• বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
আখাউড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কবুতর বিক্রির হাট

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কবুতর বিক্রির হাট

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ০৩ আগস্ট ২০২২

সকাল থেকেই ছাত্র, তরুণ, যুবক, কিশোর, শ্রমিকসহ নানা লোকজন একে একে ছুটে আসছে বাজারে। এর মধ্যে এক দল আসছে খাঁচাভর্তি দেশি -বিদেশি নানান প্রজাতির কবুতর নিয়ে। আরেক দল আসছে খালি হাতে। তবে বাজারে আসা উভয় দলের লোকজন কেউ শখের কবুতর বিক্রি করছেন আবার কেউ শখে ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ আসছেন দেখতে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া বাজারে।

এই বাজার যেন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শখের কবুতর বেচাকেনা। র্দীর্ঘ বছর ধরে প্রতি সাপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার দুই দিন রঙ-বেরঙের, দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির কবুতর নিয়ে হাট বসছেন বিক্রেতারা। ফলে ছাত্র, তরুণ, যুবক, কিশোর, শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে এ বাজার। দুদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযর্ন্ত চলে কেনা বেচা। তবে এই হাটে শুধূ বেচাকেনাই নয়, ঘুরে দেখার জন্যও বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন।

এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি-বিদেশি নানা জাতের কবুতর নিয়ে ছুটে আসেন বিক্রেতারা। হাটে আসা কবুতরের মধ্যে রয়েছে গিরিবাজ, বাজিকর, হোয়াইট কিং, বোম্বাই কালদুম, সিরাজী, নরেশ, কোপার, লুটন, মুক্ষি, ফ্লাই, রেইসিং, প্যান্সি,ম্যাগপাই, মুন্ডিয়ান, কালোদোম, ঘিয়াচুন্নী,সবুজগলা, লালবোম্বাই, শুয়াচন্দন, বিউটি হোমা, পারভিন, চকলেটসহ নানা জাতের কবুতর। দেশি-বিদেশি সব জাতের কবুতর যেন সবার নজর কাড়ছে।

হাটে আসা একাধিক বিক্রেতা বালাদেশের খবরকে জানায়, এই হাটে প্রতি জোড়া দেশি কবুতর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর বিদেশি বিভিন্ন শৌখিন কবুতর দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

বিক্রেতারা বলছেন, এই বাজারের ঐতিহ্য দীর্ঘ বছরের। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গার লোকজন শখের কবুতর বিক্রি করেন। তবে এখানে কবুতর কেনা বেচায় তরুণদের সংখ্যাই রয়েছে বেশি। সাপ্তাহে দু’দিন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পাখি বিক্রি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শখের বসে কবুতর এ উপজেলার প্রায় ২ শতাধিকের উপর ছাত্র, তরুণ, যুবক, কিশোর, শ্রমিকসহ নানা বয়সের লোকজন কবুতর পালনের সাথে জড়িয়ে আছেন। তবে এদের মধ্যে বেশীভাগ লোকজনই বানিজ্যিক ভাবে দেশি-বিদেশি কবুতর পালন করে টাকা উপার্যন করছেন।

উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকা থেকে আসা কলেজ ছাত্র মো: নাজমুল হাসান বালাদেশের খবরকে বলেন, সে ৯ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শখ করে ১ জোড়া কবুতর ক্রয় করে পালন করেন। গত ৩ বছরে তার ৪০ জোড়া কবুতর রয়েছে। এই হাটে সে ৫ জোড় কবুতর বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। এরমধ্যে ২ জোড়া কবুতর ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয় । সে আরো বলেন প্রতি মাসে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার কবুতর বিক্রি করেন। এই টাকায় তার পড়াশুনাসহ অন্যান্য খরচ চলছে।

অপর কলেজ ছাত্র মো: এমরান হোসেন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় কবুতর পালনে তার শখ তৈরী হয়। অনেক কষ্টে জমানো টাকায় প্রথমে ১ জোড়া দেশি কবুতর দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। গত ২ বছর ধরে তিনি বিদেশি জাতের কবুতর পালন করছেন। এখন তার ঘরে প্রায় ৬০ জোড় কবুতর রয়েছে। তিনি বলেন সাপ্তাহিক এই হাটে ৫ জোড় বিদেশি কবুতর নিয়ে আসলে ৩ জোড় বিক্রি হয় ৩ হাজার টাকায়। প্রতি মাসে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার কবুতর বিক্রি হয়ে থাকে বলে জানায়।

ক্রেতা অটো চালক মো: ফারুক মিয়া বলেন, গত ১ বছর ধরে শখের বসে কবুতর পালন করছেন। বাড়িতে তার ১৮ জোড়া কবুতর রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বাজারে এসে কবুতর দেখছেন। পছন্দ ও দরদাম ঠিক হলে বিদেশি জাতের এক জোড়া কবুতর কেনা হবে বলে জানায়।

মো. সোহাগ মিয়া বলেন, তার ছেলে ৫ম শ্রেণিতে পড়ছে। বাড়ি সংলগ্ন অন্যান্য ছেলেরা কবুতর পালন দেখে তার খুবই শখ হয়। তাই বাজারে আসা। ছেলের পছন্দ করা ২ জোড়া কবুতর ১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে। কবুতর পেয়ে ছেলে খুবই খুশি।

প্রবাসী সিরাজ মিয়া বলেন, শখের বসে এক জোড়া দিয়ে প্রায় ৭০ জোড় কবুতর তার হয়েছে। ১ জোড়া কবুতর প্রতিমাসে ১ জোড়া বাচ্চা দেয়। বড় প্রতি জোড়া কবুতর ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার উপর বিক্রি হয়। আর ছোট বাচ্চা ২শ৫০ থেকে ৩শ টাকায় প্রতি জোড়া বিক্রি হয়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কবুতর বিক্রি করে প্রতিমাসে অন্ত:ত ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা তার আয় হয়। তিনি বলেন কবুতর পালনে পুঁজি কম লাভ বেশী হয়। দেশি জাতের কবুতরে রোগ বালাইও কম থাকে। তাছাড়া দাম কম হওয়ায় সকলের কাছে বিক্রি করা যায়।

বিক্রেতা মো: মোবারক মিয়া বলেন গত ৫ বছর ধরে তিনি কবুতর পালন করছেন। এখানে নির্ধারিত হাট বসায় কবুতর বিক্রি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। বিভিন্ন এলাকার লোকজন সকাল থেকেই ক্রয় বিক্রয় করতে চলে আসেন। এখানে হাট না বসলে কবুতর বিক্রি খুবই কষ্ট হতো।

মো: বাবুল মিয়া বলেন, তিনি একজন অটো রিকশা চালক। ছোট বেলা থেকে শখ হওয়ায় গত ৩ বছর ধরে কবুতর পালন করছেন। বর্তমানে তার ঘরে ৫০ জোড় কবুতর রয়েছে। এরমধ্যে বেশীভাগই রয়েছে তার বিদেশি জাত। সে বাজারে বিক্রি করতে ৫ জোড়া কবুতর নিয়ে আসেন। এরমধ্যে ২ জোড়া কবুতর ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে আরো জানায় প্রতিমাসে তার ৫-৬ জোড় কবুতর এই হাটে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: হানিফ ভূইয়া বালাদেশের খবরকে বলেন, এক সময় এই মোগড়া বাজারের ঐতিহ্য ছিল। নানা কারণে বাজারটি জমজমাট হচ্ছে না। তবে সপ্তাহে দুদিন বেশ জমজমাট হয়ে উঠায় মনে খুবই আনন্দ লাগছে। এই দুদিনে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার কবুতর বিক্রি হয়।

বাজার পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক শেখ মনির হোসেন নিজাম বলেন, কবুতরের এই হাটে সপ্তাহে দুদিন ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। এই জমজমাট বাজার দেখতে খুবই ভালো লাগে। বাজার জমজমাট রাখতে সর্বাত্বক চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদ বালাদেশের খবরকে বলেন, কবুতর পালনে শ্রম ও খরচ কম হয়। অল্প পুঁজি ও স্বল্প জায়গায় অতি সহজে কবুতর পালন করা যায়। এ উপজেলায় নতুন প্রজন্মের যুবকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কবুতর পালন করে অনেকেই বেকারত্ব গুছিয়েছে। কবুতর পালনে সর্ব প্রকার সহযোগিতা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিশ্ব

অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বিশ্ব

ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দুর্ঘটনা

রাজধানীতে সড়কে ঝরলো ২ প্রাণ

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২


বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads