• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
খেলা চলাকালীন দর্শকের মাঠে প্রবেশ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

খেলা চলাকালীন দর্শকের মাঠে প্রবেশ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে

  • প্রকাশিত ২৭ নভেম্বর ২০২১

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু হলেও এককালে বেশ সাড়া ফেলেছিলো ফুটবল। তখন আবাহনী এবং মোহামেডানের খেলা মানে চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠার একটি স্বাভাবিক চিত্র ছিল। কিন্তু বিশ শতকে এসে আমাদের জনপ্রিয় খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট। যেখানে রয়েছে আমাদের অসীম ভালোবাসা, আবেগ ও অনুপ্রেরণার গল্প। যেন বাংলাদেশ হারলে লজ্জায় লুক্কায়িত হয় আমাদের মুখগুলো। আর জিতলে আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায় বাংলার পথেঘাটে। আর হবেই-বা না কেন? বাংলাদেশ সামপ্রতিক সময়ে ক্রিকেটে যেভাবে উন্নতি করছে তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। ক্রিকেট বাংলাদেশকে চিনিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে খেলা চলাকালীন সময়ে দর্শকের মাঠে প্রবেশের দৃশ্য চোখে পড়ছে। কেন ঘটছে এমন দৃশ্য?

সাধারণত নিরাপত্তা ও খেলা নির্বিঘ্নে চলার লক্ষ্যে খেলা শুরুর পর দর্শকের মাঠে প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে বর্তমান সময়ে করোনার কারণে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার কারণে ক্রিকেটারদের থাকতে হচ্ছে জৈব সুরক্ষা বলয়ে। দর্শকের সংস্পর্শে আসার কোনোরূপ সুযোগ নেই। কিন্তু সমপ্রতি দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তাকর্মীদের ফাঁকি দিয়ে খেলা চলাকালীন সময়ে মাঠে প্রবেশের দৃশ্য। গত ২০ নবেম্বর বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার মাঝে মাঠে প্রবেশ করে জৈব সুরক্ষা বলয়ই ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছেন পাগলাটে এক দর্শক। পাকিস্তানের ইনিংসে ১৩ ওভার পর নর্দার্ন গ্যালারি থেকে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এক দর্শক। ৭ জন মাঠকর্মীকে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে ছুটে যান মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। মোস্তাফিজের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তার মাথায় স্পর্শ করতে দেখা যায় মোস্তাফিজকে। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা মাঠে প্রবেশ করে তাকে ধরে বের করে নিয়ে যান। এ-সময় দুহাত উঁচিয়ে বিজয়ের ভঙ্গি করতে দেখা যায় ওই যুবককে।

এই ঘটনার পর মাঠে থাকা ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের করতে হচ্ছে বাড়তি এক দফা কোভিড-১৯ পরীক্ষা। শুধু যে সুরক্ষা বলয় ভেঙেছে ওই যুবক, তা নয়, বরং বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশের নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মিরপুর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। এর আগেও গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। দর্শকের এমন আচরণ আমরা দেশের মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও, বিদেশিদের কাছে তা নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ ঝুঁকি হয়ে দেখা দিয়েছে। বরাবর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশ্নবৃদ্ধ করে তুলেছে আমাদের নিরাপত্তা ইসুটিকে। ভবিষ্যৎতে কোনো দেশ বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা স্বাভাবিক নয় কি?

সুতরাং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এখনই, যাতে করে অন্য কেউ এমন কাজ করতে সাহস না করে। তা না হলে একজনকে দেখে দশজন শিখবে এবং যখন দেখবে তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না, তখন অন্যরাও এমন কাণ্ড ঘটাবেই। তাই এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর তাহলেই বাংলাদেশ হবে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।

লেখক :মোহাম্মদ নাদের হোসেন ভূঁইয়া

শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফেনী সরকারি কলেজ

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads