• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৪ জৈষ্ঠ ১৪২৮

নির্বাচন

হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দু’ মেয়রই

  • মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ, চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২১

অনেক জল্পনা কল্পনা থাকলেও শেষ মূহুর্তের জমজমাট প্রচারণায় জমে উঠেছে হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নির্বাচনি প্রচারণা। চাঁদপুর জেলার ব্যবসায়ীক রাজধানীখ্যাত ৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হাজীগঞ্জ। “ক” শ্রেণির এ পৌরসভায় মেয়র পদে এবার ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত এবং পৌরবাসীর দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ভোটগ্রহণ। এনালগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ভোট নিয়ে সব বয়সের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। সব মিলিয়ে সরগরম হাজীগঞ্জের তৃণমূলের রাজনীতি। হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ২ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫২ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩শ ৪৮জন।। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২২হাজার ৯৫৫ জন এবং মহিলা ভোটার ২২ হাজার ৯৩৩ জন।

সরেজমিনে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় এখন নির্বাচনি হাওয়া বইছে। প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটিয়ে, ব্যানার টানিয়ে ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি মাঠে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার খবর জানাচ্ছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলাচ্ছেন জোর প্রচার-প্রচারণা। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানও জমে উঠেছে নির্বাচনি আলোচনায়।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২জন হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র আ. স. ম মাহবুব-উল আলম লিপন (নৌকা), বিএনপি মনোনীত হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ¦ আবদুল মান্নান খান বাচ্চু (ধানের শীষ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

হাজীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সেই মতবিরোধ এখন আর চোখে পড়ছে না। দলের হাই কমান্ড এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের। ফলে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী করোনাকালিন সময়ে জনগণের সেবা করে নজরকাড়া, বর্তমান মেয়র আ. স. ম. মাহবুব-উল আলম লিপন ও তার সমর্থকেরা। করছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মীসভা, দিচ্ছেন আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি। দিন রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন সমর্থকরা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ. স. ম. মাহবুব উল আলম লিপন বলেন, আমি গত ৫ বছর হাজীগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ণে কাজ করেছি। একটি টাকাও দুর্নীতি করিনি। কেউ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও করতে পারেনি। দায়িত্বে থাকাকালে আমি সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। গরীব এবং মেহনতি মানুষের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, করোনাকালিন সময়ে নিজের জীবনবাজি রেখে মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। তাই হাজীগঞ্জ পৌরসভার ভোটারগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

এদিকে, বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে রয়েছে চরম মতবিরোধ। গত ১২ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের ওয়ারেন্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে ছাত্রদলের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের ১০৯জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ পূর্বক ও ৬০/৭০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করে। কিছুটা বিপাকে পড়ে বিএনপি তবে জামিনে এসে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে না নামলেও ভিন্ন ভিন্নভাবে দু’গ্রুপই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর এক গ্রুপে প্রচারণা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হক অন্য গ্রুপে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিক্ষাবিদ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৌরসভার প্রতিটি ঘরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সালাম পৌঁছে দিচ্ছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানায়, দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ধানের শীষ প্রতিকের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নামবে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাজীঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল মান্নান খান প্রশাসনের কাছে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা দাবী করে বলেন, জনগণ ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী লাভ করবে। মানুষ যেনো ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি বৃদ্ধ বয়সে শুধুমাত্র পৌরবাসির চাপের কারণে নির্বাচন করছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয় হবো।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) জানান, হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ২০ কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রার্থীদের সমন্বয় থাকলে কোননো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ থাকবেনা। আমারা সকলের সমন্বয়ে সুষ্ঠু, সুন্দর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। যেকোন উদ্ভুট পরিস্থিতিতে আমরা কঠোর হবো। তিনি বলেন, পৌরসভার প্রতি ৩টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্র ২০টি। ভোট কক্ষ ১২৮টি এবং অস্থায়ী ভোট কক্ষ ১৯টি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads