• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮
টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতল বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতল বাংলাদেশ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ জুলাই ২০২১

জয়, জয় আর জয়! তিন সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ দল এবারের জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করল।   তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কঠিন লড়াই করে টাইগাররা ৫ উইকেটে স্বাগতিক দলকে পরাজিত করে। আজ রোববার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। জবাবে সফরকারী দল বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৪ রান করে। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ রানে জিতে সিরিজে সমতা আনে জিম্বাবুয়ে দল। ফলে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সফরকারী দল। এর আগে বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে ২২০ রানে জয়লাভ করে। আর ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে জিম্বাবুয়েকে। সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে আসন্ন বিশ্বকাপের দারুণ মহড়া দিল বাংলাদেশ।

বিজয়ী দলের সৌম্য সরকার ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ও ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৪ রানের বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ২০ রানের সময় নাইম (৩) মুজারাবানির শিকারে পরিণত হন। এরপর দলীয় ৭০ রানে সাকিব আল হাসান আউট হন। তিনি করেন ১৩ বলে ২৫ রান। সৌম্য সরকার দারুণ খেলে মূল্যবান ৬৮ রান করে দলীয় ১৩৩ রানের সময় ফিরে যান। তিনি ঐ রান করেন ৯টি চার ও ১টি ছয়ে। দলীয় ১৫০ রানের সময় আউট হন আফিফ হোসেন। তিনি করেন ৫ বলে ১৪ রান।  মাহমুদউল্লাহ ২৮ বলে ৩৪ রানে আউট হলেও শামীম হোসেন মাত্র ১৫ বলে ৬টি চারে অপরাজিত ৩১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে মাধভেরে করেন ৩৬ বলে সর্বোচ্চ ৫৪, চাকাভার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৪৮। মাত্র ১৫ বলে ৩১ করেন বার্ল। বোলারদের মার খাওয়ার দিনে ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার সৌম্য সরকার।

জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার টাডিওয়ানশে মারুমানি আর ওয়েসলি মাধভেরে আনেন উড়ন্ত শুরু। মেরে খেলার অ্যাপ্রোচ দেখান প্রথম বল থেকেই। পুরো সিরিজে ব্যর্থ মারুমানি এদিন দেখান ছন্দ।

আগের ম্যাচে ফিফটি করে স্বাগতিকদের নায়ক মাধভেরেও হন আগ্রাসী। তাসকিন আহমেদের চতুর্থ ওভারের প্রথম পাঁচ বল থেকেই বাউন্ডারি আদায় করে দেন তিনি। মারুমানি শরিফুল ইসলামকে ছক্কায় উড়ানোর পর সাইফুদ্দিনকেও পুল করে ছক্কা মারেন। পাওয়ার প্লের একদম শেষ বলে গিয়ে সাইফুদ্দিনের ইয়র্কারে বোল্ড হয়েছেন তিনি। তবে বোর্ডে ৬৩ রান এসে যাওয়ায় জিম্বাবুয়ের তাতে অস্বস্তির কারণ ছিল না। ২০ বলে ২৭ রানের শুরু দিয়ে যান বাঁহাতি মারুমানি। অন্য প্রান্তে তখন মাত্র ১৬ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মাধভেরে।

মাধভেরে চলতে থাকেন একই তালে। তার সঙ্গে মিলে রেজিস চাকাভাও তোলেন ঝড়। ১০ ওভারের আগেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৯ বলেই জুটিতে আসে ৫২।

একাদশ ওভারে নাসুমকে তিন বলে তিন ছয়ে উড়ান চাকাভা। ওই ওভারে আসে ২১ রান। পরের ওভারেই দারুণ দলীয় চেষ্টায় চাকাভাকে ফেরায় বাংলাদেশ।

সৌম্যর বলে আবার উড়িয়েছিলেন তিনি। বাউন্ডারি লাইনে নাঈম শেখে বল ধরে রাখেন বৃত্তের ভেতর। কাছে থাকা শামীম পাটোয়ারী ধরেন ক্যাচ। মাত্র ২২ বলে ৬ ছক্কায় ৪৮ করে ফেরেন জিম্বাবুয়ের হয়ে পুরো সিরিজে আলো ছড়ানো চাকাভা।

ওই ওভারেই আসে আরেক সাফল্য। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকেও বোল্ড করে দেন সৌম্য। মাধেভেরে ৩১ বলে তুলে নেন ফিফটি। নিজের শেষ ওভারে এসে মাধভেরেকে ফেরান সাকিব।

প্রথম দিকে রানের যে স্রোত ছিল, শেষ দিকে তা কিছুটা থেমে আসে। দারুণ বল করে রাশ টেনে ধরেন শরিফুল। তবে সাইফুদ্দিনের ওভার থেকে ঠিকই বেরিয়ে যায় রান। ১৭তম ওভার থেকে আবার চলে আসে ১৯ রান। কিছুটা সময় নিয়ে থিতু হওয়া ডিওন মেয়ার্সকে ১৯তম ওভারে ফেরান শরিফুল।

ওই ওভারে লুক জঙ্গুইকে বেঁধে রেখে মাত্র ১ রান দেন শরিফুল। কিন্তু শেষ ওভারে আবার খরুচে সাইফুদ্দিন। তার কাছ থেকে বেরিয়ে যায় ১৪ রান। জিম্বাবুয়ে চলে যায় দুইশ’র কিনারে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads