• মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সাহিত্য

কখনো হারিয়ে যাওয়ার নয়

  • প্রকাশিত ০৮ আগস্ট ২০২১

শিবলী মোকতাদির

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যার নিজস্ব ভূগোল এতটা বৃহৎ, বৈভবে পূর্ণ— কল্পনাকেও হার মানাতে পারে, যাতে মিশে আছে তার নিজস্ব বিশ্বাস ও দর্শন। রবীন্দ্রনাথের কাজের ক্ষেত্র এত বিচিত্র, তার সৃষ্টিশীলতা এত বিশাল, যার ভাবনা এত পরিশালিত যে, সাধারণ আমজনতার পক্ষে তাকে ঠিকমতো জানা, উপলব্ধি অন্তে আয়ত্ত— সর্বোপরি তার কাছাকাছি পৌঁছুনো খুব একটা সহজ নয়। অথচ, দিনকে দিন সারা বিশ্বের বাংলাভাষী প্রায় প্রত্যেক মানুষের জীবনেই রবীন্দ্রনাথ কোনও-না-কোনওভাবে তার ছায়া ফেলে গেছেন। একজন মহৎ কবি, সার্বভৌম কবি, শুদ্ধ গদ্যরচয়িতা হলে নিশ্চিত তার শৈলীতে লিরিকধর্মিতা হয়ে উঠতে হয় অনিবার্য এবং স্বাভাবিক। চলমান জীবনের বহুদা বিভক্ত খণ্ড খণ্ড চিত্রকে নন্দিত করতে অ্যাজ এ পোয়েট সুযোগ পেলেই তাকে মুগ্ধতার সকল নিবিড়তা লেপন করে দৃষ্টিকে করেন সঞ্জীবিত, অতি তুচ্ছ বা ক্ষুদ্র বিষয়কে পরিশ্রুত ভাবাবেগে করে তোলেন মহিমাম্বিত, যার পারফেক্ট উদাহরণ আমাদের রবীন্দ্রনাথ। ভাষাকে ধ্বনিময় করে, নতুনতর করার জন্য তাকে চাঁছাছোলা করতে হবে। কবিতা তো কেবলমাত্র কবির কল্পনাশক্তির শিল্পরূপ নয়— তার সারাদেহে থাকবে দক্ষ স্থপতির কাজ। রবীন্দ্রনাথের ভাষাবিন্যাসের দারুণ দক্ষতা, শব্দের প্রসাদীয় গুণ-নিষ্কর্ষণ-ক্ষমতা, টোটাল কবিতার মধ্যে বেড়ে ওঠা শক্তি যাচাইয়ের প্রজ্ঞতা, আভিধানিক চেনা শব্দার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অচেনা রস-নৈপুণ্য সৃষ্টির কুশলতা ছিল এক কথায় ঈর্ষণীয় স্তরের। কল্পনার অতিশয্যে যেখানে প্রয়োজন, দূর অতীতের রহস্যঘেরা ধূম্রজাল ঘনত্ব যেখানে অনিবার্য, সেখানে সংস্কৃতের সমৃদ্ধ ভান্ডার থেকে মণিপদ্ম তুলে এনে স্ফটিক দানার অবাক করা আলোকস্তম্ভগুলো স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেন তিনি, আর মুহূর্তে কারুকার্যময় হয়ে ওঠে সবকিছু। বস্তুত এখানেই তিনি এক এবং অদ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ।

আমাদের জীবনে যাপনের প্রতিটি স্তরে রবীন্দ্রনাথের গন্ধ লেগে আছে। তাকে পাশ কেটে চলা অতীব কঠিন। তার অক্ষয় কীর্তিগুলো আমাদের অস্থিমজ্জায় এমনভাবে লেগে আছে— যতই ভুলে থাকার ভান করি তিনি রয়ে যান গোপনে, গুপ্ত সমাচার হয়ে। খ্যাতি আর সম্মানের মগডালে ওঠা রবীন্দ্রনাথ তার সমকালে মোটামুটি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। ফলে পাঠক ছাড়াও মানুষের থেকে যেমন ভক্তি পেয়েছেন তেমনি বিদ্বেষও কম পাননি! স্তুতি ও নিন্দায় ভরা ছিল তার জীবন। জমিদারির জমকালো আয়েশের পাশাপাশি বেদনা, হতাশা, ক্ষোভ জীবন তাকে অন্তর্গত করেছে। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পত্রাবলী, নাটক, অভিনয়, সংগীত, চিত্রকলা, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মী, ভেবেছেন ধর্ম নিয়ে, আগাগোড়া শিক্ষক, অসাম্য ও অন্যায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, বিজ্ঞানমনস্ক, ছিলেন দার্শনিক, যথার্থ সম্মান দিয়ে মানুষকে করে তুলেছেন বড়, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মধ্যে গড়ে তুলেছেন যোগাযোগের সেতু— বলি এত এত অর্জনের পরও প্রধানত তিনি কবি। আশি বছরের ঈর্ষণীয় জীবনের ষাট বছরেরও অধিককাল শিল্প-সাহিত্যের সকল শাখায় যে ফসলগুলো রেখে গেছেন আমাদের জন্য তার আবেদন সুদূর-প্রসারী বাঙালি মানসচেতনায় একটু ছোঁয়া পেলেই টঙ্কারে বেজে ওঠে আজও সমান আবেগে। পুরোনো মূল্যবোধের পাহাড়কে সরিয়ে নতুন মূল্যবোধের ভিন্ন প্রকৃতি নিয়ে; সত্য, সুন্দর আর কল্যাণ— এই তিন মানবিক স্পর্শে জেগে উঠল যে আলোকময় দ্বীপ, সেই দ্বীপের একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা, রবীন্দ্রনাথ। মোটাদাগে মানবতাবোধ, বিশ্বপ্রেম এবং প্রকৃতির প্রতি সুগভীর ভালোবাসা— এসবের আশ্চর্য সন্নিপাত ঘটিয়েছেন তিনি তার কাব্যকলায়।

রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন আশি, পরপারের ডাক শুনতে পেয়েছিলেন কি-না জানি না, তবে মনে মনে অশক্ত হয়ে পড়েছিলেন নিশ্চয়ই। যার কাঁধে দায়িত্ব পড়েছিল বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার। এবং এ কথা মিথ্যে নয় তার কালপরিধিকে অতি সহজেই আনতে পেরেছিলেন হাতের মুঠোয়। রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্যচেতনাগুলো নিছক কল্পনাবিলাস নয়, সকল সৌন্দর্যকে তিনি কল্যাণের আলো দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। সেই কবি জীবনের শেষ সময়ে এসে মানবসভ্যতার এক অবশ্যম্ভাবী সংকট সম্পর্কে সন্দিহান হয়েছিলেন। ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ’ এই ভাষ্যের প্রতি বিশ্বাস কবি আজীবন তার সাহিত্য সাধনায় একনিষ্ঠভাবে পালন করে গেছেন। এতটুকু ছেদ পড়েনি। অথচ সর্বব্যাপ্ত সেই সংকট সম্পর্কে তিনি আমাদের সচেতন করে দিয়েছিলেন, সাবধান করে দিয়েছিলেন। তাহলে কি শেষ জীবনে মানুষের ওপর বিশ্বাস তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন? না হলে তিনি কেন বলবেন— ‘কিন্তু মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’ এখানে এই ‘কিন্তু’ শব্দটি দিয়ে যে বাক্যবন্ধের সূচনা, তা পড়লে মনে সন্দেহ জাগে, বুঝি-বা বিশ্বাসের সেই ভিত্তিটা আর আগের মতো বদ্ধমূল নেই, নড়ে গেছে তার ভিত্তিমূল। হয়তো নয়, আজ এটা স্পষ্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংকট আর বিশ্বনেতৃবৃন্দের নিদারুণ বিশ্বাসঘাতকতা তার শুদ্ধ মনকে বিষিয়ে দিয়েছিল।

জমিদারি দেখভাল করার সূত্রে রবীন্দ্রনাথের আগমন ঘটেছিল বাংলাদেশের শিলাইদহ, সাহাজাদপুর এবং পতিসরে। কলকাতা থেকে খুব সতন্ত্র পল্লীর কোলে এসে রবীন্দ্রনাথের মনে কৌতূহল জেগে উঠেছিল। এর ফলে তিনি অনুভব করেছিলেন গ্রামের আলো নিভে গিয়ে কৃত্রিম আলো জ্বলে উঠেছে শহরে। তিরিশ বছর বয়স পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ হয়ে ছিলেন নাগরিক অর্থে ‘খাঁচার পাখি’। এই বদ্ধ খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি হলেন ‘বনের পাখি’— যখন ১৮৯০ সালের একেবারে শেষ দিকে জমিদারি দেখাশোনার ভার নিয়ে পূর্ববঙ্গের গ্রামদেশে আসেন। তার এই নতুন জীবনে জমিদারির পাশাপাশি আসমানদারিরও সুযোগ মেলে। অভিনব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জনপদ, প্রৃকতি ও মানুষ তাকে এতকাল আচ্ছন্ন বাংলার মুখ দেখার সুযোগ করে দেয়। ফলে একদিকে যেমন জন্ম নেয় বাংলার প্রাকৃত জনগোষ্ঠীর জীবন ছেঁকে আনা কাহিনি— অপরদিকে সন্ধান মেলে সেই অচিন পাখি আর মনের মানুষের। মরমি প্রেরণা ও প্রভাবে তিনি রূপান্তরিত হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রবাউলে। রবীন্দ্রনাথ কোনোকালেই সাম্প্রদায়িক ছিলেন না বরং হিন্দু-মুসলিম চেতনা তার মধ্যে প্রখর ছিল।

রবীন্দ্রনাথের জীবন এবং সাহিত্য ভুবন— দুটোই বিশাল এবং ব্যাপক। কবিতায় যা হয়ে ওঠে ভাবপ্রতিমা, কথাসাহিত্যে সেখানে দরকার দেশকাললব্ধ ব্যক্তি মানুষকে। তারা ভাবের বাহন হতেই পারে, কিন্তু তারও আগে তাদের হতে হয় ব্যক্তিবিশেষ, হতে হবে সামাজিক সত্তা। তার উপন্যাসে ঘটনাবহুল, চরিত্রবহুল, প্রকটপ্রধান প্রতিপত্তি পরিহার করে তিনি ঠাঁই দিয়েছেন ব্যক্তিউদ্ভুত সমস্যা, সামান্য কয়েকটি চরিত্রে মনস্ক্রিয়ার বিস্তৃত বর্ণনা, অনতিপরিসর স্থান ও অবিস্তৃত কাল। রবীন্দ্রনাথ সেসব মানুষের কথাই তার উপন্যাসে বলেছেন, যারা শুধু এদেশেই জন্মাইনি, একালেও জন্মেছে। রবীন্দ্রনাথ হলেন বাংলা ছোটগল্পের ত্রাতা-স্থপতি।

চাষি ফসল ফলায় আবার সে-ফসলই তাকে লালন করে। তেমনিভাবে সংগীত আমাদের বেঁচে থাকার রসদ, তার থেকে প্রয়োজনীয় রস আহরণ করি আমরা। রবীন্দ্রনাথের গান বাঙালি সংস্কৃতির বিস্ময়কর চিন্ময় এক ফসল, আমাদের জীবনে তার গান অনন্য সূক্ষ্মতা ও শ্রেষ্ঠতায় অধিষ্ঠিত। তার গান আমাদের আলো দেয়, আয়ু দেয়, নতুন করে জেগে উঠবার প্রেরণা দেয়। বিষাদ, বিষণ্ন মনকে— জব্দ করা অনুভূতিকে মুহূর্তে চাঙ্গা করে তোলে। তার গান আমাদের দাঁড়াবার জন্য পায়ের তলার মাটি। অবিশ্বাস আর অনিশ্চয়তা, সন্দেহ আর নিঃসঙ্গতা, লোভ আর প্রেমহীনতা, এসব নিয়ে যদি চিহ্নিত করা যায় সেই সময়কে— রবীন্দ্রনাথ সেই সময়ের সব চেয়ে সৎ ও নির্ভেজাল, আপোষহীন ও অসহ্য এক কবিবিবেক— যিনি সাজানো স্বপ্নের বা মোহরে বা মিথ্যার মোড়কে মুড়ে জীবনকে দেখতে বা দেখাতে ভালোবাসতেন না। রবীন্দ্রনাথ একের পর এক লেখনী দিয়ে বাঙালি সমাজের অগ্রগতির অধ্যায়কে সতত সজীব রাখতে চেয়েছেন এবং তা পেরেছেন। বিশেষ করে রবীন্দ্র-উপন্যাস পাঠে মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও জীবনের প্রতি অনুরাগ জন্মাতে শেখায়। ভালোমন্দ মিশ্রিত এই জীবনে মানুষের ইতিবাচক ভূমিকাটি রবীন্দ্রনাথ গভীরভাবে আঁকতে পেরেছেন আমাদের চেতনায়।

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এদেশের মেহনতী মানুষের প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসই আজকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে সহায়ক হয়েছিল সেখানেও আমাদের সঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এতটাই মধুর, মনোলোভা এই গান— ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ যা স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র ভাবতে হয়নি কাউকে। এর প্রতিটি চরণ সত্যিই এতটা টাচি— চোখে জল আনতে, গায়ের লোম উত্থিত করতে সর্বোপরি দেশের প্রতি, মা-মাটির প্রতি সর্বাঙ্গে নত হতে শেখায়। বাংলার সংস্কৃতিতে বিংশ শতাব্দীর প্রধান পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমরা জানি সব্যসাচী এই শিল্পী জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রকলার দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং তার আঁকা সেইসব ছবি ‘আগামী দিনের আর্ট’ বলে সর্বজন স্বীকৃত। চলচ্চিত্র সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব একটি ভাবনা ছিল। সে সময়ে এটি যে একটি নতুন শিল্পমাধ্যম, এর স্বতন্ত্র একটি চরিত্র রয়েছে, এ সম্পর্কেও তার স্পষ্ট ধারণা ছিল। এ কথা ঠিক তিনি প্রধানত কবি, এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। যদিও সাহিত্যের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তার অবদান বিপুল ও গগনস্পর্শী। কিন্তু বড়ো বিস্ময় হলো এই যে রবীন্দ্রনাথের মতো ভাববাদী, রোমান্টিক বাঙালি কবির পক্ষে বিজ্ঞানে উৎসাহী হওয়া, কল্পরাজ্যের সঙ্গে বিজ্ঞানের বস্তুগত ও যৌক্তিক জগৎকে সৃষ্টিশীলতায় সমন্বিত করা কী করে সম্ভব হলো? বস্তুত রবীন্দ্রনাথকে তার কাব্যজগতের বাইরে যখন আমরা প্রত্যক্ষ করি, সেখানে তার অবস্থিতি অধিক দৃশ্যমান, স্পষ্টতর ও বোধগম্য। এখানে তাকে চিনতে পারা সহজতর। আমরা দেখেছি রবীন্দ্রনাথ প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেননি। কিন্তু একটি উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ভিতর দিয়ে বৃহত্তর জ্ঞানের জগতে তার প্রবেশ ঘটে, যা ছিল ব্যাপক, বিচিত্র ও পরিবর্তী। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র জন্য নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর অনেকবার তাকে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে।

একথা ঠিক রবীন্দ্রনাথের সৌভাগ্য হয়েছিল জ্ঞানের বিপুল জগতে অভিযাত্রা— শুধু বই পড়ে নয়, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও ভ্রমণের বিচিত্র সব সুযোগ লাভের ভেতর দিয়ে। উপনিষদের ঋষিরা বলেছিলেন বিচ্ছিন্নতা থেকে উৎপন্ন হয় দুঃখ। সে বিচ্ছিন্নতা অসীম থেকে সীমার বিচ্ছিন্নতা, পরমার্থ থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতা। এই বিচ্ছিন্নতা যে আপনা-আপনি ঘটে তা নয়, তা ঘটানো হয়। রবীন্দ্রনাথ ভারতবর্ষকে যে জায়গায় রেখে গিয়েছিলেন সে জায়গায় আর দেশটি নেই। তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে সেটি। প্রযুক্তির পায়তারা দিনকে দিন যত বাড়ছে পৃথিবীটা ছোট হয়ে আসছে তত। নানা সভ্যতার মানুষের মধ্যে ইন্টারঅ্যাকশন বাড়ছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সভ্যতা সচেতনতা। ফলে বাড়ছে সভ্যতায় সভ্যতায় শত্রুতা। ব্যক্তি ও সমাজের টানাপোড়েনে, রক্তঝরা রাজনৈতিক অস্থিরতায় যখনই আমরা অতলে ডুবে যাই— রবীন্দ্রনাথ আমাদের ঘাই মেরে জাগিয়ে তোলে। বিয়োগ চিহ্নের মতো টানটান হয়ে দাঁড়াতে বলে। দিনের শুরু থেকে রাতে ঘুমোতে যাবার আগ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। ঋতুবৈচিত্র্যের এই দেশে কত-না পাগল করা তার আভা, কত রূপ, কত রেখা, কত রং, কত শব্দ, কত নীরবতা, কত হাওয়া, কত রোদ্দুর। কবিতার কসম খেয়ে কেউ কী বলতে পারবে— হে রবীন্দ্রনাথ তোমাকে চিনি না আমি, পাই না তোমার দেখা? আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে আসো তুমি আমার পাশে, বসো না হয় ক্ষণিকের তরে! প্লে আর রিভার্সের এই খেলায় তোমায় আমি নতুন করে দেখি, চিনি, জানি। সকল সংশয় কেটে যায়, রবীন্দ্রনাথ— তুমি শুধু বিরাট কবি নও, বিরাট একজন মানুষ, টাওয়ারিং পার্সোনালিটি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads