• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮
দিয়াবাড়িতে অবৈধ ঘাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

দিয়াবাড়িতে অবৈধ ঘাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৯ জুলাই ২০২১

রাজধানীর মিরপুরের তুরাগ নদীর পাশে দিয়াবাড়িতে অবৈধভাবে ঘাট স্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গত সোমবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ‘বাংলাদেশের খবর’। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ অবৈধ ঘাট বন্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানায়, দিয়াবাড়িতে অবৈধভাবে কেউ ঘাট বসালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। সরকারি নিয়ম যে ভঙ্গ করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর তদন্তদলের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএ-র যুগ্ম-পরিচালক গোলজার রহমান বলেন, এখানে একটি ঘাট থাকার নিয়ম রয়েছে। কেউ যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অবৈধভাবে ঘাট বসায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

গত সোমবার দৈনিক বাংলাদেশের খবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরাগের পাড়ে দিয়াবাড়িতে অবৈধভাবে ৫টি ঘাট ও একটি ল্যান্ড স্টেশন করেছে স্থানীয় জাহির হাজী ও তার বাহিনী। এছাড়াও সরকারি ভেকু ও আরেকটি প্রাইভেট ভেকু দিয়ে প্রতিদিন মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দু-পাশ দখল করে দোকান ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। দোকান বসানোর ক্ষেত্রে এককালীন লাখের ওপর টাকা নেওয়া হয়েছে দোকানিদের কাছ থেকে। এছাড়াও প্রতি মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়াও হয়। সবমিলিয়ে প্রতিমাসে এখান থেকে ৩/৪ কোটি চাঁদাবাজি হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে জহির হাজী তার ছত্রচ্ছায়ায় চলার চেষ্টা করে। তার আপন ভাই ওয়াজ উদ্দীন মিরপুর থানা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। পাশাপাশি শাহআলী থানার চাঞ্চল্যকর সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। বালু ব্যবসায়ী সেন্টুর গাড়ি চুরির মামলার আসামি। জানা যায়, বালু উত্তোলন করে ব্লকে রাখার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ২০১৮ সালে ঘাটের মেয়াদ শেষ হলেও বর্তমান সময় পর্যন্ত চাঁদা আদায় অব্যাহত রয়েছে। জহির হাজির প্রধান সহযোগী নাসির, উথান ও বাতেন হলো প্রধান সহযোগী। ঘাট নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সাভারের ‘গাংচিল বাহিনী’ নিয়ে এসে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে থাকে। উথান এ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

প্রসঙ্গত, আমিনবাজার ও তার আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে উত্থান হয় গাংচিল বাহিনীর। যার প্রধান ছিল আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার। বেশিরভাগ সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় এর নাম দেওয়া হয় গাংচিল বাহিনী। ২০১৭ সালে আনারের মৃত্যুর পর তার সহযোগী সালাউদ্দিন ওরফে এমপি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে আবারো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এ বাহিনী মূলত আমিনবাজার, গাবতলী, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া, বেড়িবাঁধ, কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads