• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯
কোভিড হোক বা না হোক সবার ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য

কোভিড হোক বা না হোক সবার ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন

  • প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ডা. অপূর্ব চৌধুরী

কদিন ধরে রোগী থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা অনলাইন-অফলাইনের পরিচিতজনরা একটি কমন প্রশ্ন করছিল-একবার কোভিড হয়ে গেলে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি? সহজ উত্তর-কোভিড হোক বা না হোক, সবার জন্য ভ্যাকসিন প্রয়োজন।

কিন্তু কেন?

সারা পৃথিবীতে তিনটি ভ্যাকসিনের কথা এখন সবার মুখে মুখে। অক্সফোর্ড, মডার্না এবং ফাইজারের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন। এদের মধ্যে ফাইজার এবং বায়োএনটেকের যৌথ গবেষণায় তৈরি ভ্যাকসিনটি ৯৫% কার্যকর ও সমৃদ্ধ হওয়ায় ইংল্যান্ড এই সপ্তাহ থেকে আশি বছরের ওপরের নাগরিকদের ভ্যাকসিনটি দেওয়া শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি লোক করোনায় আক্রান্ত হলো। মারা গেল পনেরো লক্ষের বেশি। প্রতিদিন পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়।

প্রশ্ন দাঁড়ায়, বেঁচে থাকা কোভিড পজিটিভ হওয়া ছয় কোটি মানুষেরও কি ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন? যাদের একবার কোভিড হয়ে গেছে, তাদের কি ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন? ভ্যাকসিন দিলে তাদের কি কোনো লাভ-ক্ষতি আছে?

শরীরে কোনো জীবাণু ঢুকলে শরীর তার  নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় জীবাণুটিকে মেরে ফেলে বা মারতে চেষ্টা করে। এই আত্মরক্ষার কৌশলটিকে বলে ইমিউনিটি। শরীর তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে জীবাণুটি যদি মারতে না পারে, তখন বাহির থেকে মেডিসিন প্রয়োগ করে জীবাণুকে মারা হয়। যেমন ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের জীবাণু। তাকে মারতে লোকে অ্যান্টিবায়োটিক মেডিসিন খায়। তেমনি ভাইরাস একটি জীবাণু, কিন্তু ভাইরাসকে মেরে ফেলতে কোনো কার্যকরী ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এমনকি অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করে না।

তাহলে ভাইরাসকে কী করে মারে?

শরীরে কোনো ভাইরাস ঢুকলে শরীর তার রক্তে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান দিয়ে ভাইরাসকে মারে। এগুলোকে বলে অ্যান্টিবডি। কোনো ভাইরাস যখন শরীরে প্রথমবারের মতো ঢোকে, রক্তে থাকা কিছু কোষ এই অ্যান্টিবডি তৈরি করে, তা দিয়ে ভাইরাসকে মারে। একবার সেই অ্যান্টিবডি তৈরি হলে রক্তে তা সারাজীবনের জন্যে থাকে এবং পরবর্তী একই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে সেই অ্যান্টিবডি তাকে মেরে ফেলে।

ভ্যাকসিন হলো জীবাণু ঢোকার আগে সেই অ্যান্টিবডি তৈরি করার কৃত্রিম পদ্ধতি।

কারো শরীরে করোনা ভাইরাস ঢোকার পর শরীর তার স্বাভাবিক নিয়মে ভাইরাসটিকে মারতে রক্তের মাধ্যমে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। চাইলে যে কেউ কোভিড পজিটিভ হওয়ার চার সপ্তাহ পর করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শরীরে আছে কি না, তা টেস্ট করে দেখতে পারে। টেস্ট করা হোক বা না হোক, একবার ভাইরাস ঢুকলে শরীর সুস্থ হয়ে গেলে বুঝতে হবে রক্তে অ্যান্টিবডি আছে।

তাহলে ভ্যাকসিনের কোনো প্রয়োজন আছে কি না? কারণ ভ্যাকসিনের যে কাজ আগাম অ্যান্টিবডি তৈরি করা, সেটা তো কোভিড পজিটিভ হয়ে যাওয়াদের শরীরে অলরেডি আছে।

শুরুতেই বলেছি, কোভিড  হোক বা না হোক সবার ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন-কিন্তু কেন?

কারণ : সবার সমান ধরনের  কোভিড লক্ষণ প্রকাশ পায় না। প্রতি চারজনের একজন কোভিড  আক্রান্তের কোনো ধরনের লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয়া না। আবার যাদের দেখা দেয় বিভিন্ন লক্ষণ, তাদের অর্ধেকের বেশি মাইল্ড সিম্কটমস থাকে। একটি অংশের মডারেট এবং ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে যায় দশ পার্সেন্ট কোভিড আক্রান্তের। এই যে উপসর্গের এবং আক্রান্তের তারতম্য, তার ওপর নির্ভর করে অ্যান্টিবডি কত শক্তিশালী হবে এবং সেই অ্যান্টিবডি পরবর্তী ভাইরাস ঢুকলে তাকে কতটুকু নির্মূল করতে পারবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক কোভিড  আক্রান্তের দেহে অ্যান্টিবডির মাত্রা এবং কার্যক্ষমতা দুর্বল। ফলে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সেই অ্যান্টিবডির কার্যকারিতা থাকে। এর পরে ভাইরাস কোনোভাবে ঢুকলে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য দেখা গেছে অনেকেই কয়েক মাস পর পুনরায় কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন।

শরীরে ভাইরাস আক্রমণের শক্তিমত্তা এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে ভাইরাস আপনাকে কতটুকু পর্যুদস্ত করবে। যাদের লক্ষণ এবং উপসর্গ দুর্বল ছিল অথবা একেবারেই ছিল না তাদের অ্যান্টিবডি দুর্বল হতে পারে। কিন্তু যখন ভ্যাকসিন দিয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয় শরীরে, সেই ্যাান্টিবডির কার্যক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়, অনেক বেশিদিন কার্যকর থাকে।

কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডির কার্যক্ষমতা নির্ণয়ের অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল এবং ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলের পরিবর্তে কোভিড  হোক বা না হোক,  সকলের ভ্যাকসিন নেওয়া তার শরীরকে দীর্ঘদিনের জন্য ভাইরাসমুক্ত রাখবে।

সুতরাং আপনার কোভিড হোক বা না হোক, ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি, নিরাপদ, স্বল্প খরচ এবং ঝুঁকিমুক্ত।

লেখক : প্রবাসী চিকিৎসক, ইংল্যান্ড

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads