• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪২৯

সারা দেশ

যে কারণে ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল

  • ''
  • প্রকাশিত ১০ জুলাই ২০২৪

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

ডার্ক ওয়েভ ব্যবহার করে হিটম্যান নেটওয়ার্ক নামে সাইটে ভারতীয় একটি গল্প অনুকরণে টাকা আত্মসাতের জন্য হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তার জীবনের উপর হুমকি আছে মর্মে বিভিন্ন ভিডিওতে প্রকাশ করেন মো. সোহাগ মিয়া (২৭)। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে সিলেট মহানগর এলাকা থেকে ক্রাইম টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে। বুধবার (১০ জুলাই) বেলা ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান। গ্রেফতার সোহাগ মিয়া মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মো. মন্তাজ মিয়ার ছেলে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান- ২০১১ সালে কাজের জন্য বিদেশ যায় সোহাগ মিয়া। ২০১৮ সালে দেশে আসে। দেশে আসার পর কতিপয় দালালের সাথে যোগাযোগ করে তার এলাকার ১২ জন লোককে পর্তুগাল পাঠাবে বলে প্রতিজনের নিকট হতে ৮/১০ লাখ করে টাকা নিয়ে দালালকে প্রদান করেও তাদের বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিদেশ গমনেচ্ছুকের চাপে সোহাগ মিয়া তাদের টাকা দিতে না পেরে পালিয়ে ভারতে চলে যায় এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করে দেশে ফেরত আসে। তারপর সে আর্থিক অভাব-অনটনের দূর করতে হ্যাকার হওয়ার চেষ্ঠা করে এবং ইন্টারনেট হতে হ্যাকিং এর বিষয়ে ধারনা নিতে গিয়ে ডার্ক ওয়েব এর সাথে পরিচিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সে ইউএসএ’র ভিপিএন অ্যাপস ডাউনলোড করে এবং এর মাধ্যমে ডার্ক ওয়েব সাইট ব্যবহার করে হিটম্যান নেটওয়ার্ক লিংকসহ বিভিন্ন সাইটে প্রবেশ করে। হিটম্যান নেটওয়ার্ক সাইটে প্রবেশ করার পর সে ভারতীয় একটি গল্প পড়ে। যাতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তার জীবনের হুমকি আছে মর্মে তথ্য দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়টি তার নজরে আসে। কিছুদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধবপুর-চুনারুঘাট এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তার জীবনের উপর হুমকি আছে মর্মে বিভিন্ন ভিডিওতে প্রকাশ করে।

পুলিশ সুপার জানান- সোহাগ মিয়া হিটম্যান নেটওয়ার্ক সাইটে ওই গল্পের আঙ্গিকে ব্যারিস্টার সুমনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করবে। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমন কিংবা তার ব্যক্তিগত সহকারীর মোবাইল নাম্বার তার কাছে না থাকায় সে স্থানীয় চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারী মোবাইল নাম্বারে হোয়াটস্অ্যাপে যোগাযোগ করে এবং সে ব্যারিস্টার সুমন সাহেবের সাথে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্য ওসিকে অনুরোধ করেন।

সোহাগ মিয়ার উদ্দেশ্য ছিল ব্যারিস্টার সুমন কিংবা তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে কিলিং মিশনের সদস্যদের সম্পর্কে তার কাছে তথ্য চাইবে। তখন সে তথ্য প্রদানের বাহানা করে ব্যারিস্টার সুমন সাহেবের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবী করবে। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমনকে বিষয়টি জানানোর পরদিন তিনি এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে এর প্রতিকার চান ও থানায় জিডি করেন। তখন সে ভয় পেয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। যখন সে বুঝতে পারে তাকে কেউ ট্র্যাক করছে তখন সে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে চলে আসে। মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ ও সিটিটিসি ঢাকার সমন্বয়ে তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা হতে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন- এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানায় সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা হবে। এছাড়াও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মো. সোয়েব মিয়ার একটি প্রতারণা মামলায় সোহাগ মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হকের নিরাপত্তার বিষয়টি যতদিন থাকবে, ততদিন গানম্যান নিযুক্ত থাকবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) আমিনুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার (চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেল) নির্মলেন্দু ও চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিল্লোল রায় প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads