• বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ ভাগ কর অযৌক্তিক

সংগৃহীত ছবি

শিল্প

বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ ভাগ কর অযৌক্তিক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ জুন ২০২১

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের অন্যতম উপকরণ দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করহার নির্ধারণকে অন্যায়, অযৌক্তিক ও অন্যায্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও কর-বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শিল্প সুরক্ষা চাইলেও, কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করে না। সরকারের ভেতর একটি গোষ্ঠী দেশীয় শিল্প উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। শিল্প মালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। বিটুমিনে কর কমাতে হবে। বিটুমিন নিয়ে এক দেশে দুই নিয়ম হতে পারে না। আমদানিতে বিশাল ছাড় দিয়ে নজিরবিহীন কর-বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের রাজস্বনীতি দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতির পরিপন্থী। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও’র নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল ইসলাম মজিদ হুমায়ূন গতকাল বলেন, বিটুমিনসহ সকল দেশীয় শিল্প খাতসমূহকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। করারোপের ক্ষেত্রে সরকারের শিল্প উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)-এর সহসভাপতি এম এ মোমেন গতকাল বলেন, স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে প্রায় ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করারোপ দেশীয় শিল্প খাতের প্রতি চরম অন্যায়, অন্যায্য ও অযৌক্তিক। যে-কোনো স্থানীয় শিল্পের মূলধনি কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। দেশীয় শিল্প মালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। সংকট উত্তরণে বিটুমিন উৎপাদন পর্যায়ে কর কমাতে হবে। এর সঙ্গে আমদানিকারকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এ নিয়ে সংসদেও কথা উঠেছে।

জানা গেছে, বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় বিটুমিন শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকলেও, আমদানিতে অনেক কম। বিটুমিন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অন্যায্যভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান। অথচ পরিশোধিত বিটুমিন আমদানিতে ভ্যাট নেই। আমদানির বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে যেখানে ভ্যাট মাত্র ৫ শতাংশ, সেখানে দেশীয় উৎপাদকের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খড়্গ রয়েছে। বিটুমিন উৎপাদনে প্রতি টন কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ৫৭০ মার্কিন ডলার হলেও, আমদানিতে তা ২৬০ ডলার। এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো বাতিল করে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও রাজস্বনীতি বিশ্লেষক মনজুর আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমাতে হবে। বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা উচিত। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যেহেতু আমদানিতে নেই, তাই উৎপাদনেও রাখা যাবে না। এর সঙ্গে আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ বাতিল করতে হবে। কারণ এই ধরনের কর কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও’র নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধে পদক্ষেপ।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অগ্রিম আয়কর বা এআইটি দিয়ে ব্যবসার পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি আগে ছিল বাণিজ্যিক আমদানিতে। এখন কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর বা এআইটি আরোপ করা হয়েছে, এটা প্রত্যাহার করা উচিত। তার মতে, যেখানে তৈরি পণ্য আমদানিতে ভ্যাট নেই, সেখানে উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অযৌক্তিক ও অন্যায়। দেশীয় বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অপ্রত্যাশিত।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় গুরুত্ব দিলেও, কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করে না। শুধু বিটুমিন নয়, ২৬ শতাংশ কর দিয়ে কোনো দেশীয় শিল্প চলবে না। বিশ্বের কোনো দেশ নিজের দেশের শিল্প সুরক্ষা না দিয়ে এগুতে পারেনি। আমাদেরও বুঝতে হবে, শিল্প ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হবে না। দেশীয় শিল্প উৎসাহিত না হলে দেশ এগুবে না।

দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ বা আইসিএবি সাবেক সভাপতি ও কর-বিশ্লেষক হুমায়ূন কবির গতকাল বলেন, দেশীয় শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকার ঘোষিত নীতিমালায় শিল্প সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিটুমিনে ২৬ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প সুরক্ষা হয় না। দেশীয় নতুন শিল্প খাতে সুরক্ষা দরকার। নইলে বিটুমিন শিল্প দাঁড়াতে পারবে না। সরকারের ভেতর একটি ঘাপটি মেরে থাকা গোষ্ঠী শিল্প উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে কি না, সেটা খুঁজে দেখা দরকার। কারণ দেশীয় শিল্প সুরক্ষা হচ্ছে না, যা সরকার ঘোষিত শিল্পসংক্রান্ত নীতিমালা পরিপন্থী। সরকারের উচিত হবে, ঘোষিত নীতিমালা ভঙ্গকারীদের খতিয়ে দেখা।

দেশে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি নিয়ে জাতীয় সংসদে গত ২৯ জুন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুনুর রশিদ। তিনি ভুয়া সনদ নিয়ে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, রাস্তায় বিটুমিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত একমাস ধরে পত্র-পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে। ভুয়া সনদ নিয়ে দেশে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি এ বিষয়টি দেখা উচিত। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুয়া সনদ নিয়ে জাহাজ থেকে নিম্নমানের বিটুমিন খালাস করা হচ্ছে। কারা এই নিম্নমানের বিটুমিন আনছে, এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

তথ্যমতে, দেশে এখন ব্যাপক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সড়ক ব্যবস্থা প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। টেকসই সড়ক নির্মাণের মূল উপাদান হলো, ভালো মানের বিটুমিন। দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, যা অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে প্রতি বছরই বাড়ছে।

জানা গেছে, বিটুমিনের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ, বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণসহ ফুটপাত তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এছাড়া নহর তৈরিতে বা ট্যাংকের ভেতর প্রলেপ হিসাবে, নদী বা সমুদ্রের কিনারে তটরক্ষক হিসেবে ও নৌকার তলদেশে প্রলেপরূপে বিটুমিনের ব্যবহার হয়। ভারি শিল্পেও এর ব্যবহার হয়। এটি বিদ্যুৎরোধকের কাজেও যুক্ত করা হয়। ইন্সুলেটিং টেপ, জলরোধী কাপড় ইত্যাদি কাজেও ব্যবহার হয়। বার্নিশ, অয়েল পেইন্ট, রাবার এনামেলের বিকল্প ও কোল্ডস্টোরেজ, ইলেকট্রনিক ব্যাটারি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

জানা গেছে, বিটুমিন উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড, যার এইচএস কোড : ২৭০৯.০০.০০। এই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ। এই কর কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫ শতাংশ সিডিসহ মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেলের ট্যারিফ মূল্য ৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারিত আছে।

অন্যদিকে দেশে এইচএস কোড ২৭১৩.২০.১০ এবং ২৭১৩.২০.৯০-এর মাধ্যমে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানি হয়ে থাকে। ড্রামে বিটুমিন আমদানিতে প্রতি টনের শুল্ককর নির্ধারিত আছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ এবং আগাম কর বা এটি ৫ শতাংশ। অপরদিকে অন্যান্য বিটুমিন নামে যদি কেউ বাল্ক আকারে আমদানি করে, সে ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমদানি শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে এআইটি ২ শতাংশ এবং এটি ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক  সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিটুমিন আমদানির চেয়ে উৎপাদনে বাড়তি কর আরোপ দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতিরও পরিপন্থী। দেশীয় শিল্পের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সংশোধন করা উচিত। কারণ শিল্পের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

এদিকে সারা দেশের ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানিতে মূল্য ঘোষণায় কারসাজির তথ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস সূত্র বলছে, অসাধু আমদানিকারকরা আন্ডার ইনভয়েসিং বা দাম কম দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বিটুমিন ভর্তি ড্রাম খালাস করেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে শুল্ক ফাঁকি। বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাস্তা নির্মাণে ব্যবহূত বিটুমিন আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা থামছে না। ভেজাল বিটুমিন আসছেই, নীরব কাস্টমস। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আসছে বিটুমিন, রাজস্ব ফাঁকি ধরাছোঁয়ার বাইরে। কার্যত বিটুমিন আমদানির পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসটিআই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বুয়েটের অনুমোদন ছাড়াই বিটুমিন আসছে দেশে। আর চট্টগ্রাম বন্দরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সেগুলো ছাড়পত্রও পেয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) সভাপতি ও বিটুমিন আমদানিকারক মাহবুব আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার দর দেখে কাস্টমসকে বিটুমিনের শুল্কায়ন করতে হবে। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কাস্টমসের নজরদারি রাখতে হবে। দেশে যেহেতু উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদন হচ্ছে, তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে।

জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিটুমিনাস ক্রুডের চেয়ে পরিশোধিত বিটুমিনের আমদানি শুল্ক কম রাখা হয় কেবলমাত্র স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে গুণগত মানসম্পন্ন বিটুমিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় আমদানি শুল্ক কাঠামো স্থানীয় শিল্পবান্ধব করে পুনরায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার্থে এ ধরনের নীতি আমাদের ও অনুসরণ করা উচিত।

এদিকে আমদানি হওয়া ফিনিশড বিটুমিন এবং দেশীয় উৎপাদিত বিটুমিনের স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ের বৈষম্যমূলক চিত্রের দেখা মিলেছে। জানা গেছে, ড্রাম ও অন্যান্য বিটুমিন আমদানিতে কোনো অগ্রিম ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর- মূসক পরিশোধ করতে হয় না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহ ‘মূল্য সংযোজন কর’ অব্যাহতিপ্রাপ্ত। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২’র তৃতীয় তফসিল টেবিল-১ অনুযায়ী, বাল্ক বিটুমিন আমদানিতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রযোজ্য, যা সরবরাহ পর্যায়ে সমন্বয়যোগ্য। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত। ফলে আমদানি হওয়া বিটুমিনের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনের উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে কোনোভাবে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।

জানা গেছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদিত বিটুমিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও শুধু ন্যূনতম শুল্ক ও ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় কিছু সংখ্যক আমদানিকারক স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি খাতে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর খাতে রাজস্ব আয় বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদি চলতে থাকলে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথম বিটুমিন অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট স্থাপন হয়েছে, যা দেশীয় চাহিদা মেটিয়ে বিদেশে রপ্তানিতেও সক্ষম। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় সিমেন্ট শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাল্ক সিমেন্ট আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে সিমেন্ট শিল্পকে রক্ষা করেছেন, ঠিক তেমনি ভাবে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর আরোপ হবে দেশীয় প্রিমিয়াম মানের বিটুমিন উৎপাদিত শিল্পকে বিকশিত করার অন্যতম পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads