• বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
এক ছাগলের ওজন ৮৬ কেজি, চাওয়া হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

এক ছাগলের ওজন ৮৬ কেজি, চাওয়া হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকা

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০২ জুলাই ২০২২

হালকা সাদা লাল রঙ্গের শরীর। কাশ্মীরি জাতের ছাগল। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৮ ইঞ্চি (লেজের গোঁড়া থেকে মাথা পর্যন্ত) উচ্চতা ৩৬ ইঞ্চি । বয়স তার আড়াই বছর। ছাগলটির (খাসি) ওজন রয়েছে ৮৬ কেজি বা ২ মণ ৬ কেজি। সময়ের সাথে তার আকৃতি বেড়ে উঠলেও রয়েছে খুবই শান্ত স্বভাবের। শখ করে ওই ছাগলের নাম রাখা হয়েছে বাদশাহ। নামের সাথে তার আদর যত্নে যেন কমতি নেই। উচ্চতায় বড় এবং দেখতে সুন্দর হওয়ায় ইতিমধ্যে এই ছাগলটি (খাসি) এলাকায় বেশ সারা ফেলেছে। এটি দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন। বর্তমানে কোরবানির হাটে ছাগলটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের দুর্গাপুর গেইট এলাকায় মো. গোলাম মাওলা নামে এক কৃষক ওই (ছাগল) খাসিটি লালন পালন করছেন। গোলাম মাওলা ওই এলাকার মুছা মিয়ার ছেলে। তিনি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই খাসিটি বিক্রি করবেন। ইতোমধ্যে ছাগলটি (খাসি) কেনার জন্য বিভিন্ন এলাকার লোকজন কেনার জন্য ভিড় করছেন।। স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার মধ্যে এই খাসিটি রয়েছে সবচেয়ে বড়। দেখতে খুবই অসাধারণ।

গোলাম মাওলা বলেন, আজ থেকে প্রায় ৬ মাস আগে শখ করে ছাগলটি ১৮ হাজার টাকা দিয়ে তিনি কিনেছেন। তখন ওজন ছিল প্রায় ৩০ কেজির উপর। কেনার পর থেকে তিনি নিজেই ছাগলটিকে সন্তানের মতো খুব যত্ন করে লালন পালন করছেন। এমনকি তারা যে ঘরে ঘুমায়, শখের বাদশাহ ও সেই ঘরেই ঘুমায়।

তিনি আরো জানান, বাদশাকে প্রতিদিন খুদের ভাত, গমের ভূসি, খেসারির ভূসি, খৈল, ডাল, শুকনো খাবার, আঙ্গুর, কলা ইত্যাদি খাওয়ানো হয়। তাছাড়া নিয়মিত প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানায়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করার ফলে তার আকৃতি বেড়েছে। বর্তমানে এই ছাগলটির ওজন রয়েছে ৮৬ কেজি। বাড়িতে সবাই ছাগলটিকে খুব আদর যত্ন করছেন। তাই সবার সঙ্গেই সে মিশে যায়। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ টাকার খাবার দিতে হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে খাসিটির ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বছর কোরবানির ঈদে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরেজমিনে দুর্গাপুর গিয়ে দেখা যায়, অতি যত্নে ছাগলটিকে (খাসি) লালন পালন করা হচ্ছে। সকাল বিকাল রাতে বাদশাহর অতিরিক্ত যত্ন নিচ্ছেন পরিবারের লোকজন। তবে এ উপজেলায় এখন পযর্ন্ত এটাই হলো সব চাইতে বড় ছাগল। এই বিশাল আকারের ছাগলটিকে দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তার বাড়িতে আসছেন।

বিশাল আকৃতির বাদশাকে দেখতে আসা পৌর শহরের তারাগন এলাকার কাজী তামিম বলেন, লোকমুখে শুনে এই ছাগলটি দেখতে এখানে আসা। এই প্রথম এতো বড় ছাগল দেখলাম। আর কোনো দিন দেখিনি। তার নাম যেমন বাদশা দেখতেও বাদশার মতোই। ক্রেতা মো:মোবারক হোসেন বলেন, এতো বড় ছাগল সহসায় দেখা যায় না। আমার ছেলেসহ সকলের পছন্দ হয়েছে এই ছাগলটি। দুয়েক দিনের মধ্যে দেখি কেনা যায় কি না।

মো: গিয়াস উদ্দিন মাষ্টার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গোলাম মাওলা একজন সৌখিন মানুষ। ছাগল লালন পালন ছাড়াও তিনি নানা প্রজাতির পাখিও পালন করছেন। প্রতি বছরই দৃষ্টি নন্দন ছাগল লালন পালন করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করছেন।

গোলাম মাওলা বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর তিনি শখ করে বড় আকারের ছাগল পালন করছেন। গত ৫ বছর ধরে ছাগল পালন করে বিক্রি করছেন। প্রতিটি ছাগলের ওজন ছিল ৮০-৯০ কেজি। বর্তমানে যে ছাগলটি পালন করছেন সেটিও রয়েছে ৮৬ কেজি ওজনের। এই বিশাল আকারের ছাগলটির দাম ৮৫ হাজার টাকা চাওয়া হলেও বাজারের অবস্থা বুঝে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কমবেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: জুয়েল মজুমদার বলেন, আমার জানা মতে এতো বড় খাসি ছাগল উপজেলায় আর কোথাও আছে কি না তা জানা নেই। উন্নত জাতের ছাগলটিকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করছেন। তিনি সব সময় এটির খোঁজখবর রাখছেন । তাছাড়া যখনই কোন সমস্যায় পড়ছেন সার্বিক ভাবে পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads