• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
জিম্বাবুয়েতে লাল-সবুজের পতাকা

সংগৃহীত ছবি

ক্রিকেট

জিম্বাবুয়েতে লাল-সবুজের পতাকা

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০২১

টেস্ট সিরিজ জয়! ওয়ানডে সিরিজ জয়!! টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়!!! স্বাগতিক ছিল আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে আর সফরকারী দল এশিয়ার বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাটে মোট ৭টি ম্যাচের ৬টিতেই জয় টাইগারদের। অপূর্ব সাফল্য, লাল-সবুজ পতাকাধারীদের জিম্বাবুয়ে জয়। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সিরিজ লাভ করে বাংলাদেশ দল এবারের জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করল। ২৫ জুলাই তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কঠিন লড়াই করে টাইগাররা ৫ উইকেটে স্বাগতিক দলকে পরাজিত করে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। জবাবে সফরকারী দল বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৪ রান করে। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ রানে জিতে সিরিজে সমতা আনে জিম্বাবুয়ে দল। ফলে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সফরকারী দল।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সীমাহীন উপদ্রবের মধ্যে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে আরো একটি ক্রিকেট সিরিজে পরস্পরের মুখোমুখি হলো। সফরের প্রথমে বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। আর ওয়ানডে সিরিজে ১৫৫ রান, ৩ উইকেট ও ৫ উইকেটে জিতে হোয়াইটওয়াশ করে জিম্বাবুয়েকে। সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দারুণ মহড়া দিল বাংলাদেশ।

২০০১ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ১৮টি টেস্ট ম্যাচে পরস্পরের মোকাবিলা করেছে। টেস্ট সাফল্যের হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের তুলনায়। বাংলাদেশ ৮টি এবং জিম্বাবুয়ে ৭টি টেস্ট ম্যাচে জিতেছে। বাকি ৩টি টেস্ট ম্যাচ ড্র হয়েছে। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের মাটিতে ২টি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে। বাংলাদেশও ২টি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে জিম্বাবুয়ের মাটিতে। ওয়ানডেতে ১৯৯৭ থেকে এবারের সফর পর্যন্ত বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে মোট ৭৮টি ম্যাচ খেলেছে। তাতে বাংলাদেশ ৫০টিতে জিতেছে এবং হেরেছে ২৮টিতে। বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে ৩৩টি ম্যাচে। আর ১৬টি ম্যাচ জিতেছে জিম্বাবুয়ের মাটিতে। ১টি ম্যাচ জিতেছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। জিম্বাবুয়ে নিজেদের মাটিতে ১৭টি ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাকি ১১টি ম্যাচ তারা জিতেছে বাংলাদেশের মাটিতে। ওয়ানডেতে এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের মাটিতে বেশি জিতেছে। তাছাড়া সর্বশেষ ১৯টি ম্যাচই জিতেছে বাংলাদেশ পরস্পরের মোকাবিলায়। এটাই বাংলাদেশের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। প্রমাণ হলো; বাংলাদেশ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব। টি-টোয়েন্টিতে ১৬টি ম্যাচে বাংলাদেশ মোট জিতেছে ১১টিতে। আর হেরেছে মাত্র ৫টিতে। এই ১১টির মধ্যে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে ৩টি ম্যাচে জিতেছে। বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে বাকি ৮টিতে জিতেছে। আর জিম্বাবুয়ে নিজেদের মাটিতে ২টিতে জিতেছে। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের মাটিতে জিতেছে বাকি ৩টিতে। এক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ সমানে সমান। এবার সিরিজ জিতলেও, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের অন্যান্য দলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ দশম স্থানে রয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ড শীর্ষে, ভারত দুইয়ে, নিউজিল্যান্ড তিনে, পাকিস্তান চারে, অস্ট্রেলিয়া পাঁচে, দক্ষিণ আফ্রিকা ছয়ে, আফগানিস্তান সাতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটে, শ্রীলঙ্কা নয়ে রয়েছে। 

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে প্রবেশ করেছে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে। বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে ১৯৯৭ সালে। জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক আগে থেকে। তারা ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলেছে। ঐ বিশ্বকাপ দিয়েই জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে অভিষেক ঘটে, যেখানে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৯৯ সালে। আর বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করেছে ২০০০ সালে। আবার জিম্বাবুয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে বাংলাদেশের তুলনায় ৮ বছর আগে ১৯৯২ সালে। বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে ২০০০ সালে। আর জিম্বাবুয়ে প্রথম  টেস্ট ম্যাচ খেলে ১৯৯২ সালে। টি-টোয়েন্টি খেলছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ঠিক একই সময় থেকে। ২০০৬ সালে খুলনায় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। ঐ ম্যাচে উভয় দলেরই টি-টোয়েন্টি অভিষেক ঘটে। যাহোক, টি-টোয়েন্টি ছাড়া বাকি দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অভিজ্ঞ। কিন্তু সাফল্যের বিচারে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে পরস্পরের বিপক্ষে ১১২টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৬৯টিতে জিতেছে। সেখানে জিম্বাবুয়ে জিতেছে ৪০টি ম্যাচ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এবারের জিম্বাবুয়ে সফর দারুণ সফল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের কোনোটাতেই টাইগাররা ছাড় দেয়নি আফ্রিকান দলটিকে। এভাবে তিন ফরম্যাটের প্রতিটি সিরিজই লাভ করেছে বাংলাদেশ অসাধারণ ক্রিকেট খেলে। যেই ক্রিকেট বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশকে আলাদাভাবে পরিচিতি এনে দিয়েছে, সেই ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম সোনালি অক্ষরে খোদাই করার দিকে নিয়ে গেল। আর আমরা বাংলাদেশি হিসেবে হলাম গর্বিত। অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা জাতি আমরা। এবার প্রমাণ হলো, ব্যাটে-বলে লড়াই করেও আমরা বিজয়ীর হাসি হাসতে পারি। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, মোস্তাফিজ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাইফুউদ্দিন, শামীম পাটোয়ারীরা জিম্বাবুয়ের মাটিতে এমন সাফল্যের পেছনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে সমীহ দেখাতে বাধ্য হবে অন্যান্য দেশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads