• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
 মুসলিম বিশ্বের তোপের মুখে ভারত

সংগৃহীত ছবি

ভারত

মুসলিম বিশ্বের তোপের মুখে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৭ জুন ২০২২

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুসলিম বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী বিশ্বের অংশীদারদের শান্ত করার চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা গত মাসে এক টেলিভিশন শোতে অংশ নিয়ে বিতর্কিত ওই মন্তব্য করেছিলেন। পরে দলটির নয়াদিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান নবীন জিনদালও নূপুর শর্মার মন্তব্যের সমর্থনে টুইট করেন। তাদের এই মন্তব্য দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাদের মন্তব্যের জেরে দেশটির কয়েকটি রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমরা বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন।

বিজেপির এই দুই নেতা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। দল থেকে শর্মাকে বরখাস্ত এবং জিনদালকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ভারতকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই ধরনের ‘ইসলামভীতিপূর্ণ’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে যদি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তা মানবাধিকার রক্ষায় গুরুতর বিপদ তৈরি এবং অত্যধিক কুসংস্কার ও প্রান্তিকতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যা সহিংসতা ও ঘৃণার চক্র তৈরি করবে।’

সৌদি আরবও বিবৃতিতে কিছু কড়া শব্দ ব্যবহার করেছে। দেশটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিজেপি মুখপাত্রের বক্তব্যে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’

৫৭ মুসলিম দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) এবং পাকিস্তানও ভারতের সমালোচনা করেছে। কিন্তু নয়াদিল্লি উভয় দেশ ও সংস্থার সমালোচনা করে বলেছে, এই ইস্যুতে তাদের মন্তব্য ‘অবাঞ্ছিত এবং সংকীর্ণ মনের’, যা সচরাচর করে আসে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই বিতর্ক ভারতের সামপ্রতিক কিছু সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে তেহরানের সাথে দিল্লির সম্পর্কে উষ্ণতা দেখা গেলেও চলমান বিতর্ক ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানের আসন্ন ভারত সফরকে ছাপিয়ে যেতে পারে। আরব দেশগুলোও নিজ নাগরিকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে চাইছে। এসব দেশে ভারতের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং হয়েছে। একই সাথে এ ঘটনা তাদের গণমাধ্যমের শীর্ষ খবরে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু হ্যাশট্যাগে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। কাতার এবং কুয়েতের কিছু দোকান তাদের তাক থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে নিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads