• রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

শ্রমশক্তি

ফের কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হতে যাচ্ছে। কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শিগগির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল সভা হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সভায় সূচনা বক্তব্য রাখবেন। পরে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে গঠিত যৌথ কারিগরি কমিটির (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) সদস্যের মধ্যে আলোচনা হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এক ই-মেইলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল সভা করার ব্যাপারে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় এই সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

ই-মেইল বার্তায় সভার আলোচ্য বিষয় কী হবে সে নিয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিদেশে কর্মী পাঠাতে দেশের চলমান অনলাইন প্রক্রিয়া নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যে সমঝোতা স্মারক দুই দেশের মধ্যে হবে তার প্রস্তাবিত মেয়াদকাল কতদিন হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। কবে এই স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে তার প্রস্তাবিত দিনক্ষণ নিয়েও কথা বলবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি প্রায় থমকে ছিল। অনেক দেশ থেকে কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে ফিরে আসতে হয়েছে। এই অবস্থায় মালয়েশিয়া কর্মী নিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার যে আগ্রহ দেখাচ্ছে তা ইতিবাচক। এটি ফলপ্রসূ হলে জনশক্তি রপ্তানিখাতে চলমান সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করতে দুই বছর ধরে কাজ করছে যৌথ কারিগরি কমিটি। গত বছরের শুরুর দিকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে আলোচনা এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ১৫ অক্টোবর দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

যদিও চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ার চাষাবাদ ও পণ্যখাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; সফলভাবে করোনাভাইরাস নির্মূল করার আগে তা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান দেশটির উদ্ভিদ শিল্প ও পণ্যমন্ত্রী দাতুক ডা. মোহাম্মদ খায়রুদ্দীন আমান রাজালী। তিনি বলেন, চাকরিখাতে মালয়েশীয়দের প্রাধান্য দেওয়ার চিন্তাও এই সিদ্ধান্তের কারণ।

মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ফেলডা ইনাস উতারায় মরিচের একটি পাইলট প্রকল্প পরিদর্শনে যান উদ্ভিদ শিল্প ও পণ্যমন্ত্রী দাতুক ডা. মোহাম্মদ খায়রুদ্দীন আমান রাজালী। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সরকার কোভিড-১৯ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি অনুসরণকারী সংস্থাগুলোর আবাসন সরবরাহের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করছে। যাতে করে বিদেশি কর্মীনির্ভর যে কয়টি সেক্টর রয়েছে তাতে মহামারীর প্রাদুর্ভাব না ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর এসওপি চলছে।

ডা. মোহাম্মদ খায়রুদ্দীন বলেন আমরা একটি প্রচারাভিযান পরিচালনা করছি। পাম তেল ও রাবারের মতো বৃক্ষসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে যেন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর এসওপি চালাতে উদ্বুদ্ধ করছি। তিনি জানান, এই প্রচার অভিযান যদি সফল হয় তবে সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে করোনা কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে, তার ওপর।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads