• বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৯ হাজার, ১৪ বহিষ্কার

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা

প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৯ হাজার, ১৪ বহিষ্কার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০২১

করোনা মহামারির কারণে গতবছর অনুষ্ঠিত হয়নি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। একই কারণে এ বছরও ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা গড়িয়েছে চলতি নভেম্বরে। গতকাল থেকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে শুরু হওয়া এই পরীক্ষার ব্যপ্তি মাত্র দেড় ঘণ্টা। একই সঙ্গে, প্রশ্নপত্রও সংক্ষিপ্ত করা হয়। ২৫ এমসিকিউর মধ্যে মাত্র ১২টার উত্তর করতে হয়েছে। একারণে পরীক্ষা শেষে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে, কারো মধ্যে আবার পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় হতাশার ছাপও দেখা যায়। 

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও করোনার কারণে দেড় বছর শিক্ষাপ্রতষ্ঠান বন্ধ ছিল। গতকাল নয়টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের এসএসসি। পরীক্ষার প্রথম দিন ঢাকা শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া, পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের জন্য ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ৪২৩টি কেন্দ্রে এক লাখ ২৮ হাজার ৮০৭ জন অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও এদিন এক লাখ ২৭ হাজার ৯২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হয়নি। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ২০৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩৩৭ জনের মধ্যে ২৮ হাজার ১৪৩ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এদিন ১৯৪ জন পরীক্ষা কেন্দ্র যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে জানা গেছে।

অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল দুই লাখ ৫৯ হাজার ৪৭৭ জন। অনুপস্থিত ছিল নয় হাজার ৮৯৪ জন। অনুপস্থিতির হার ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এদিন অসাধুপন্থা অবলম্বন করায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও করোনার কারণে এ বছর দীর্ঘ প্রায় নয় মাস অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। করোনা সংক্রমণ কমে আসলে পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষায় বসলো শিক্ষার্থীরা।

মহামারির কারণে এবারের এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে ভিন্ন আমেজে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কেন্দ্রে।

এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১৮ লাখ ৯৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ এক হাজার ৮৮৭ জন, এসএসসি (ভোকেশনাল) এক লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আটটি দেশে ৪২৯ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। দেশের বাইরে এ বছর নয়টি কেন্দ্র- জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবি, দুবাই, বাহরাইন, ওমানের সাহাম ও গ্রিসের এথেন্সে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানীর দিলুরোড প্রভাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, এমসিকিউর (নৈর্ব্যক্তিক) প্রশ্ন ছিল খুবই কঠিন। এতোদিন পর পরীক্ষা হলো, করোনার কারণে মানসিকভাবে কিছুটা চাপে ছিলাম। আমাদের ক্লাসের অনেকেই এমসিকিউ টিক দিতে পারেনি। মানিকনগর ক্রিয়েটিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষা খুব ভালো হয়নি, আবার খারাপও হয়নি। মোটামুটি হয়েছে। আগের তুলনায় সময়টা দেওয়া হয়েছে কম। শিক্ষকদের উচিত ছিল আমাদের আরেকটু সময় দেওয়া।

তবে, প্রশ্নপত্র নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীর এমন নেতিবাচক মন্তব্য থাকলেও অনেকেই বলেছেন, ২৫ এমসিকিউর মধ্যে ১২টা দিতে হবে এরকম সুযোগ আর নাও আসতে পারে। এ ব্যাপারে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, এমন সুযোগ আর পাবো বলে মনে হয় না। সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। ইস্পাহানী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষা ভালো হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়েছি, তাই একটু চিন্তিত ছিলাম। তবে ভালো দিয়েছি।

একাধিক অভিভাবক জানান, অনেক দিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্লাস না হওয়ায় প্রস্তুতিটা মোটামুটিভাবে নিতে পেরেছিল শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads