• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ছোট হাতে বড় দায়িত্ব

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

ছোট হাতে বড় দায়িত্ব

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ২৯ জুন ২০২২

মো: মোবারক হোসেন। বয়স (১৩) ছুঁই ছুঁই। সে আর আট দশটা শিশুর মতো নয়। বয়সে ছোট হলে ও কাঁধে রয়েছে তার বড় দায়িত্ব।  যে বয়সে স্কুলে লেখাপড়াসহ অন্য ছেলেদের সাথে হেসে-খেলে আনন্দ উল্লাসে বেড়ে উঠার কথা ছিল। কিন্ত সে বয়সে অনেকটা সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে তার বিক্রি করতে হচ্ছে চানাচুর। শিশু মোবারক বয়স কম হলেও পরিবারে থাকা মা বাবাসহ ভাইবোনদের বিশাল বোঝা এখন অনেকটা তার কাঁধেই রয়েছে। চানাচুর বিক্রির আয় দিয়ে তাকে সংসারের বেশীরভাগ জোগান দিতে হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোবারক। গত প্রায় ১ বছর ধরে সে চানাচুর বিক্রি করছে সে।

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় কথা হয় মোবারক হোসেনের সঙ্গে। সে জানায়, তার ঘরে বাবা, মা, ৪ ভাই ২ বোনসহ ৮ জন সদস্য রয়েছে। ভাই বোনদের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তার বাবা কৃষি কাজ করলেও বর্মমানে নানা কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারছে না। পরিবারে অভাব অনটন থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে তার চানাচুর বিক্রি করতে হচ্ছে। গত ১ বছর ধরে সে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মোবারক খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করলেও অভাব অনটনের কারনে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

সে আরো বলে, বেশীভাগ সময় তাকে চানাচুর নিয়ে বের হতে হয় । সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত ঘুরে ঘুরে চানাচুর বিক্রিতে তার ২৫০ থেকে ৩শ টাকায় আয় হয়।

এদিকে ৮ জনের সংসার চালাতে গিয়ে এই বয়সেই সে যেন হাঁপিয়ে উঠলেও তার চোখে মুখে নেই যেন কোন ক্লান্তির ছাপ। হাসি মুখে যেন সে এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এক সময় তাদের পরিবারে ভালো আয় ছিল। পরিবারে কোন অভাব ছিল না। নানা কারণে তার বাবা নিয়মিত কৃষি কাজ করতে না পারায় অনাহারে অর্ধাহারে চলতে হয়েছে তাদের। কোন উপায় না পেয়ে তাকে চানাচুর বিক্রি করতে রাস্তায় নামতে হয়। মোবারক বলে, ছোট বেলা থেকে পড়াশুনা করার তার খুবই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে তার সেই ইচ্ছা পুরন হয়নি। এখন সকাল বিকাল পযর্ন্ত সংসারের অভাব অনটন পুুরনে মাথার গাম পায়ে ফেলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে তার চানাচুর বিক্রি করতে হচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল পযর্ন্ত দৈনিক ৬ শ টাকার উপর বিক্রি হয়। খরচ বাদে ৩শ টাকার উপর আয় হয় বলে জানায়।

সারা দিনের আয়ের টাকা সে বাবার হাতে তুলে দেন। সে টাকায় চাল, ডাল,সবজিসহ অন্যান্য জিনিস কেনা হয়। তবে যে দিন চানাচুর নিয়ে বের হতে না পারি সে দিন খুবই কষ্টে যায়।

সে বলে প্রথম প্রথম লোকজন আমার চানাচুর খেতে চাইতো না। তখন খুবই খারাপ লাগতো। এখন আর সে সমস্যা হয় না। অনেক জায়গায় পরিচিতি হয়ে গেছি। দেখলে অনেকেই খেতে এগিয়ে আসে। সে আরো বলেন আমার বয়সের ছেলেরা যখন খেলাধুলা করে তখন খুবই ইচ্ছে করে তাদের সাথে খেলতে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে সেই সময় আর হয়ে উঠেনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads