরেও নিজে থেকে ছুটতে পারেননি। প্রাণীটি করুণ অবস্থা দেখে মোতালেব মিয়া সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর সদস্যদের জানান। পরে স্বেচ্ছাসেবকরা দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় প্রাণীটির গলা এবং মুখ থেকে প্লাস্টিক জাল কেটে মুক্ত করেন।

এই দিকে বিরল প্রাণীটিকে দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন মোতালেব মিয়া বাড়িতে। ছোট থেকে বড় গ্রামের অনেকেই খাটাশ সহ বিভিন্ন নামে ডাকতে থাকেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। গন্ধগোকুল মানুষের বসতির আশপাশে উচ্চ গাছে বসবাস করে। অনেকেই প্রাণীটিকে খাটাশ, লেন্দর নামেও চিনেন। প্রাণীগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করেন। আমরা উদ্ধারের পর স্থানীয় বনে অবমুক্ত করেছি। প্রাণীটিকে এখনো অনেক ছোট। পাশের বাগানেই হয়তো এই প্রাণীর বাকি সদস্যরা রয়েছে।

আব্দুল মোতালেব জানান, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মরিচ বাগানের পাশেই জালের সাথে পিছিয়ে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। বিষয়টি বুঝতে কিছুটা সামনে যেতেই দেখি একটি প্রাণী জালের সাথে আটকে আছে। এবং জন্য অনেক চেষ্টা করছে। আমি ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করেছিলাম তবে প্রাণীটি হিংসাত্মক ভাবে ছোটাছুটি করা এবং জোরে জোরে শব্দ করে তা পারিনি। দীর্ঘক্ষন ধরে প্রাণীটির এমন করুণ অবস্থা দেখে আমি বিষয়টি স্থানীয় প্রাণী স্বেচ্ছাসেবকদের জানাই। পরে তারা এসে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। এটিকে অনেকেই অনেক নামে চিনেন। খাতাশ বলেন কেউ আবার লেন্দর বলেন কেউ। কয়েকজন চেয়েছিল প্রাণীটিকে মেরে ফেলতে কিন্তু আমি মারতে দেয়নি। এরাও তো প্রাণী। এরাও তো বনে এবং গাছপালায় বসবাস করান।

সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং সংগঠনের যুগ্ম সংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত প্রসাদ জানান, আমরা সংবাদটি পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক মাকড়াইল গ্রামে ছুটে যাই। বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলটি মরিচ গাছের বেড়া দেয়ার কাজে ব্যবহার করা প্লাস্টিক জালের সাথে আটকে যায়। প্রাণীটি এখনো অনেক ছোট, এটি একটি ছানা। এই গুলো নিশাচর প্রাণী হওয়ায় রাতে পরিবারের সাথে হয় তো খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে প্লাস্টিক জালে আটকে যায়। আমরা দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় গলা এবং মাথা থেকে প্লাস্টিক দড়ি কেটে প্রাণীটিকে মুক্ত করি। তবে দীর্ঘক্ষণ জালে আটকে থাকায় প্রায়ই অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এটিকে অবমুক্ত করার সাথে সাথে নিজে নিজেই হেঁটে বনে চলে যায়। এক সময় দুর্গাপুরের সর্বত্রই গন্ধগোকুল দেখা মিলত। কিন্তু মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে প্রাণীগুলো মুরগির বাচ্চা সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী খেয়ে ফেলায় গন্ধগোকুলকে নির্বিচারে হত্যার কারণে এখন দেখা মিলাই দুষ্কর।

তিনি আরো জানান, পাহাড়ি জনপদ সুসং দুর্গাপুরে নানা প্রাণীর অবাধ বিচরণ। তবে প্রায় সময় খাদ্যের সন্ধানে প্রাণীরা বন ছেড়ে লোকালয়ে আসছে। আমার ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি।এর মধ্যে অজগর, বিলুপ্ত লজ্জাবতী বানর সহ বিভিন্ন প্রকার বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। বনাঞ্চল ধ্বংস করে লোকালয় তৈরি এবং বনের ফলজ গাছ কেটে শুধুমাত্র কাঠ জাতীয় গাছ রোপনের ফলেই এই সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বনে ফলজ গাছ রোপন সহ এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ না করা গেলে বনে শুধুমাত্র গাছপালায় থাকবে প্রাণীরা নয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads