• শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৮

শিক্ষা

সিংগাইরের এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

বিপাকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা!

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

সাইফুল ইসলাম, সিংগাইর প্রতিনিধি:
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মানিকগঞ্জ সিংগাইরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী র অভিভাবকরা।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম নজরুল ইসলাম কৌশলে এ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
"বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে মহামান্য হাইকোর্টের সুয়োমোটো রুল ২৫/২০১৪ মোতাবেক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" শিক্ষা বোর্ডের এমন হুঁশিয়ারি কে তোয়াক্কা না করে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে , এসএসসির ফরম পূরনের সময় স্কুলের কোচিং ফি বাবদ তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া নির্বাচনি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এক বিষয়ে এজ হাজার টাকা, দুই বিষয়ে তিন হাজার টাকা, তিন বিষয়ে পাঁচ হাজার টাকা এবং চার বিষয়ে ১২ হাজার টাকা পর্যন্তও আদায় করা হচ্ছে। এমনকি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে না রসিদ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা সর্বশান্ত হচ্ছেন।
২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র ফি সহ ২ হাজার ১৪০ টাকা। ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ২০ টাকা। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন মোটা অংকের টাকা।
জানা গেছে, চলতি বছর এ স্কুল থেকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ২৪২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
এ ব্যাপারে অভিভাবক সদস্য ইসরাফিল অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আমি কোন বক্তব্য দিবোনা সব কিছু হেড স্যার জানেন আপনি ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।
সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম. নজরুল ইসলাম অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্কুলে শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য স্যারদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় তাই কোচিং ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাদের সামর্থ নেই তাদের কোচিং ফি দিতে হয় না। বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে টাকা নেওয়া হয়েছে এটা জামানত ফেরৎ যোগ্য। এসব টাকা আদায়ের জন্য কোনও রেজুলেশন করা হয়নি। রসিদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফরম পূরণকালে শিক্ষার্থীদের বোর্ডের টাকার মানি রিসিট দিয়েছি। অতিরিক্ত কোনো রসিদ দেইনি এটা সত্য। তবে এখন থেকে সবাইকে রসিদ দেয়া হবে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিইও) রেবেকা জাহান জানান, আসলে এগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলতে পারবেন। তাছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি'র বাইরে একটি টাকাও নিতে পারবেনা। এধরনের লিখিত অভিযোগ পেলে স্কুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads