• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৪ জৈষ্ঠ ১৪২৮

আইন-আদালত

তালিকা চান হাইকোর্ট

বিদেশি ব্যাংকে কার কত টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০১ মার্চ ২০২১

সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে কার কত টাকা পাচার করে পাঠানো হয়েছে বা আছে তার তথ্যসহ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এ ছাড়া অর্থ পাচারের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য কেন আলাদা তদন্ত টিম গঠন করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক। এ ছাড়া দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, আদেশে আদালত সুইস ব্যাংকে জব্দকৃত টাকা ফেরত আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। তিনি বলেন, যাদের টাকা সুইস ব্যাংকে রয়েছে, তাদের তালিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন তদন্ত করা হবে না, রুলে তা জানাতে বলা হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে ৩০ মার্চ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ১৪ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস রিট করেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত ইতিপূর্বে স্বপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল আজকে (রোববার) আদালতকে জানিয়েছেন, অর্থ পাচারকারীদের যে তালিকা সংশ্লিষ্টদের কাছে রয়েছে, তা তদন্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু তা প্রকাশ করা যাবে না। আদালত দ্বৈত নাগরিকদের তালিকা চেয়েছিল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১৪ হাজার জনের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, যারা পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads