• রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৭

জাতীয়

টেকসই পরিকল্পনা ছাড়াই জলাশয় সংস্কার প্রকল্প

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০২১

‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পে টেকসই পরিকল্পনা না থাকাসহ ৮ ধরনের দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো-প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে না পারা, প্রকল্পের কার্যক্রম নির্দিষ্ট না করা, খণ্ডকালীন বা অতিরিক্ত দায়িত্বে এবং বার বার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ, বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি এবং তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নেওয়া এবং ক্রয় কার্যক্রমে জটিলতা।

এছাড়া অন্যান্য দুর্বল দিক হলো-ক্রয় কার্যক্রমে বিলম্ব, বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের অনিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সংস্কারের জন্য যথাসময়ে জলাশয় না পাওয়া। সেইসঙ্গে চিহ্নিত করা হয়েছে বিভিন্ন ঝুঁকিও। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণে উঠে এসেছে এ সব তথ্য। তবে সার্বিকভাবে প্রকল্পটির সফলতার চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আইএমইডি’র সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে পতিত জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা। সেইসঙ্গে মাছ চাষের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ সেবা প্রদান এবং উপকরণ সরবরাহ, গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্য চাষি, মৎস্যজীবী, বেকার যুবক, দুস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো। নিবিড় পরিবীক্ষণে এ সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে কিছু দুর্বল দিক ও ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সবল দিকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৪০৯ কোটি টাকা। প্রথম যখন অনুমোদন হয় তখন ব্যয় ছিল ২৫৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দেশের সমউন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন করে ৮টি জেলার ১২০টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে করে প্রকল্প এলাকায় সম্প্রসারণ করায় প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধন করতে হয়। এতে ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ ৪ বছর। সর্বশেষ সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে শুরু থেকে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ২৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ফলে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রকল্পটি ৬১ জেলার (৩ পার্বত্য জেলা ছাড়া) ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তর।

আইএমইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা জলাশয়ে মাছের উৎপাদন গড়ে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ওইসব জলাশয়ে গঠিত সুফলভোগীদের বাৎসরিক আয় আগের তুলানায় গড়ে ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩৪ হাজার ৭৫৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছ খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৭৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

প্রকল্পের আওতায় পুনঃখনন কাজ সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের জরিপে ৯৬ শতাংশ সুফলভোগী এবং প্রায় শতভাগ জেলা/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা মতামত দিয়ে বলেছেন, জলাশয়গুলো কাঙ্ক্ষিত গভীরতায় খনন করা হয়েছে। খনন কাজের মান সন্তোষজনক।

সমীক্ষা দলের সরেজমিন পরিদর্শনেও কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার আগে ৪৪ শতাংশ জলাশয় পতিত ছিল। অবশিষ্ট জলাশয়ের অধিকাংশই মৌসুমি মাছ বা আহরণ করা হতো। আগে এসব জলাশয়ে বাৎসরিক মাছের উৎপাদন শূন্য থেকে ২ মেট্রিক টনে সীমিত ছিল। পুনঃখননেন পর মাছের উৎপাদন ৪ থেকে ৬ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

আইএমইডি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বাইরের ফ্যাক্টর যেগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত অথবা প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে বা ভবিষ্যতে করতে যারে এমন কতগুলো দিক রয়েছে। সেগুলো হলো-মৎস্য চাষি সমিতির আইনগত ভিত্তি না থাকা। এছাড়া প্রকল্পের নির্মাণ কাজে স্থাণীয় প্রভাব ও বিরোধ, মৎস্য বিভাগের অনুকূলে জলাশয় হস্তান্তর না করা, বাজেট বরাদ্দের ঘাটতি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় (বন্যা, পলি ভরাট, সংস্কার করা জলাশয়ের পাড়ে ভাঙন ইত্যাদি)।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads