• শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯
নির্মাণের পরই ভেঙে গেল রাস্তা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

নির্মাণের পরই ভেঙে গেল রাস্তা

  • ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৮ জুন ২০২২

ঢাকার ধামরাইয়ে দুটি প্রকল্পে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দে কামার পাড়া মজিবরের দোকান থেকে দুনিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ইট সলিং রাস্তা। নির্মাণের পরই বৃষ্টির পানিতে ভেঙে পড়ে গেছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কাজ শেষ না করেই বরাদ্দের পুরো ৫৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে ঠিকাদার। এতে খালের পাড়ে প্যালাসাইডিং নির্মাণ না করায় বৃষ্টিরে পানির ঢলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এতে রাস্তাটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর বাধা ও অভিযোগ উপেক্ষা করে ধামরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঠিকাদারকে বরাদ্দের পুরো ৫৪ লাখ টাকা ছাড় দেয়া হয়। এমন ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে কামারপাড়া গ্রামের মজিবরের মুদি দোকান থেকে দুনিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার একটি এসবিবি রাস্তা ও কামারপাড়া খালের পাড়জুড়ে প্যালাসাইডিং নির্মাণের অনুমোদন দেয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। কাজটি নির্মাণ করে পাল এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যথাসময়ে কাজটি না করে অর্থবছরের শেষের দিকে এসে কাজ শেষ হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ২০২০-২১অর্থবছরে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও প্রথম দিকেই নানাভাবে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন ধামরাই পাল এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুব্রত পাল। পিআইও অফিস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অবহিত করলে তাদের হস্তক্ষেপে কাজটি শুরু করেন ওই ঠিকাদার। অত্যন্ত ঢিমেতালে কাজটি করা হলে খালের পাড় দিয়ে কোনো রকমে প্যালাসাইডিং নির্মাণ করে কাজ শেষ করেন। পরে কিছুদিনের মধ্যে সেই রাস্তা ভেঙে যায়। রাস্তার কাজও করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পিআইও শাহিন-উ-জ্জামান শাহিনকে অবহিত করা হয়। এলাকাবাসী কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মাহবুবকে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

ঠিকাদার সুব্রত পাল বলেন, মালামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কাজটি যথাসময়ে করা হয়নি। রাস্তার কাজ নিয়ে কিছু বলব না। বিষয়টি তৎকালীন বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা জানেন। তাদের সাথে কথা বলেন। রমজান আলী নামে এক ব্যাক্তি বলেন, রাস্তার কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা না হলে এমনটি হতো না। প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, রাস্তা যেখানে নষ্ট বা ধসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে সেখানেই প্যালাসাইডিং নির্মাণের কথা। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিন-উজ্জামান বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি প্যালাসাইডিং নির্মাণ করেছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। আমি সরেজমিনে গিয়ে সেটা দেখেছি। বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads