• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পোশাক ও ছবি : যাদুর বাক্স

ফ্যাশন

বেগুনি রঙে রাঙা

  • অরণ্য সৌরভ
  • প্রকাশিত ০৮ মার্চ ২০২২

জীবন মানে যেন রঙের বৈচিত্র্য। তাই তো বাঙালির যে কোনো উৎসবেই রঙের সঙ্গে মাতামাতি। নারী দিবসও এর বাইরে নয়, প্রাধান্য পেয়েছে বেগুনি রঙ। এই রঙ মূলত এক ধরনের প্রতীক হিসেবে পোশাকে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি সাদা দিয়েছে শুভ্রতার এক ভিন্ন মাত্রা। নারী দিবসকে ঘিরে ফ্যাশন হাউজগুলোতে এসেছে বৈচিত্র্য। এটি এখন শুধু উদ্যাপনের দিন নয়, নারী অধিকার ও বিশ্ব শান্তি রক্ষার একটি দিন হয়ে উঠেছে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফ্যাশন হাউজগুলো সৃজনে, আয়োজনে নিয়ে এসেছেন ভিন্নধর্মী সব আয়োজন।

অনলাইন ফ্যাশন হাউজ পারফেকশন অফ পরিণীতা নারী দিবসে পোশাকে নারীর স্বাধীনতার বিষয় মাথায় রেখে নান্দনিক পোশাক নিয়ে এসেছে। এই ফ্যাশন হাউজ মূলত নারীদের পোশাক নিয়ে কাজ করে। তাদের আয়োজনে সালোয়ার কামিজ, টিউনিক, শাড়ি এবং কটি নিয়ে নারী দিবসের আয়োজন সাজিয়েছে। সময়োপযোগী সুতির কাপড়ের সাথে ব্লক এবং বাটিকের রঙে সাজিয়েছে পোশাক।

এছাড়াও শাড়িকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য কিছুটা ফিউশন করেছে। নারী দিবসের পোশাক বলতেই বেগুনি এবং গোলাপিকেই বোঝায়। তাই এই দুই রঙের সব শেড এবং কিছুটা হলুদ ও লেমনের ছোঁয়ায় রেখেছে হাউজটি।

পারফেকশন অফ পরিণীতা ফ্যাশন হাউজের কর্ণধার নুরতাজ পিনু সুইটি বলেন, নারীর পোশাকের স্বাধীনতা তার অধিকার। সে কি পড়বে, কীভাবে পড়বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়াও তার অধিকার। শাড়ির ফিউশন করার সময় এই জিনিসগুলোকে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি।

দিবসকেন্দ্রিক ফ্যাশন নিয়ে নুরতাজ পিনু সুইটি বলেন, প্রতিদিনই সুন্দর কিন্তু বিশেষ দিনগুলো একটু বেশি সুন্দর। একজন ডিজাইনার হিসেবে তাই দিবস কেন্দ্রিক ফ্যাশন ট্রেন্ডকে আমিও বিশেষভাবে দেখি। কারণ এই বিশেষ দিনগুলোতে আমরা দেখি সৃষ্টিকর্মে, চিন্তা-চেতনায় নতুনত্বে।

 

কেন বেগুনি রং?

ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে জানা যায়, বেগুনি রং সুবিচার ও মর্যাদা নির্দেশ করে, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়নে সংশ্লিষ্ট। অ্যালিস ওয়াকার রচিত দ্য কালার পারপল বইটি এর অনুপ্রেরণা। এই বইতে তিনি তুলে ধরেছেন নারীদের অধিকারের কথা। মনে করা হয়, সেখান থেকেই নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গেছে এই রংটা। বেগুনি রঙের সংমিশ্রণ যার সবুজ এবং সাদা দেখা হয় নারীর সমমর্যাদার প্রতীক হিসেবে। এর সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯০৮ সালে ইউকেতে নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ইউনিয়ন থেকে। বেগুনিকে দেখা হতো নারীর ন্যায়বিচার ও সম্মানের প্রতীক। সবুজ হলো আশা এবং সাদা বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। নতুন দিনের নতুন ভোরের সূর্য যেমন আকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করে, ঠিক তেমনি হলুদ রং প্রতিনিধিত্ব করে ‘নতুন ভোরের’। হলুদ রংকে তাই নারীবাদের দ্বিতীয় ধারা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। আর তাই আমরা বলতেই পারি, বেগুনির সঙ্গে সবুজ হলো ঐতিহ্যগতভাবে ‘নারীবাদের’ প্রতীক এবং বেগুনির সঙ্গে হলুদ প্রগতিশীল সমসাময়িক নারীবাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। এছাড়া অন্তর্জাল থেকে জানা যায়, আভিজাত্য, বিলাসিতা, রাজপদ, শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়াও বেগুনি রং ধন, সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা, অমিতব্যয়, মর্যাদা, নিষ্ঠা, শান্তি, মহিমা, অহংকার, রহস্য, স্বাধীনতার অর্থও উপস্থাপন করে। পুরো বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে সহায়তা করে।

 

পোশাকে বেগুনি রঙের ছটা

ডিজাইনার বিপ্লব সাহার মতে, আমাদের দেশে নারী দিবসে বেগুনি রঙের পোশাক পরার চল বেশি দেখা যাচ্ছে দশ বছরের কম সময় ধরে। দিনটির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য পোশাকে বেগুনি রঙের ঝলক থাকতেই পারে। কর্মজীবী নারীদের পুরো পোশাকই যে বেগুনি রঙের হতে হবে, এমন নয়। বেগুনি রঙের শাড়ি না থাকলেও, ব্লাউজটি শুধু এই রঙের হতে পারে। বাড়তি পোশাক কিনে দিনটি উদ্​যাপন করতে হবে, বিষয়টি তেমনও নয়। কামিজের স্কার্ফ বা ওড়নায় থাকতে পারে বেগুনি ছটা। শুধু অনুষঙ্গের রংটিও হতে পারে বেগুনি।

কাজের জায়গায় বেগুনি জমকালো পোশাক নয়, বরং সুতি বা সিল্কের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। হালকা কাজের টপ অথবা সাদামাটা টপও হতে পারে। কাট-ছাঁটে থাকুক আধুনিকতা। প্রকাশ পাক স্বাচ্ছন্দ্য আর আত্মবিশ্বাস।

 

কাপড় ও ডিজাইন

নারী দিবসের পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি কাপড়। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, সিঙেল কামিজ, সিঙেল ওড়না, ফতুয়া, কুর্তি, ব্লাউজ, গহনা ইত্যাদিতে রয়েছে বেগুনি রঙে জ্যামিতিক নকশার বিভিন্ন নান্দনিক অনুষঙ্গ। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে ব্লক, বাটিক, টাই-ডাই, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি।

 

কোথায় পাবেন, কেমন দরদাম

দেশীয় ফ্যাশন হাউজসহ অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ থেকেও পাবেন নারী দিবসের নানান পোশাক। শাড়ি ১৪৫০-৩০৫০, থ্রি পিস ২৪০০-৩০০০, সিঙেল কামিজ ১২৫০-২০০০, আনস্টিচ থ্রি পিস ১২৫০-২৫০০, সিঙেল ওড়না ৫৫০-৮৫০, ব্লাউজ ২২০-৭৫০, মগ ২৯০-৩৫০, পার্স ২০০-১২০০, শোপিস ২৫০-৯৫০, গহনা- ১০০-১৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads