• বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

হলিউড

বিচ্ছেদ নিয়ে উচ্ছ্বসিত মাইলি সাইরাস

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১২ নভেম্বর ২০২০

ক্যারিয়ারে সব সময়ই সফলতার ডানায় উড়েছেন মাইলি সাইরাস। একই সঙ্গে অভিনেত্রী এবং গায়িকা তিনি। তবে গায়িকা হিসেবেই বিশ্বজুড়ে বেশি আলোচিত এ তারকা। বেশ কয়েক বছর ধরেই তরুণী এ গায়িকা সুনামের সঙ্গে গান গেয়ে আসছেন। হঠাৎ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ছন্দ এবং গতি দুটোই হারিয়ে ফেলেন। পারিবারিক জীবন নিয়ে এতই ঝামেলা পোহাতে হয় তাকে, যার জন্য বাধ্য হয়ে বিয়েবিচ্ছেদ ঘটান তিনি। কিন্তু এ বিচ্ছেদ তাকে কষ্টের বদলে স্বস্তি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন মাইলি সাইরাস। জানিয়েছেন, ‘অভিনেতা লিয়াম হেমসওয়ার্থের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের পর তিনি খুব বেশি কাঁদেননি। গত কয়েক বছরে আমাকে অনেক ধকল আর ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ম্যালিবুতে আমার বাড়িতে আগুন লেগেছে, সম্প্রতি বিয়েবিচ্ছেদ হয়েছে, আমার দাদিকে হারিয়েছি যার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম আমি। একভাবে বলা যায়, আমি খুব বেশি সময় কাঁদিনি, এমন নয় যে আমি আমার অনুভূতিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, আসলে কারণ হলো তাতে কিছু বদলাতো না। আমি শুধু সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি যাতে আমি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারি। আর তা না করলে আমি এক ফাঁদে আটকে পড়তাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘কান্না নিয়ন্ত্রণ করেই তিনি ধকল সামলেছেন। যে নারী ধকল সামলে এগিয়ে যেতে পারে, তাদের এক ধরনের নিষ্ঠুর অপবাদ পেতে হয়।’

বিয়ের এক বছর পর গত বছর ডিসেম্বরে লিয়াম হেমসওয়ার্থের সঙ্গে মাইলির বিয়েবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়েছে। মাইলি বলেন, ‘ভ্রমণ আর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি ধকল সামলাই। একজনকে হারালে আরেকজন মানুষ জীবনে আছে।’ চিরদিনের সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত থাকে না বলে তিনি মনে করেন। হেমসওয়ার্থের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর সাইরাস কেইটলিন কার্টার এবং কোডি সিম্পসনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান।

বিশ্বখ্যাতি রয়েছে মাইলি সাইরাসের। কিন্তু তিনি কখনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করেননি। পুরো নাম ডেসটিনি হোপ সাইরাস। মার্কিন কণ্ঠশিল্পী, অভিনেত্রী এবং লেখিকা- এই তিন ভুবনেই খ্যাতি ছড়িয়েছেন। প্রমাণ করেছেন তিনি এই তিন ক্ষেত্রেই সেরা।

ডিজনি চ্যানেল সিরিজের হানা মন্টানায় নাম ভূমিকায় অভিনয় থেকেই খ্যাতির সূচনা। এরপর ২০০৬ সালে তার গানের সিডি প্রকাশিত হয়। তবে সংগীতে পেশাদার গায়িকা হিসেবে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘মিট মাইলি সাইরাস’। এরপর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ব্রেকআউট’ মুক্তি পায়। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মাইলিকে। নিজেকে বহুমাত্রিক চরিত্রে ঢেলে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। খ্যাতি আর অর্থ দুদিক দিয়েই মাইলি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন।

২০০৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় নিজের অস্তিত্বের জানান দেন সাইরাস। এ ছাড়া ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘সেলিব্রেটি ১০০’ তালিকায় ২০০৮ সালে ২৫০ লাখ ডলার আয়ের জন্য তিনি ৩৫তম স্থান অর্জন করেন। মাইলির বাবা-মা তার নাম দিয়েছিলেন ডেসটিনি হোপ। কারণ তাদের আশা ছিল মেয়ে জীবনে অনেক সাফল্য পাবে। এ জন্য ডাকনাম রাখেন ‘মাইলি’। কারণ ছেলেবেলা থেকেই সে সবসময়ই হাসতো।

সাইরাস হেরিটেজ মিডল স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। স্কুলে তিনি চিয়ারলিডার ছিলেন। মাইলি তার বাবা-মায়ের খামারবাড়িতে বড় হয়েছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে অভিনয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন মাইলি। কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত আর্মস্ট্র অ্যাক্টিং স্টুডিওতে প্রশিক্ষণ নিতেও শুরু করেন। অতিথি অভিনেতা হিসেবে কাইলি নামের এক মেয়ের চরিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন।

জন্মের পর থেকেই ব্যয়বহুল জীবনে অভ্যস্ত মাইলি। তার মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন করা অনেক ধনীর পক্ষেও সম্ভব নয়। সফল কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেত্রী মাইলি সাইরাসের বাবা বিলি সাইরাস ছিলেন বিখ্যাত গায়ক। বিলি সাইরাস তার মেয়েকে শৈশবেই সেলিব্রেটি করে তোলেন।

কৈশোরেই অ্যানিমেটেড ফিল্মে কণ্ঠ দিয়ে মাইলি ‘গোল্ডেন গ্লোব’ অ্যাওয়ার্ড জয়ী হন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেরা ১০০ সেলিব্রেটির তালিকায় ১৩ নম্বরে উঠে আসেন মাইলি। সর্বোচ্চ অ্যালবাম বিক্রিতে পপ তারকা মাইলি এখনো বিশ্বসেরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশাল বাগানবাড়ি, ফ্লোরিডায় প্রাসাদতুল্য বাড়ি ছাড়াও মার্সিডিজ বেঞ্জ, পোরশের মতো বিখ্যাত মডেলের বেশ কটি দামি গাড়ি আছে মাইলির।

মাইলি তার নিত্যদিনের বিলাসবহুল জীবন উপভোগ করে চলেছেন। আর আয় করছেন কোটি কোটি ডলার। ২০১৩ সালে ইউটিউবে মাইলির ভিডিও সবচেয়ে বেশি দেখা হয়। মার্কিন এ কণ্ঠশিল্পী এবং অভিনেত্রীর রেকিং বল ভিডিও সবচেয়ে বেশিবার দেখা হয়। মুক্তি পাওয়ার প্রথম দিনেই ১ কোটি ৯৩ লাখ বার দেখা হয় ভিডিওটি, যা ওয়ান ডাইরেকশনের ভিডিও ‘বেস্ট সং এভার’ রেকর্ড ভেঙে ফেলে। এদিকে সবচেয়ে বেশি দেখা ইউটিউব ভিডিওর তালিকায় দ্বিতীয় তালিকাও মাইলির দখলে। এ ছাড়া ‘উই কান্ট স্টপ’ দেখা হয় ৩১ কোটি বার।

সমালোচনা আর বিতর্কের জটিল সমীকরণ কখনোই থামাতে পারেনি মাইলিকে। ছোটবেলার সেই স্মাইল থেকে মাইলি হয়ে ওঠায় ভাটা পড়েনি এতটুকু। শ্রম আর মেধায় অপ্রতিরোধ্য মাইলি তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে সুপরিচিত। তবে এতসব কিছুর পেছনে প্রতিভা প্রকাশের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে মাইলি কিন্তু জয়ী। জিততে ভালোবাসেন মাইলি। আর হাসতে তো বটেই। বিলাসী জীবনে বড় হলেও মাইলি দারুণ পরিশ্রমী।

যার ঘরে এত রেকর্ড ভাঙার হাতছানি তার তো থেমে থাকা মানায় না। জীবনে চেষ্টাকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখেন তিনি। আর সমালোচনাকে উপভোগ করেন। খ্যাতির শীর্ষে উঠতে গেলে এমন সমালোচনাকে স্বাগত জানান মাইলি। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন বাধা তখনই আসে যখন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলমান থাকে।

মাইলির সপ্তম স্টুডিও অ্যালবামের ‘সি ইজ মিলি সাইরাস’-এর মোট ছয়টি গান মুক্তি পায়। ওই সময় একক অ্যালবাম ‘সি ইজ কামিং’ মুক্তি পায়। অ্যালবামটি ইউএস বিলবোর্ডের সেরা ২০০ অ্যালবামের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল। অ্যালবামটির ‘মাদার্স ডটার’ গানটি বিলবোর্ডে টানা আট সপ্তাহ ধরে শীর্ষ দশে ছিল। সম্প্রতি সায়েন্স ফিকশন ছবি ‘ব্ল্যাক মিরর’-এ, ‘অন দ্য রোল’ ভিডিও গানে কণ্ঠ দিয়েও বাজিমাত করেন মাইলি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads