• বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮
পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যা জানা দরকার

সংগৃহীত ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি

পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যা জানা দরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৩০ এপ্রিল ২০২১

আমাদের বর্তমান জেনারেশনের অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন সময় ফোন নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। এ কারণে তাদের ফোনে অনেক সময় থাকে না চার্জ। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে যেন নিয়ম হয়ে যায় ফোনে চার্জ না থাকা। এজন্যই যারা ফোনে দরকারি সময়ে চার্জ নিয়ে টেনশনে থাকে, তারা অনেকেই পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে। অনেকে হয়তো প্লানিং করেছে যে পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত। কিন্তু সেই পাওয়ার ব্যাংকটাও যদি ঠিকমতো ব্যাকআপ না দেয় তাহলে কেমন লাগে। এজন্য পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে কিছু জিনিস মাথায় রেখে পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত, যাতে সেটা অনেকদিন টিকে।

চলুন জেনে নিই পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাপারে কিছু তথ্য-

পাওয়ার ব্যাংক কেনার ক্ষেত্রে প্রথমে যে ভুলটি আমরা করে থাকি সেটি হচ্ছে, দোকানে যাওয়ার পর দোকানদারের রিকমেন্ডেশন অনুযায়ী পাওয়ার ব্যাংক কিনে নিয়ে আসি। এটা করা যাবে না। একটি পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই সেটির ব্যাপারে ভালোমতো ধারণা রাখতে হবে। সেটা কোন ব্র্যান্ডের বা কতদিন ভালোভাবে সার্ভিস দেবে এসব। এ ছাড়া অনেক দোকানে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে, যেগুলো ৪০০০০/৫০০০০ এমএইচের। কিন্তু সেটা কিনে আনার পর হয় বিধি বাম। পরে সেটি কিছুদিনের মধ্যেই এক্সপায়ার হয়ে যায়। এজন্য পাওয়ার ব্যাংক কিনলে, ভালো মানের একটি ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক কেনা আমাদের সবারই উচিত।

পরের যে ভুলটি আমরা করে থাকি, সেটা হচ্ছে পাওয়ার ব্যাংকের ক্যাপাসিটি। ধরেন আপনার কাছে রয়েছে ১০০০০ এমএইচের একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি ৫০০০ এমএইচের। এখন স্বাভাবিকভাবে ভাবলে বোঝা যায়, যে এই পাওয়ার ব্যাংকটি আপনার স্মার্টফোনকে দুবার চার্জ করতে পারবে। কিন্তু না, আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। আপনার ফোনটি যখন এই ১০০০০ এমএইচের পাওয়ার ব্যাংকটি দিয়ে চার্জ করবেন, তখন কিন্তু চার্জিং পাওয়ার ১০০০০ এমএইচে থাকবে না। কারণ আপনারা যখন এই পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন চার্জ করবেন তখন সেই পাওয়ার ব্যাংকের কনভার্সন লস হয়। মানে এটির কিছু পাওয়ার লস হয়। এরকম কেন হয়? আসলে পাওয়ার ব্যাংকে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, সেটি হয়ে থাকে লিথিয়াম পলিমারের। এই ব্যাটারির হায়েস্ট ভোল্টেজ হচ্ছে ৩.৭ স্ট্যানডার্ড ভোল্টেজ। আমাদের ফোন যখন চার্জ হয় তখন নিম্নে দরকার হয় ৫ ভোল্টেজের। তো সেই ৩.৭ ভোল্টকে ৫ ভোল্টে কনভার্ট করার জন্য এই পাওয়ার ব্যাংগুলোতে থাকে কনভার্সন চিপ। যখন এই চিপটি এই কনভার্ট করে, তখনই এটির কিছু পাওয়ার লস হয়। এটির কারণেই ফোন চার্জিংয়ের সময় পাওয়ার ব্যাংকে থাকা ব্যাটারির ক্যাপাসিটি কমতে থাকে। এজন্য সবসময় চেষ্টা করবেন, বেশি ক্যাপাসিটির একটি পাওয়ার ব্যাংক কেনার।

এখন কথা বলব যে বিষয়টি নিয়ে সেটি হচ্ছে পাওয়ার ব্যাংকের পোর্ট, যেটির দিকেও আমাদের নজর রাখা উচিত। বেশিরভাগ পাওয়ার ব্যাংকেই দুটি পোর্ট থাকে। একটি থাকে চার্জ করার জন্য আউটপুট পোর্ট এবং আরেকটি ইনপুট পোর্ট। অনেক পাওয়ার ব্যাংকে একটি পোর্টও থাকে। আমরা যদি মাল্টিপল ডিভাইস একসাথে চার্জ করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদের দুটি পোর্টের পাওয়ার ব্যাংক কিনতে হবে। দুটি পোর্টের চার্জিং ক্যাপাসিটি যদি সমান হয় তাহলে সেটা ঠিক থাকবে। যদি দেখা যায় কমবেশি, তাহলে সেই পাওয়ার ব্যাংক না কেনাটাই ভালো হবে।

আশা করি এসব জিনিস মাথায় রেখে পাওয়ার ব্যাংক কিনলে, সেটা অবশ্যই ভালো সার্ভিস দেবে। অবশ্যই চেষ্টা করবেন কমদামি পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার না করার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads