• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৭
যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৯ মে ২০২১

গাজার মূল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতকারদের (সেটলার) অবৈধ দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ গড়িয়েছে নবমদিনে। তবে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী দল হামাস ও ইসরাইলের সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে  যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর : বিবিসি, সিএনএন ও আল জাজিরা

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোন করে গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসরাইল এবং গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহুর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাইডেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মার্ক মাইলে বলেন, সেখানকার অবস্থা দিন দিন যে রূপ নিচ্ছে, তাতে এখনই যুদ্ধবিরতিতে না গেলে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার শঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে সেখানে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত  নিহত হয়েছেন ২১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন শিশু ও ৩৬ জন নারী আছেন। এছাড়া সেখানে আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি।

ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে ইসরাইলি বসতকারীদের অবৈধ দখলদারিত্ব ও স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন গাজা অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার সূত্রপাত ঘটে গত ৯ মে। ওই দিন ছিল ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র শবে কদরের (লায়লাতুল কদর) রাত।  জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে শবে কদরের (লায়লাতুল কদর) নামাজ আদায় শেষে মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন সেখানে উপস্থিত ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। স্বাভাবিকভাবেই তা দমাতে তৎপর হয়ে উঠে ইসরাইলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যকার সংঘাতে আহত হন অন্তত ৯০ জন ফিলিস্তিনি। সংঘাতের পর থেকে আল-আকসা মসজিদ ও এর সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রেখেছিল ইসরাইলি পুলিশ। এর জেরে ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হামাস হুমকি দেয় ইসরাইলের ক্ষমতাসীন সরকারকে। হামাসের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়, ১০ মে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ চত্বর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার না করা হলে তার পরিণতির জন্য ইসরাইল সরকার দায়ী থাকবে।

ইসরাইল এই হুমকিকে আমল না দেওয়ায় ১০ মে সন্ধ্যার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট হামলা শুরু করে হামাস। এর কিছু সময় পর থেকেই গাজায় ফিলিস্তিনি ঘণবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, যা এখনো চলছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৪ সালে গাজায় ইসরাইলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সাত সপ্তাহের যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads