• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

ভারত

মৌসুনী আইসল্যান্ডে ইয়াস ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্বপ্নসাথী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৭ জুন ২০২১

ভারতের অশোকনগর ,গুমা ও হিংগলগন্জ এর পর ইয়াস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার পর স্বপ্নস্বাথী ফাউন্ডেশন বুধবার মৌসুনী আইসল্যান্ডে প্রায় ৫০০ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। মৌসুনী আইসল্যান্ডে রাজনৈতিক দ্বন্দের কারণে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও এনজিও ইয়াস ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রান বিতরন করতে না আসায় স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশনেরর ত্রান পেয়ে স্থানীয় লোকজন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এ সময়। স্বপ্নসাথী কোভিড বিধি মেনে স্থানীয় প্রশাসন, এসডিপিও, পঞ্চায়েত প্রধান এর অনুমতি নিয়ে ত্রান বিতরন করেন । মৌসুনী আইসল্যান্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে চাল, ডাল, সয়াবিন, পেয়াজ, মাস্ক, বিস্কুট, শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন এর সৌরভ দাস, রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, তন্ময় সাহা, দেবজ্যোতি ফোজদার, অর্নব চক্রবর্তী, বিক্রম তফাদার, পলাশ সজ্জন, সুব্রত মন্ডল, শুভাশিস সরকার, শুভজিত বিশ্বাস ও বাশারুল মুন্না উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন এর সভাপতি সৌরভ দাস বলেন, “আমি পেশায় শিক্ষক,সেবা করাই আমার ধর্ম। আমাদের স্কুল কলেজের কিছু বন্ধু নিয়ে ২০১৭ তে আমরা জনসেবামূলক কাজ করার জন্য স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন গঠন করি হাবরা’তে। পরবর্তীতে আমরা কলকাতায় অফিস নিয়ে ৩১ জনের কমিটি করে এনজিও হিসেবে নথিভক্তি করি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সাধ্যমতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিশেষ করে যে সব অসহায় ও গরীব কিন্তু মেধাবী ওই সব শিক্ষারথীদের পাশে আমারা দাঁড়াবো। প্রতি মাসে আমরা নগদ সহযোগীতা করবো যেন অর্থের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ না হয়।হয়তো খুব শীঘ্রই আমরা একটি বেসরকারি বিদ্যলয়ের ১০০ জন শিক্ষারথীর দায়িত্ব নিবো।পরবর্তীতে তা আরো বাড়বে।”

বিশেষ উপদেষ্টা ডায়মন্ড হারবারের ডেপুটি সুপিরিয়েন্টড অব পুলিশ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “এই এনজিও এর সবাই আমার হয় স্কুল না হয় কলেজমেট। তাই আমিও একজন স্বপ্নসাথী। আজ আমরা ৫০০ পরিবারকে সহযোগীতা করেছি মৌসুনী আইসল্যান্ডে। গত ১ সপ্তাহ ধরে কমিউনিটি কিচেন করে অসংখ্য পরিবারকে খাবারের ব্যবস্থা করেছি। জুলাই এর প্রথম সপ্তাহে আমরা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা জংগলমহলে অসহায় ও গরীব পরিবারকে সহযোগীতা করতে যাবো ।আমার কর্মজীবনের ৪ বছর ওখানেই ছিলাম। আমি চাই স্বপ্নসাথী নি:স্বার্থভাবে সবার পাশে দাঁড়াক।আমিও সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।”

প্রতিষ্ঠানের আরেক উর্ধতন কর্মকর্তা বাশারুল মুন্না বলেন, ”স্বপ্নসাথী আমাদের স্বপ্নের নাম। আমরা এখন কাজ করছি পশ্চিমবাংলায়। আগামীমাস নাগাদ আমাদের ভুবেন্বশর, বিহার, আসাম, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি গঠন করে জাতীয় স্তরে আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত তাই আমরা চেষ্টা করছি বাকী জীবনটা অসহায় পরিবার ও গরীব মেধাবী শিক্ষারথীদের পাশে দাঁড়াতে।”

একদল তরুনের স্বপ্নের নাম স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন।৩১ জনের এই কমিটি নিজেদের চাকুরী ও ব্যবসার পর পুরো সময়টা ব্যয় করেন জনস্বার্থে। গতবছর আমফান ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০০০ পরিবারের পাশে দাডিয়েই থেমে থাকেনি। কাজ করেছেন অসহায় পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষার কাজে। স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন মুলত শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজ করছেন সর্বক্ষেত্রে। কোনো বড় ধরনের ডোনেশন বা বিদেশী সহযোগীতা ছাড়া নিজেদের ও বন্ধু-বান্ধবের অর্থায়নে চলছে জনসেবামূলক কাজ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads