• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

ফ্যাশন

একুশের রঙে মিশে

  • অরণ্য সৌরভ
  • প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

একুশ বাঙালি জাতির অহংকার। এ উপলক্ষে বসনে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের বিভিন্ন থিম ও মোটিফ তুলে ধরেছেন ডিজাইনাররা। পোশাকে এবার বর্ণমালা, মানচিত্র, শহীদ মিনার, পতাকাসহ ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন উপাদান প্রাধান্য পেয়েছে। জানাচ্ছেন—অরণ্য সৌরভ

 

মন-মনন ও অন্তরের সীমানা পেরিয়ে দেশপ্রেম মূর্ত হয়ে উঠেছে প্রতি মুহূর্তে। যার ফলে মাতৃভূমির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম আর রূপে-রঙে নিজেদের সাজাতে চাই আপাদমস্তক। সেজন্য অমর একুশের দিনে, বসনেও চাই একুশের চেতনা। মন ও মননের পাশাপাশি এভাবেই পোশাকও আজ বহন করছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, লড়াই আর জাতির বাঙালিয়ানা। ‘তোমার অশোকে কিংশুকে, অলক্ষ্য রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে’ রবিঠাকুরের এই বাণী যেন বাঙালি জাতির অমর একুশে ফেব্রুয়ারির শোক ও শ্রদ্ধার প্রতীক সাদা-কালো রঙের কথাই ইঙ্গিত করে। একুশ মানেই বাংলা ভাষার জয়গান পৃথিবীর সকল ভাষার মানুষের মুখে। পোশাক অলংকরণে চেতনার অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে বাংলা বর্ণমালা। শোককে শক্তিতে পরিণত করে শ্রদ্ধা ও গৌরবের এ দিনটি পালনে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও একুশের চেতনা পোশাকে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন বুটিক হাউস একুশকে প্রতিপাদ্য করে তৈরি করছে নতুন নতুন ডিজাইনের সব পোশাক। এসব পোশাকের রং, কাপড়, থিম, মোটিফ, নকশা ও ডিজাইনে ভাষা আন্দোলনের চেতনা প্রাধান্য পেয়েছে।

অনলাইন ফ্যাশন হাউস বটতলার কর্ণধার মাহমুদা রশীদ লতা বলেন, ‘বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। বহু আত্মত্যাগের পর পেয়েছি মধুর এই ভাষা। বাংলার নারীর সাথে শাড়ি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেকোনো দিবস বা উৎসবের প্রধান পোশাক শাড়ি। শাড়িতে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে ধারণের প্রচেষ্টা করেছে বটতলা। শাড়ির মতো প্রতিটি মানুষ একুশকে অন্তরে ধারণ করবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। বটতলার একুশের শাড়িতে বর্ণমালা মোটিফে কালো রঙে জলছাপ প্রাধান্য পেয়েছে। হাফসিল্ক শাড়িতে কাঠব্লকে গভীর শোক জানিয়েছে বটতলা।’

যাদুর বাক্সের কর্ণধার মেহবুব জাদু বলেন, ‘একুশের পোশাকে বাংলা অক্ষর নকশায় প্রাধান্য দিয়েছি। সাদা ও কালো রঙের কাপড়ের ওপর ক্যালিওগ্রাফি ব্যবহার করে এবার এনেছি শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ প্রভৃতি। যারা লেখা প্রিন্টের কাপড় পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, তাদের জন্য ব্লক প্রিন্টের শাড়ি, পাঞ্জাবি এনেছি।’

ডিজাইনের ক্ষেত্রে পোশাকের প্যাটার্ন, নকশায় পরিমার্জিত এবং ছিমছাম ডিজাইনের দিকে নজর দিয়েছে যাদুর বাক্স। শাড়ির ক্ষেত্রে হাফসিল্ক শাড়ি, এন্ডি কটন শাড়ি, তাঁতের শাড়ি এবং পাঞ্জাবি ও কামিজে খাদি ও কটন কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে যাদুর বাক্সের পোশাকে। ডিজাইনে স্কিন প্রিন্ট ও ব্লক প্রিন্ট পেয়েছে প্রাধান্য।

বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘পবিত্রতা, শুদ্ধতা ও শ্রদ্ধার রং সাদা। অশুভ বা শোকের রং হিসেবে কালোকে বিবেচনা করি আমরা। কিন্তু এটিও সত্য যে, কালো ছাড়া গভীরতা অনুধাবন করা যায় না। তাই কালোর গুরুত্ব অবহেলা করার সুযোগ নেই। সাদা আর কালোর মিশেলেই প্রকাশ পায় বিনম্র শ্রদ্ধা। তাই একুশের পোশাক হিসেবে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ, শার্ট, টি-শার্ট, টপ যেকোনো কিছুতেই রং হিসেবে সাদা-কালো, অ্যাশ এবং লাল রঙের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর নকশা হিসেবে বর্ণমালা, কবিতা, গান, স্লোগান, দেশাত্মবোধক নানা মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে।’

একুশের পোশাকে সাদা-কালো রঙের প্রাধান্য থাকলেও এখন আর এই দুয়ের মধ্যে আটকে নেই। সাদা, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ, নীল, ছাই সব রঙেই সাজছে একুশের পোশাক। কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতির প্রাধান্য থাকলেও তাঁত, মসলিন, সিল্ক প্রভৃতির ব্যবহারও বেড়েছে। একুশের পোশাকের নকশায় বর্ণমালা, ভাষা ও ভাষা শহীদদের পাশাপাশি দেশজ চেতনা ও ঐতিহ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পোশাকে বর্ণমালার পাশাপাশি একুশের গান, কবিতা, স্লোগান ও বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন পিক্তমালা যুক্ত হয়েছে। যেখানে ফুটে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা গৌরবগাঁথা। ফ্যাশন হাউসে একুশের পোশাকের তালিকায় শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, সিঙ্গেল ওড়না, ব্লাউজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট ও উত্তরীয়, ছোটদের কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট, টপস সেট, পাঞ্জাবি, শার্ট ও টি-শার্ট রয়েছে। অনেক হাউস আবার পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্য একই নকশার ম্যাচিং পোশাকও এনেছে।

 

সাজগোজ

মেয়েরা চুলে সাদামাটা বেণি বা খোঁপা করতে পারেন। চোখে কালো আইশ্যাডো ব্যবহার করাই জুতসই। এরপর আইভ্রুর ঠিক নিচে সিলভার হাইলাইটার দিন। যারা কাজল ব্যবহার করেন তারা শহীদ দিবসের সাজের সঙ্গে তা যুক্ত করে নিতে পারেন। ঠোঁটে হালকা স্বাভাবিক রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এদিন নখে কালো নেইলপলিশের ওপর সাদা রং দিয়ে এঁকে নিতে পারেন বাংলার বিভিন্ন বর্ণ। সাজে যেন কোনো বাহার না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ছেলেরা মাথায় পরতে পারেন বাংলাদেশের পতাকার রঙের কোনো ফেট্টি কিংবা হাতে লাল-সবুজের কোনো ব্রেসলেট। ছোট-বড় সবার গালে রং তুলির ছোঁয়ায় লেখা বর্ণমালা এবং শহীদ মিনারও হতে পারে সাজের অনুষঙ্গ।

 

কোথায় পাবেন, কেমন দরদাম

দেশীয় ফ্যাশন হাউস বটতলা, যাদুর বাক্স, বিশ্বরঙ, নিপুণ, বিবিয়ানা, দেশাল, বাংলার মেলা, রঙ বাংলাদেশ, নগরদোলা, সাদাকালো, অঞ্জন’স, আড়ং, নবরূপাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাবেন সব বয়সীদের একুশের পোশাক। পোশাকের ডিজাইন, ফেব্রিকস এবং ব্যান্ডের ওপর ভিত্তি করে দামে রয়েছে তারতম্য।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads