• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৭
শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়দের মৃত্যুঝুঁকি বেশি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়দের মৃত্যুঝুঁকি বেশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০২১

যারা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকেন বেশি, করোনায় তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের বেশিরভাগই আগে থেকে স্থুলতা ও অসংক্রামক রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, শরীরচর্চা একেবারেই করতেন না, এমন রোগীদের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়েছে বেশি।

তাদের মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি। ধূমপান, স্থূলতা ও দুশ্চিন্তাও করোনা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এগুলোর তুলনায় বেশি গুরুতর। এর আগে করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বেশি বয়স, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হূদরোগ আলোচিত ছিল। তবে শুয়ে-বসে থাকার অভ্যাসটি এর মধ্যে ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের একটি যৌথ মিশন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের উপসর্গ ছিল মৃদু। তবে ষাটোর্ধ্ব যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসার ছিল তাদেরই মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। শুধু করোনায় আক্রান্ত এমন লোকজনের ক্ষেত্রে চীনে মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনার পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। হূদরোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্তদের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের ৮ শতাংশ এবং ক্যানসারে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

এদিকে আমাদের দেশে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) কোভিড-১৯ রোগীদের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিসমূহ নিরুপণ শিরোনামে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, যারা ১৪ দিনের মধ্যে মারা গেছেন তাদের মধ্যে করোনা ছাড়া তিন বা তিনের বেশি রোগে আক্রান্ত ছিল শতকরা ৩৩ দশমিক দুই শতাংশ, দুটি রোগ ছিল ২৭ দশমিক আট শতাংশ এবং একটি রোগ ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর।

১৪ দিনের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ বা সিওপিডি ছিল। ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের ছিল ডায়াবেটিস এবং ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল উচ্চরক্তচাপ। ১৭ দশমিক ৪ শতাংশের ছিল হূৎপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ভুগছিলেন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী। ২৮ দিনের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ৪০ শতাংশেরই ছিল শ্বাসতন্ত্রের জটিল সংক্রমণ। ৩৬ শতাংশের ডায়াবেটিস, ৩৬ শতাংশের উচ্চরক্তচাপ, ১৬ শতাংশের হূৎপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ছিল ১৬ শতাংশের।

করোনায় মৃত্যু নিয়ে কাজ করেছে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গতবছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২০২ জনের মৃত্যু নিয়ে তারা বিশ্লেষণ করেছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, কোমরবিডিটি অর্থাৎ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের ভেতরে সবচেয়ে বেশি ছিল উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। ১৩১ জনের উচ্চরক্তচাপ ছিল। ১২৫ জনের ছিল ডায়াবেটিস। এরপর ছিল হূদরোগ ও অ্যাজমা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী এসেছিলেন হাসপাতালে। তারপর জ্বর-কাশি, ডায়েরিয়া নিয়েও এসেছেন রোগীরা। হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ রোগী মারা গেছেন ভর্তি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার ভেতর। তাদের মধ্যে একইসঙ্গে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি-প্রায় ৮৫ জন।

করোনায় মারা যাওয়া কতোজন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন তা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে জানিয়ে অধিদপ্তরের মুখপাত্র এবং অসংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক ও ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, কতোজন রোগী হাইপারটেনশন বা কতোজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, এটা পেলে খুব ভালো হতো। কিন্তু এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে না, হাসপাতালে থাকে। হাসপাতালে যদি কেউ এসব নিয়ে রিসার্চ করে, আমাদের জন্য ভালো হতো। এ ধরনের ক্লিনিক্যাল স্টাডি দেশে খুব বেশি হয়নি। আমি ঢাকা মেডিকেলে থাকতে প্রায় ৪৫০ স্যাম্পল নিয়ে গবেষণা করেছি। কারা হাইপারটেনশন বা কারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ওটা নিয়ে কাজ করেছি। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হবে শিগগিরই। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ বেশি, তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। উন্নত দেশগুলোতেও দেখা গেছে, সেখানে কোমরবিডিটি থাকলে মৃত্যুহারও বেশি। বাংলাদেশে এ নিয়ে আরো ক্লিনিক্যাল ডাটা বা স্টাডি করা দরকার।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads