• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
‘আমরা ইউক্রেন আক্রমণ করিনি’

সংগৃহীত ছবি

ইউরোপ

‘আমরা ইউক্রেন আক্রমণ করিনি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ জুন ২০২২

ইউক্রেনে প্রথম আক্রমণ রাশিয়া করেনি- এমন মন্তব্য করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গতকাল বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ওই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা ইউক্রেনে আক্রমণ করিনি। আমরা একটি বিশেষ সামরিক অভিযান ঘোষণা করেছি কারণ এছাড়া আমাদের পশ্চিমাদের বোঝানোর কোনো উপায় ছিল না যে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে টেনে আনা একটি অপরাধমূলক কাজ।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর খুব কমই পশ্চিমা গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ল্যাভরভ। তিনি সব সময় ক্রেমলিনের দাবিকেই বারবার তুলে ধরেছেন যে ইউক্রেনে নাৎসি ছিল। রুশ কর্মকর্তারা শুরু থেকেই বলে আসছেন, তারা ইউক্রেনকে নব্য নাৎসি থেকে মুক্ত করছেন।

এর আগেও ল্যাভরভ দাবি করেছিলেন, ইহুদি রক্ত দেখিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কি নব্য নাৎসি স্লোগানকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছেন। হিটলারেরও ইহুদি রক্ত ছিল। তবে সে সময় তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ইহুদি সংগঠন ও ইসরাইল রাশিয়াকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানায়। তবে বিবিসির সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, রাশিয়া যেমন, বিশ্ববাসীকেও তেমন রাশিয়া দেখাতে রাশিয়া লজ্জিত নয়।

একই সঙ্গে তিনি বিবিসিরও সমালোচনা করেছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে রুশ ভাষাভাষীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইউক্রেন কী করেছে, সে বিষয়ে কোনো আগ্রহই দেখায়নি সংবাদমাধ্যমটি।

যুক্তরাজ্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ল্যাভরভ বলেন, আমি মনে করি না আর কোনো কৌশল করার দরকার আছে। কারণ জনসন (প্রধানমন্ত্রী) ও ট্রাস (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) উভয়ই বলেছেন, আমাদের রাশিয়াকে হারাতে হবে। রাশিয়াকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা উচিত।

এছাড়া তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের নেতারা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের জন্য জনগণের স্বার্থকে বিসর্জন দিচ্ছেন।

৭২ বছর বয়সী সের্গেই ল্যাভরভ ১৮ বছর ধরে বিশ্বে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের কারণে ল্যাভরভ ও তার মেয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমারা।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের চার মাস হতে চলল। পশ্চিমাদের দাবি রুশ আক্রমণে ইউক্রেনে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন, শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

ডোনবাসের বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যৌন সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে দাবি করে তা বন্ধ করতে বলেছে কয়েকটি দেশ। স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ দাবি করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা।

যুদ্ধ করতে গিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ধর্ষণসহ নানা ধরনের সহিংসতা চালাচ্ছে বলে প্রায়ই খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এ তথ্য ঠিক নয় বলে উল্টো দাবি করেছে রাশিয়া।

আলবেনিয়ার আয়োজনে জাতিসংঘের ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, রাশিয়াকে ধর্ষণ, সহিংসতা এগুলো থামাতে হবে। ইউক্রেনের মানুষের ওপর রাশিয়ার এই হামলা বন্ধ করতে হবে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লেস মিশেল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই অপরাধের শাস্তি পেতেই হবে। সহিংসতার পেছনে দায়ী যারা, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের দূত জেমস কারিউকি বলেন, ধর্ষণ ও যৌন হেনস্তাসহ নানা ধরনের সহিংসতা চলছে ইউক্রেনে। রাশিয়ার সেনাদের দ্বারা এসব ঘটনা ঘটছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

এছাড়া, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার রকেট সরবরাহ করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। তখন রাশিয়ার হুমকি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও ইউক্রেনে দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে গত ৬ জুন বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বলছে, তারা ইউক্রেনে এমটুসেভেনজিরো দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম সরবরাহ করবে। ৮০ কিলোমিটার দূরেও এই রকেট সিস্টেম আঘাত হানতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন রাশিয়ার কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম হিমারস সরবরাহ করছে। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের লঞ্চারগুলো ব্যবহার করতে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এর আগে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনীয় সেনাদের সাঁজোয়া যান চালানোরও প্রশিক্ষণ দেবে বলে জানিয়েছিল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, যে লক্ষ্যবস্তুতে আমরা এখনও আঘাত করিনি, সেগুলোতে নিজেদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মস্কো এর উপযুক্ত সমাপ্তিই ঘটাবে।

ভ্লাদিমির পুতিন নতুন লক্ষ্যবস্তু বলতে কোন স্থাপনাগুলোকে বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।

পুতিনের মতে, ইউক্রেনকে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহ করার উদ্দেশ্যই হলো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা। এদিকে মস্কো দাবি করেছে, কিয়েভে নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটির ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ছেড়েছেন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউক্রেনে চলছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান। এমন অবস্থায় রুশ অভিযানের শুরুতেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপদে দেশত্যাগের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে পরিবার নিয়ে কিয়েভেই অবস্থান করেন এবং রুশ সামরিক অভিযান প্রতিহতের ঘোষণা দেন।

এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে বিভিন্ন রাশিয়ার সাইটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে একটি খবর ভাইরাল হয়। যেখানে দাবি করা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বড় মেয়ে ওলেকসান্দ্রা জেলেনস্কা পোল্যান্ডে পালিয়ে গেছেন। তিনি তার বাবাকে ঘৃণা করেন এবং তার সঙ্গে জেলেনস্কার মতবিরোধও রয়েছে। তিনি তার বাবাকে নাৎসি বলছেন এবং ইউক্রেনীয় হতাহতের জন্য বাবা জেলেনস্কিকেই দায়ী করে তাকে ইউক্রেনীয়দের খুনি বলছেন। তার একটি ক্রন্দনরত ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল ছবিটিকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এই ছবিটি একটি ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে, যা ২০১৭ সালের আগস্টের ২৪ তারিখে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছিল। এতে স্পষ্ট হয় এই ছবিটি কোনোভাবেই চলতি রুশ সামরিক অভিযানের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। এখন আরেকটি প্রশ্ন হলো, ভিডিওর মেয়েটি কী ওলেকসান্দ্রা জেলেনস্কা? এর উত্তরও না। ভিডিওতে পাওয়া ক্রন্দনরত নারী প্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৭ সালে ওলেকসান্দ্রা জেলেনস্কার বয়স ছিল ১১ বছর। অর্থাৎ এটি কোনোভাবেই জেলেনস্কার ভিডিও নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রুশ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জেলেনস্কির মেয়ের পোল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার সংবাদটি আসলে ভুয়া খবর।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads