• রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

শ্রমশক্তি

সিন্ডিকেটের কবলে শ্রমবাজার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি ২০২২

ফের সিন্ডিকেটের কবলে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির বাজার। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশের গুটি কয়েক রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুবিধা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী অংশ। ফলে রাঘববোয়ালদের থাবায় উন্মুক্ত বাজারটি আবার বন্ধের উপক্রম। তবে সব ধরনের সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়া সরকার কম অভিবাসন খরচসহ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু এই সমঝোতাকে এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে ‘সিন্ডিকেশন’ চায় মালয়েশিয়ার ওই প্রভাবশালী মহলটি।

অথচ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান ১৪ জানুয়ারি এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদকে ২৫টি বাংলাদেশ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির (বিআরএ) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানান। সেদিনই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ওই চিঠির জবাব দেন। চিঠিতে মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রাসঙ্গিক সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সর্বদা স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং নিরাপদ অভিবাসনের পক্ষে, আমাদের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ সমস্ত বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সুযোগ উন্মুক্ত রেখে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, তারা মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা উন্মুক্ত বজায় রাখার জন্য সারাভানানের চিঠির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। সমঝোতা স্মারকের পরিশিষ্ট খ-এর সি (ভি) এবং সি (ভিআই) এর বিধানে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

বিধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রদত্ত তালিকা থেকে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিআরএ নির্বাচন করবে এবং মালয়েশিয়া সরকার কোটা নির্বাচন ও বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে। এ বিষয়ে জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলেছেন, এমনটি হলে দুই দেশের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দেবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বার বার সতর্কতা সত্ত্বেও কিছু কর্মকর্তা ও কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে।

রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্ট বলেছেন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়া অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যারা তাদের রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর জন্য ইন্দোনেশিয়ার এক হাজারটিরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নেপালের ৮৮৪টি রয়েছে। উভয় দেশের জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কোনো অগ্রাধিকার তালিকা নেই। বাংলাদেশে একটি ছোট গ্রুপের রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার পীড়াপীড়ি রহস্যজনক, যা শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী অংশকে লাভবান করার জন্য পুরো প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।

অল্প সংখ্যক ফার্মের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো অভিবাসন খরচ কম রাখার সরকারি প্রচেষ্টা ও উদ্দেশ্যকে হেয় করবে। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১০টি রিক্রুটিং ফার্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল বিপর্যয়। সিন্ডিকেশনের যেকোনো পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশ সরকার এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই হবে দ্বিগুণ আঘাত।

যেহেতু বাংলাদেশের প্রায় ২০০০ বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকারক রয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ জনকে ব্যবসার জন্য অনুমতি দেওয়া শুধুমাত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং অভিবাসন-সম্পর্কিত খরচ বাড়াবে।

জনশক্তি বিশেষজ্ঞ এবং অধিকার কর্মীরাও সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সরকারকে কোনো সিন্ডিকেশনের অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ হলে বাজার আবারো হারিয়ে যেতে পারে। তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক বাজার অনুপস্থিত হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে।

বায়রার সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, বায়রার সদস্যদের কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকতে হবে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। উন্মুক্ত বাজারে কোনো সিন্ডিকেট গঠন করা উচিত নয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads