• শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
বদলে যাচ্ছে মিরপুরের চিড়িয়াখানা

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

বদলে যাচ্ছে মিরপুরের চিড়িয়াখানা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

বদলে যাচ্ছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। এর খোল-নলচে পাল্টে দেওয়ার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রাণীদের আর খাঁচায় আবদ্ধ না রেখে সাফারি পার্কের মতো খোলা জায়গায় বিচরণের ব্যবস্থা করা হবে। এক প্রাণীর সঙ্গে আরেক প্রাণীর দূরত্ব থাকবে।

চিড়িয়াখানা সংস্কারের জন্য যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো শুরু হয়নি। আগামী অর্থবছরে সেটি শুরু হবে বলে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে আমাদের একটি প্রকল্প দরকার। প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করব। সেখানে একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হবে।

পরিচালক বলেন, চিড়িয়াখানাকে একেবারে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিকভাবে তৈরি করা হবে। এই চিড়িয়াখানা এমন হবে যে এটি দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে লোক আসবে আমাদের দেশে। এত বড় প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনাটি গত জুন মাসে শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, এটি আগামী অর্থবছরেই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, এই চিড়িয়াখানা আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। শিশু থেকে শুরু করে সবাই যেন আকৃষ্ট হয়, নিয়মিত দেখতে আসে, বিভিন্ন প্রাণিসম্পর্কে জানতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে প্রাণীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়নি। বেশির ভাগ প্রাণী জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের খাবার দিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দেখা গেছে চিড়িয়াখানায় কিছু খাঁচা ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে লেখা ‘মেরামত, সংস্কার ও জীবাণুমুক্তকরণের জন্য প্রাণী স্থানান্তর করা হয়েছে। সিংহের খাঁচায় দেখা যায় নিষ্প্রাণ হয়ে ঘুমাচ্ছে একটি সিংহ। শজারুর খাঁচায় একটিই শজারু ছিল। কোনো সঙ্গী না থাকায় তাকেও খাঁচার এক কোণে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বর মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এক কর্মশালায় বলেছিলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ দুটি চিড়িয়াখানাকে বিশ্বমানে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছি আমরা। মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, মহাপরিকল্পনায় আমাদের লক্ষ্য থাকবে বৃক্ষ নিধন নয় বরং বৃক্ষ স্থানান্তর করে সাফারি পার্কের আদলে প্রাণীদের জন্য উন্মুক্ত এলাকা তৈরি করা। চিড়িয়াখানায় আমরা সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। সৌন্দর্যের বিকাশ ও আধুনিকায়ন আমরা একই স্থানে নিয়ে আসতে চাই। যাতে চিড়িয়াখানায় এসে দর্শনার্থীরা প্রকৃতির মাঝে থাকার অনুভূতি পান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads