• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯

আইন-আদালত

নিউমার্কেটের ঘটনায় ৩ মামলা, ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীসহ আসামী ১২০০

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২১ এপ্রিল ২০২২

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ২টি মামলা করেছে। একটি মামলা বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা হয়েছে। আরেকটি নিহত নাহিদ হোসেনের চাচা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিন মামলাতে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ ম কাইয়ুম।

তিনি বলেন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২৪ জন এজাহারনামীয়সহ ব্যবসায়ী-কর্মচারী অজ্ঞাতনামা তিনশজন। এছাড়া একই মামলা অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকা কলেজের ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা আরেকটি মামলায় অজ্ঞাতনামা দেড়শ থেকে দুইশজনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলার বাদী- নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়ামিন কবির।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন পুলিশের পরিদর্শক ইয়ামিন কবীর। এতে ঢাকা কলেজের অজ্ঞাতপরিচয় ৬০০ ছাত্র এবং নিউ মার্কেট এলাকার অজ্ঞাতনামা ৩০০ ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় সহিংসতায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে ১২ ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে অ্যাডভোকেট মকবুল, আমীর হোসেন আলমগীর, হাজী জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, মিজান ব্যাপারী ও জাপানী ফারুকের নাম।

আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পুলিশের করা দ্বিতীয় মামলাটিতে ঢাকা কলেজের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ ছাত্রকে আসামি করা হয়েছে। তিন মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

এর আগে সোমবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ। যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আর সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান নাহিদ হাসান মানে এক কুরিয়ারকর্মী।

জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচরে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন নাহিদ। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মো. মুরসালিন (২৪) নামে এক দোকান কর্মচারী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads