• মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৮

সারা দেশ

ভাইয়া সম্বোধন করায় সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে গেলেন কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 
ভাইয়া সম্বোধন করায় সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে গেলেন কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান। মহোদয়, সাহেব, জনাব কিংবা অন্য কোন সম্বোধন করার জন্য তিনি ওই সাংবাদিককে হুকুম দেন।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের খবরের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা রাশিদুল ইসলাম রাশেদ ত্রিমোহনী সাহা পাম্প থেকে পলাশবাড়ী সড়ক সংস্কার কাজের অনিয়মের বিষয়ে মুঠোফোনে প্রকৌলীকে ফোন দেন। এসময় ওই সাংবাদিক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভাইয়া সম্বোধন করলে তিনি রেগে যান। “বলেন—এলজিইডির একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে কিভাবে সম্বোধন করতে হয় এটাও জানেন না? অবশ্যই মহোদয়, সাহেব কিংবা অন্য কোন নামে সম্বোধনের জন্য হুকুম দেন তিনি" এছাড়া কোন ভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন? সম্বোধন কিভাবে করতে হয় তা শেখার জন্য ব্যাঙ্গাত্মকভাবে ওই সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন।
এ সময় ওই সাংবাদিক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানকে বলেন, আপনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের টাকায় বেতন খান আপনাকে কেন স্যার বলতে হবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন—“জনগণের টাকায় বেতন খাই তাতে সমস্যা কি? মহোদয় কিংবা সাহেব বা অন্য কিছু বলবেন। কিভাবে একজন এক্সিকিউটিভ অফিসারকে কি বলে এড্রেস করতে হয় তা শিখবেন আগে” এভাবেই সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান জেলার একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। তার চেম্বারে প্রবেশের জন্য আগাম অনুমতি নিতে বাধ্য করেন। তার চেম্বারে প্রবেশ করলেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তথ্য দিতেও বরাবরের মত অপারগতা প্রকাশ করেন।
একাধিক সাংবাদিক জানান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান কুড়িগ্রাম এলজিইডিকে নিজের পৈত্রিক বাড়ি মনে করেন। স্বাভাবিক ভদ্রতাও ভুলে গেছেন। পার্শ্ববর্তী জেলা রংপুরে বাড়ি হওয়ার সুবাদে প্রচন্ড প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। তাঁর এমন আচরণে আমরা অতিষ্ঠ।
বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যান বলেন, এই জেলার মানুষের সারল্যের সুযোগে জেলার প্রত্যেক সরকারি দফতরের কর্তারা যেন পেয়ে বসেন! তারা এখানে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেন।
সময় টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশা সৈকত বলেন, একজন সাংবাদিক তথ্যের জন্য ফোন দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে ভাই সম্বোধন করতেই পারে, এটা দোষের কিছু না। মহোদয় কিংবা সাহেব ভাষাগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে জনগণের দূরত্ব তৈরি করে। ভাই সম্বোধন করাই ভালো।
সিনিয়র সাংবাদিক ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজ বলেন, একজন সাংবাদিক কিংবা জনগণ কখনোই কোন সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার, মহোদয়, সাহেব এভাবে সম্বোধন করতে পারে না। তাদের সার্ভিস বইতে এমন নিয়ম নেই। যদি তিনি এভাবে বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি অতিরঞ্জিত বলেছেন। তাছাড়া কোন সংবিধানেও বলা নেই যে তাদেরকে স্যার বলতে হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি মোঃ মাসুম বিল্লাহ জানান, প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারী প্রজাতন্ত্রের গোলাম। জনগণ তাদরকে স্যার বলতে বাধ্য নয়, বরং তারা জনগনকে স্যার বলতে বাধ্য। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দাম্ভিক আছরণ নিশ্চিতভাবে সংবিধান পরিপন্থী।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads