• মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
 টানা ২৫ বছর ধরে মাজারে রান্না করছেন আনোয়ার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়া শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ:) মাজার

টানা ২৫ বছর মাজারে রান্না করছেন আনোয়ার

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১০ আগস্ট ২০২২

অনেক মানুষ আওলিয়া, পীর দরবেশ সুফী সাধকের প্রতি ভক্তি বিশ্বাস হৃদয়ে স্থান দিয়ে চলতে চান। তারা শত বাধা বিপত্তি থাকলেও ওইসব ওলীদের মাজার শরীফে সময় দিতে চান। মো. আনোয়ার হোসেন (৪৭) এমন এক মাজার ভক্ত। তিনি টানা ২৫ বছর ধরে মাজারে (বাবুর্চি) রান্না কাজ করে আসছেন। এ কাজেই চলছে তার জীবিকা। আনোয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ:) একজন ভক্ত। ছোট বেলা থেকেই ছিল ওই ওলীর প্রতি অগাত বিশ্বাস। অগাধ ভক্তি বিশ্বাস আর ভালোবাসা থেকেই তিনি মাজারে আগত ভক্ত আশেকানদের খেদমতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন। তার হাতের রান্নার বেশ সুনামও রয়েছে।

আনোয়ার পৌর শহরের খড়মপুর এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে। বর্তমানে তার পরিবারে ১ ছেলে রয়েছে। ওলীর মাজারে থেকে ভক্ত আশেকানদের দিন রাত খেদমত করতে পেরে সে নিজেকে ধন্য মনে করছে।

আওলিয়া পীর দরবেশ আর সুফী সাধকের পবিত্র ভূমি আমাদের এই দেশ। ইসলাম প্রচারের জন্য পারস্য ইয়ামেন ও আরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওইসব লোকজন ভারতবর্ষের বিভিন্নস্থানে আসেন। এরমধ্যে হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী (রহ:) ইসলাম প্রচারের জন্য ৩৬০ আউলিয়া নিয়ে সিলেটে আসেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (রহ:)।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ছোট বেলা থেকেই তিনি হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ:) একজন ভক্ত । যখন তার বয়স ১২-১৩ বছর তখন তিনি নিয়ত করেন ওই ওলীর মাজারে একদিন বাবুর্চি হয়ে ভক্ত আশেকানদের দেখমত করার। ওলীর ওসিলায় ও আল্লাহর অশেষ রহমতে তা যেন কবুল হয়।

তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি ঢাকায় ক্যান্টনমেন্টে এক মেজরের অধিনে সেনাবাহিনীতে রান্নার কাজের চাকুরি পান। সেখানে বেশ কিছুদিন রান্নার কাজ করার পর কাউকে কিছু না বলে এক কাপড়ে সোজা তিনি খড়মপুর মাজারে চলে আসেন। ওই জায়গা থেকে কি ভাবে আসা হল তিনি কিছুই বলতে পারেন না। ওই জায়গায় থাকা অবস্থায় সার্বক্ষনিক মনটা অস্থির হয়ে থাকতো বলে জানায়। এরপর থেকে শুরু হয় মাজারের খেদমতে রান্না করার কাজ। এক পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এখানে প্রধান বাবুর্চি হন। আজও এখানে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি বলেন আমার কোন চাওয়া-পাওয়া নেই, মাজারের খেদমতে রান্নার কাজ করেই আনন্দ পাই। এখানে অগনিত ভক্ত আশেকানদের ভালোবাসায় আমার খুবই ভালো লাগে মনটা প্রফুল্ল থাকে। তাই যতদিন মাটির উপর আছি ততোদিন এই ওলীর মাজারে এ কাজ করে যেতে চাই। তার এ কাজে কোন চাহিদা বা চাওয়া নেই। খুশি হয়ে যা দেয় তাতেই তিনি সন্তুষ্ট রয়েছেন।

বাবুর্চি মো: আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, কল্লা বাবার ভক্ত আশেকানের খেদমতের কাজ ছাড়া তার কিছুই ভালো লাগে না। দৈনিক দুপুর ও রাতে দু’বেলা নিয়মিত খাবার রান্না করা হয়। দুপুরে এবং রাতে ভাত, মাংস আর সবজি পাক করা হয়। এ কাজে মোট ৩ জন বাবুর্চি, ৫ জন সহকারি এবং ৬-৭ জন নারী সদস্য রয়েছে।

তাছাড়া ওরশ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্ত আশেকানদের সমাগম বেশী হওয়ায় এ জন্য অন্ত:ত ২০-২৫ জন বাবুর্চি ৩০জন সহযোগি ও ২০-২৫ জন নারী সদস্য কাজ করেন। তিনি আরো বলেন আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভে আশায় এবং কল্লা বাবার ভক্তদের মুখে খাবার তুলে দিতে পেরে তিনি এ জন্য নিজেকে গর্বিত বলে দাবি করেন।

এমদাদ বাবুর্চি বলেন, উস্তাদ আনোয়ার বাবুর্চির সাথে তার এক টানা ১০ বছরের উপর চলছে এই মাজারে রান্না করার কাজ। রান্নার মাধ্যমে বক্তদের সেবা করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। যতদিন হায়াতে বেচে আছি ততদিন কেল্লা বাবার ভক্ত আশেকানদের মুখে রান্না করা খবার তুলে দিতে চাই। এখানে প্রতিটা দিন উৎসব মুখর পরিবেশ থাকায় কাজ করতে ভালো লাগে। তিনি আরো বলেন খাদেম ও ভক্ত আশেকানদের কোন বিবাহ, আকিকা ও সুন্নতে খৎনা, মৃত্যু বার্ষিকীসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে রান্নার প্রয়োজনে ডাকা হলে রান্নার কাজ করা হয়।

ঢাকা থেকে থেকে আসা মো: তাজুল ইসলাম বলেন, আমি এই মাজারের একজন ভক্ত। সময় সুযোগ হলে চলে আসি। যখনই আসা হয় এখানের তাবারক বা খাবার খাওয়া হয়। এখানের রান্না করা খাবার খুবই সুস্বাধু।

মো: ফারুক মিয়া বলেন, ওরশ উপলক্ষে এখানে আসা। আখেরী মোনাজাত শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এখানের তাবারক খুবই সুস্বাধু উপকারী।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম খাদেম (মিন্টু) বলেন, এই মাজারে দৈনিক দ’ুবেলা রান্নার করার জন্য ৩ জন বাবুর্চি ও বেশ কয়েকজন সহযোগি রয়েছে। মাজারের প্রধান বাবুর্চি আনোয়ার দক্ষতার সাথে দীর্ঘ বছর ধরে এখানে ভক্তদের খেদমতে কাজ করছেন। তার রান্না বেশ ভালো হওয়ায় সুনামের সাথে এ দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য ১০ আগস্ট শাহপীর কল্লা শহীদ (র:) সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ মোবারক শুরু হবে এবং ১৬ আগস্ট শেষ হবে। ১৪ আগস্ট বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত আশেকানরা আসতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

বিশ্ব

অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বিশ্ব

ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দুর্ঘটনা

রাজধানীতে সড়কে ঝরলো ২ প্রাণ

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২


বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads